অভিবাসনে জালিয়াতির দায়ভার দালাল ও রিক্রুটিং এজেন্সি উভয়েরই

বিদেশের বাজারে চাহিদা কমে গেলে আমাদের দেশের শ্রমবাজারের ওপর প্রভাব পড়বে; এটা ঠিক। তবে কোনো একটি দেশ অর্থনৈতিক সংকটে পড়লে হয়তো সে দেশে শ্রম অভিবাসন বন্ধ অথবা কমে যাবে। অভিজ্ঞতা থেকে দেখা যায় যে, এ সময় আরেকটি দেশের শ্রমবাজার খুলে যায়। কভিড অতিমারী বা বৈশ্বিক অর্থনৈতিক সংকটের মতো ঘটনা না ঘটলে সব দেশেই একই সঙ্গে শ্রমবাজার বন্ধ হয়ে যাওয়ার

ড. তাসনিম সিদ্দিকী, চেয়ারপারসন, রিফিউজি অ্যান্ড মাইগ্রেটরি মুভমেন্ট রিসার্চ ইউনিট (রামরু)। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ও চেয়ারপারসন। তিনি প্লাটফর্ম অব ডিজাস্টার ডিসপ্লেসমেন্ট এবং বৈশ্বিক অভ্যন্তরীণ বাস্তুচ্যুত ব্যক্তিদের বিষয়ে ডাটা প্রদানকারী সংস্থা ইন্টার্নাল ডিসপ্লেসমেন্ট মনিটরিং সেন্টারের অ্যাডভাইজরি বোর্ডের সদস্য এবং দুর্যোগ ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের অধীন অভ্যন্তরীণ বাস্তুচ্যুতি সংক্রান্ত জাতীয় অ্যাকশন প্ল্যান তৈরি কমিটির সদস্য সচিবের দায়িত্ব পালন করেছেন। সম্প্রতি বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে শ্রম অভিবাসনের নানা দিক নিয়ে বণিক বার্তার সঙ্গে কথা বলেছেন। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি আনিসুর রহমান

বাংলাদেশ থেকে শ্রমশক্তির অভিবাসনের মাধ্যমে বিদেশে চাকরির সংস্থান হচ্ছে। বিদেশে শ্রমিকের চাহিদা সেসব দেশের অর্থনীতির ওপর নির্ভর করে। কোনো কারণে যদি তাদের অর্থনীতি নিম্নমুখী হয়, সেক্ষেত্রে শ্রমিকের চাহিদাও কমে আসবে। এমন পরিস্থিতিতে বাংলাদেশের করণীয় কী হতে পারে? 

বিদেশের বাজারে চাহিদা কমে গেলে আমাদের দেশের শ্রমবাজারের ওপর প্রভাব পড়বে; এটা ঠিক। তবে কোনো একটি দেশ অর্থনৈতিক সংকটে পড়লে হয়তো সে দেশে শ্রম অভিবাসন বন্ধ অথবা কমে যাবে। অভিজ্ঞতা থেকে দেখা যায় যে, এ সময় আরেকটি দেশের শ্রমবাজার খুলে যায়। কভিড অতিমারী বা বৈশ্বিক অর্থনৈতিক সংকটের মতো ঘটনা না ঘটলে সব দেশেই একই সঙ্গে শ্রমবাজার বন্ধ হয়ে যাওয়ার মতো সংকটে বাংলাদেশ কখনো পড়েনি। অনেকে মনে করছেন, চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের কারণে অভিবাসন বাজারে মন্দা সৃষ্টি হতে পারে। অর্থাৎ অনুন্নত দেশে মানুষের কাজের সুযোগও বন্ধ হয়ে যেতে পারে। কিন্তু আমি মনে করি, সেই সব দেশেই আবার ভিন্ন ধরনের কাজের সুযোগ তৈরি হবে। উদাহরণস্বরূপ, আশির দশকে মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোয় যখন নির্মাণকাজের সুযোগ কমে আসে, তখন সার্ভিস সেক্টরে কাজের সুযোগ তৈরি হলো। ফলে অভিবাসনপ্রত্যাশীদের গমন অব্যাহত থাকল। সুতরাং অদক্ষ শ্রমশক্তির চাহিদা আরো দীর্ঘদিন থেকে যাবে বলে আমার বিশ্বাস।

