ঘূর্ণিঝড়ে সামিটের ভাসমান টার্মিনাল ক্ষতিগ্রস্ত

অর্ধেকে নেমেছে এলএনজি সরবরাহ

কক্সবাজারের মহেশখালীতে নির্মিত সামিটের ভাসমান এলএনজি টার্মিনালের দুটি ফ্লোটিং স্টোরেজ অ্যান্ড রিগ্যাসিফিকেশন ইউনিটের (এফএসআরইউ) একটি ঘূর্ণিঝড় রেমালের আঘাতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ফলে অর্ধেকে নেমেছে এলএনজি সরবরাহ, যার প্রভাব পড়েছে চট্টগ্রামসহ জাতীয় গ্রিডে। গ্যাস সংকট তৈরি হয়েছে বিভিন্ন এলাকায়। সামিটের পক্ষ থেকে গতকাল একটি বিবৃতি দেয়া হয়েছে। তাতে বলা

কক্সবাজারের মহেশখালীতে নির্মিত সামিটের ভাসমান এলএনজি টার্মিনালের দুটি ফ্লোটিং স্টোরেজ অ্যান্ড রিগ্যাসিফিকেশন ইউনিটের (এফএসআরইউ) একটি ঘূর্ণিঝড় রেমালের আঘাতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ফলে অর্ধেকে নেমেছে এলএনজি সরবরাহ, যার প্রভাব পড়েছে চট্টগ্রামসহ জাতীয় গ্রিডে। গ্যাস সংকট তৈরি হয়েছে বিভিন্ন এলাকায়। সামিটের পক্ষ থেকে গতকাল একটি বিবৃতি দেয়া হয়েছে। তাতে বলা হয়েছে, ঘূর্ণিঝড় রেমালের সময় একটি ভাসমান পন্টুন এসে কক্সবাজারের মহেশখালীতে সামিটের এলএনজি টার্মিনালের এফএসআরইউতে আঘাত করে। এতে একটি এফএসআরইউর ব্যালাস্ট ট্যাংক ক্ষতিগ্রস্ত হয়। স্ট্যান্ডার্ড অপারেশনাল প্রটোকল অনুযায়ী, একজন বিশেষজ্ঞ সার্ভেয়ার ক্ষতি নিরূপণ করবেন। তার প্রতিবেদন পাওয়ার পর সামিটের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে বিস্তারিত জানানো হবে। এ বিষয়ে রূপান্তরিত প্রাকৃতিক গ্যাস কোম্পানি লিমিটেড (আরপিজিসিএল) ও পেট্রোবাংলার সঙ্গে সামিট সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রাখছে বলেও বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়েছে।

সামিট বিবৃতিতে আরো জানায়, এলএনজি বিস্ফোরক প্রকৃতির পদার্থ হওয়ায় টার্মিনালটি অত্যন্ত সংবেদনশীল। তাই জাতীয় গ্রিডে গ্যাস সরবরাহের ক্ষেত্রে এফএসআরইউর গুরুত্ব বিবেচনায় এবং টার্মিনালের পূর্ণাঙ্গ কার্যক্রম চালুর আগে সমস্যা সমাধানের জন্য সামিট পূর্ণাঙ্গ প্রস্তুতি নিচ্ছে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে সামিট করপোরেশনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ফয়সাল খান বণিক বার্তাকে বলেন, ‘ঘূর্ণিঝড় রেমালের প্রভাবে একটি ভাসমান ভাঙা পন্টুন এফএসআরইউতে আঘাত করে। এতে টার্মিনালের ব্যালাস্ট ট্যাঙ্ক ফেটে যায়। সংস্কারের জন্য এরই মধ্যে সেখানে বিশেষজ্ঞ দল পৌঁছে গেছে।’ 

রেমাল আঘাত হানার আগে দেশের জাতীয় গ্রিডে এলএনজি সরবরাহ ছিল দৈনিক প্রায় ১ হাজার ১০০ মিলিয়ন ঘনফুট (এমএমসিএফ)। ঘূর্ণিঝড়ের কারণে এলএনজি টার্মিনালটি থেকে ৭০০ এমএমসিএফে নামিয়ে আনা হয় গ্যাস সরবরাহ, যা ঝড়ের দিন জানায় পেট্রোবাংলা। তবে গতকাল গ্যাস সরবরাহ ছিল ২ হাজার ৭৩০ এমএমসিএফ। এর মধ্যে ৭৬৯ এমএমসিএফ এলএনজি। 

জানতে চাইলে পেট্রোবাংলার পরিচালক (অপারেশন অ্যান্ড মাইনস) প্রকৌশলী মো. কামরুজ্জামান খান বণিক বার্তাকে বলেন, ‘ঘূর্ণিঝড় রেমালের কারণে সামিটের টার্মিনালের একটি এফএসআরইউ দিয়ে গ্যাস সরবরাহ সাময়িক বন্ধ রাখা হয়েছে। বাকিটি দিয়ে বর্তমানে দৈনিক ৫০০-৬০০ এমএমসিএফ গ্যাস সরবরাহ হচ্ছে। টার্মিনাল সংস্কারে বিদেশ থেকে কারিগরি টিম