তবে আমরা যে যুগ যুগ ধরে অদক্ষ শ্রমবাজারেই মানবসম্পদ সরবরাহ করব; সেটাও কিন্তু ঠিক নয়। কারণ অদক্ষ শ্রমিক তাদের অধিকার তেমনভাবে পায় না। হয়রানির শিকার হয়। তাই বাংলাদেশকে বাইরের দেশগুলোর বাজারের চাহিদা নিরূপণ করে দক্ষ জনগোষ্ঠী গড়ে তুলতে হবে। প্রফেশনাল শ্রমিকদের সব সময় চাহিদা থাকে। এ মুহূর্তে বাংলাদেশের করণীয় হচ্ছে, প্রচলিত শিক্ষা ব্যবস্থাকে ঢেলে সাজানোর মাধ্যমে বিশ্ববাজারের চাহিদাসম্পন্ন লোকবল তৈরি করা। 

বাংলাদেশী শ্রমিকরা অনেক ক্ষেত্রে নানা ধরনের স্বাস্থ্য সমস্যা, শারীরিক ও মানসিক নিপীড়নের শিকার হন বলে জানা গেছে। যদিও এ বিষয়ে আমাদের কাছে সঠিক কোনো পরিসংখ্যান নেই, তবুও এমন পরিস্থিতি কীভাবে মোকাবেলা করা যায়?

বাংলাদেশের শ্রমিকরা মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোয় ব্যাপক হারে পাড়ি জমাচ্ছে। কিন্তু সেখানে মানবাধিকারের কোনো বালাই নেই। পূর্বে সব মধ্যপ্রাচ্যের দেশে বিনামূল্যে স্বাস্থ্যসেবা দেয়া হতো; এখন আইন করে সে সুযোগ বন্ধ করেছে সেসব দেশের সরকার। সরকারের যুক্তি, অভিবাসীর স্বাস্থ্যসেবার খরচ বহন করবে মালিক পক্ষ। সরকারের এ শর্ত মালিক পক্ষ পরে শ্রমিকের সঙ্গে পাল্টা চুক্তি করে সে সুবিধা বাতিল করে দিয়ে থাকে। এ অবস্থায় স্বাস্থ্যসেবা পাওয়া অভিবাসী শ্রমিকদের জন্য ব্যয়বহুল ব্যাপার হয়ে দাঁড়িয়েছে। বড় ধরনের চিকিৎসাসেবা তো দূরের কথা, ওইসব দেশের অর্থনৈতিক বাস্তবতায় অনেক শ্রমিকই ছোটখাটো সমস্যায়ও ডাক্তার দেখানোর সামর্থ্য রাখেন না। 

১৮-৩০ বছর বয়সী অভিবাসীদের খুব বেশি অসুস্থ হওয়ার কথা নয়। তবুও কাজের ধরন, মাত্রাতিরিক্ত পরিশ্রম, আবহাওয়া, মানসিক দুশ্চিন্তা, সাংস্কৃতিক প্রভাবসহ বিভিন্ন কারণে তাদের মাঝে শারীরিক ও মানসিক অস্থিরতা তৈরি হয়। আবার সংশ্লিষ্ট দেশের বিষয়ে আগে থেকে পর্যাপ্ত ধারণা পায় না বলে তারা সচেতনও হতে পারে না। যদিও এজন্য সরকার নারী-পুরুষ সবার জন্য প্রি-ডিপারচার প্রশিক্ষণ দিচ্ছে, তবুও প্রতিটি ট্রেনিং সেশনে অধিক প্রশিক্ষাণার্থী অংশগ্রহণের কারণে ভালোভাবে প্রশিক্ষণ প্রদান করা সম্ভব হয় না। একই সঙ্গে প্রায় ৫০০ জনকে প্রশিক্ষণ দেয়া হলে প্রশিক্ষণার্থীরা সব তথ্য আত্মস্থ করতে পারেন না। প্রি-ডিপারচার প্রশিক্ষণ শুধু টেকনিক্যাল ট্রেনিং সেন্টারের আওতায় সীমাবদ্ধ না রেখে এনজিওসহ পাবলিক-প্রাইভেট প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে পার্টনারশিপ তৈরি করে সারা দেশে ছড়িয়ে দেয়া প্রয়োজন। 

সড়ক দুর্ঘটনায় অনেক বাংলাদেশী অভিবাসী শ্রমিক মারা যাচ্ছেন। কারণ ওই দেশগুলোয় আমাদের দেশের বিপরীত দিকে গাড়ি চলে। বিষয়টি প্রশিক্ষণের আওতায় আরো বড় করে আনা উচিত। সব অভিবাসী প্রেরণকারী দেশগুলোকে একত্র হয়ে শ্রমিকদের অধিকার ও নিরাপত্তা নিশ্চিতে গ্রহণকারী দেশগুলোকে দায়বদ্ধ করতে হবে। 

মধ্যস্বত্বভোগী ও রিক্রুটিং এজেন্টদের কাছে প্রবাসে যেতে ইচ্ছুক মানুষ ও প্রবাসীরা প্রতিনিয়ত ঠকছে। তবুও সরকারিভাবে বিদেশে না গিয়ে কেন তারা এ মাধ্যমগুলো ব্যবহার করছে? 

জনমনে একটি ধারণা তৈরি হয়ে আছে—দালালরাই অভিবাসন ব্যবস্থাপনার সব অন্যায়ের জন্য দায়ী। সরকার নিয়ম করে দিয়েছে—যেকোনো বিদেশগামী ব্যক্তিকে আবেদন করতে হবে রিক্রুটিং এজেন্সির মাধ্যমে। কিন্তু ঢাকা ও চট্টগ্রামের বাইরে এজেন্সির কোনো অফিস নেই। তাই মাঠ পর্যায়ে লোকবল সংগ্রহ করা, অর্থ গ্রহণসহ সব কাজ হয় দালালদের মাধ্যমে। অর্থাৎ বস্তবতা হলো মধ্যস্বত্বভোগী বা দালাল ছাড়া বিদেশে যাওয়ার আর কোনো পথ নেই। তারা আসলে সার্ভিস প্রোভাইডার। মূলত তারা আনরেগুলেটেড বিধায় বিভিন্ন রকমের অন্যায় করে কিংবা অনেক সময় কিছু রিক্রুটিং এজেন্সি অন্যায় করে তা দালালের ওপর চাপিয়ে দেয়। মোদ্দা কথা, অভিবাসনে জালিয়াতির দায়ভার দালাল ও রিক্রুটিং এজেন্সি উভয়েরই। এ সমস্যা সমাধানে আমরা অভিবাসন নিয়ে কাজ করা ২০টি সংগঠনের মোর্চা বাংলাদেশ সিভিল সোসাইটি ফর মাইগ্রেন্টসের (বিসিএসএম) অধীনে দালালদের তালিকাভুক্তীকরণ ও বৈধতা দানের সুপারিশ করেছিলাম। যাতে এজেন্সি ও দালাল কোনো পক্ষই দায় এড়াতে না পারেন। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তা গ্রহণও করেছিলেন এবং মন্ত্রণালয় সেই অনুসারে আইনের পরিবর্তন ও সংশোধন বাস্তবায়নও শুরু করেছিল। কিন্তু রিক্রুটিং এজেন্সিগুলো এ বিষয়ে চরম অনাগ্রহ প্রকাশ করছে। আশা করছি, মন্ত্রণালয় বিষয়টি তলিয়ে দেখবেন এবং বুঝতে পারবেন কেন আমরা দালালদের নিবন্ধনের কথা বলছি।

তবে আমাদের দেশের মানুষ শিক্ষিত হলে দালাল বা রিক্রুটিং এজেন্সি কোনোটিই প্রয়োজন হবে না। তারা অনলাইনেই সরাসরি চাকরিদাতার ওয়েবসাইটের মাধ্যমে আবেদন করতে পারবেন। অন্যদিকে দীর্ঘদিন ধরে ব্যবসা করলেও অধিকাংশ রিক্রুটিং এজেন্সি তাদের সেবাগুলোকে আধুনিকায়ন করছে না। সুতরাং দোষটা দালালেরও নয়, অভিবাসনপ্রত্যাশীদেরও নয়। তবে ভোকেশনাল শিক্ষার প্রসার ঘটলে অর্থাৎ শিক্ষা ও প্রশিক্ষণের মাধ্যমে অভিবাসনপ্রত্যাশীদের দক্ষ করে গড়ে তুলতে পারলে তারা নিজেরাই এজেন্সিতে আবেদন করতে পারবেন। কেননা দক্ষ অভিবাসীরা সরাসরি কাঙ্ক্ষিত দেশের চাকরিদাতা বরাবর অনলাইনে আবেদন করতে পারবেন। 

বাংলাদেশীদের বিদেশে কর্মসংস্থান হচ্ছে কম দক্ষ ও কিছুটা দক্ষতা প্রয়োজন এমন পেশায়। কিন্তু ক্রমেই প্রযুক্তির উন্নয়নে এ ধরনের পেশায় শ্রমিক চাহিদা কমছে। দক্ষতাসম্পন্ন শ্রমশক্তি তৈরি করতে না পারলে আমাদের অভিবাসন কর্মসংস্থানে ভাটা পড়ার সম্ভাবনা কতটা এবং আমরা এক্ষেত্রে কী করতে পারি?

এক্ষেত্রে বিদ্যমান শিক্ষা ব্যবস্থার বিপরীতে ভোকেশনাল ট্রেনিং এবং স্কিলস ডেভেলপন্টের কথা এরই মধ্যে বলেছি। তাছাড়া কিছু আনস্কিলড প্রফেশনের জন্য সব সময়ই লোকবল লাগবে। যেমন মাল টানা, অ্যাসেম্বলিং, পরিচ্ছন্নতার কাজে যান্ত্রিকীকরণ আসতে আরো দেরি হবে। সুতরাং নিকট অতীতে ভাটা পড়ার সম্ভাবনা একটু কম। আবার ভবিষ্যতে পড়লেও ততদিনে অনেক নতুন কাজ তৈরি হয়ে যাবে। তার পরও আমরা অদক্ষ শ্রমিকদের ওপর ভরসা করে পড়ে থাকব না। আমাদের নিজেদের প্রয়োজনে এবং শ্রমিকদের মর্যাদা নিশ্চিতে দক্ষতা বাড়ানোর চেষ্টা করে যেতে হবে। আমাদের নিজের প্রয়োজনেই শ্রমিকদের আধুনিক প্রযুক্তির জ্ঞান প্রদান করতে হবে, তাদের দক্ষতা বাড়াতে এবং শ্রমিক শোষণ কমিয়ে আয় বাড়াতে হবে। 

ভূমধ্যসাগর পাড়ি দিয়ে ইউরোপে পৌঁছানো মানুষের সংখ্যার তালিকায় শীর্ষে রয়েছে বাংলাদেশ। ‘আন্তর্জাতিক অভিবাসন প্রতিবেদন-২০২৪’ অনুযায়ী, চলতি বছরের প্রথম চার মাসে এ পথ দিয়ে ঝুঁকি নিয়ে যত মানুষ ইউরোপে ঢুকেছে, তার মধ্যে ২১ শতাংশ বাংলাদেশী এবং এ পথে ২০১৪ সাল থেকে এ পর্যন্ত বাংলাদেশী মারা গেছেন ২৮৩ জন। এমন ঘটনা আরো আছে। এ পরিস্থিতি প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের ভূমিকাকে কীভাবে মূল্যায়ন করবেন আপনি?

ভূমধ্যসাগর পাড়ি দিয়ে ইউরোপে ঢোকার বিষয়টি হলো অনিয়মিত অভিবাসন। এ ধরনের অভিবাসন প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় কোনোভাবেই নিয়ন্ত্রণ করে না। এখানে এ মন্ত্রণালয়ের কোনো ভূমিকাই নেই। এটা কমবেশি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে পড়েছে। কারণ সংশ্লিষ্ট দেশে কাজের সুযোগ আছে বলেই মানুষ জীবনের ঝুঁকি নিয়ে যাচ্ছে। কিন্তু ওইসব দেশের অভিবাসন নীতি নেয়ার বিপক্ষে। অন্যদিকে দক্ষতাসম্পন্ন লোকজনকে বিভিন্ন প্রণোদনা দিয়ে তাদের দেশে অভিবাসনের জন্য আকৃষ্ট করে থাকে। অথচ অদক্ষ শ্রমিক তাদের প্রয়োজন। কিছু অদক্ষ শ্রমিক নেয়, যা অভিবাসীদের জন্য ‘‌খাজনার চেয়ে বাজনা বেশি’ হয়। অদক্ষ শ্রমিকদের ‘‌এগ্রিকালচার ভিসা’সহ আরো বিভিন্ন রকম—এক বছর মেয়াদি ভিসা প্রদান শুরু করেছেন, কিন্তু আমাদের দেশের নাগরিকরা এক বছরে তেমন লাভ তুলে আনতে পারেন না বিধায় অবৈধ হয়ে যান। ফলে দীর্ঘদিন সেসব দেশে অবস্থান করার জন্য এবং নিজের পরিবারকে ভালো রাখতে অনিয়মিত অভিবাসীরা ঝুঁকি নিয়ে হলেও যাচ্ছেন। আমি মনে করি, অভিবাসন একটা আকাঙ্ক্ষা, স্বপ্ন পূরণের হাতছানি, একটু উন্নত জীবনযাপনের অভিলাস। এ লোকগুলোর স্বপ্ন পূরণে আমার সরকারের উচিত, অনবরত ইউরোপ-আমেরিকার গন্তব্য দেশগুলোর সঙ্গে নেগোশিয়েশন করা। শ্রমবাজার খুলে দিতে ওইসব দেশকে বোঝানোর চেষ্টা করা। তা না হলে এ লাশের মিছিল চলতেই থাকবে। 

মোদ্দা কথা, এ সমস্যা সমাধানে অভিবাসনপ্রত্যাশীদের মাঝে সচেতনতা বাড়ানো, সংশ্লিষ্ট দেশগুলোকে শ্রমবাজার খুলে দেয়ার আহ্বান জানানো এবং আমাদের জনগোষ্ঠীর দক্ষতা বাড়ানো আন্তর্জাতিক ফোরামগুলোয় নেগোসিয়েশন চালিয়ে যেতে হবে। এজন্য শুধু প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় নয়; স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে একসঙ্গে কাজ করতে হবে। যেমন প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের কাজ এখান থেকে লোক পাঠানো এবং মার্কেট খোঁজা। অন্যদিকে প্রতি বছর অনুষ্ঠিত গ্লোবাল ফোরাম অন মাইগ্রেশন অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট কনফারেন্সে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এসব বিষয় নিয়ে আলোচনা তুলতে পারে এবং সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর সঙ্গে ইকোনমিক ডিপ্লোমেসি নিয়ে নেগোসিয়েশন করতে পারে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় দেশের ভেতরের পাচারকারী চক্রের মূলোৎপাটন করতে পারে। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়কে সমন্বয় করে কাজ করতে হবে।

আরও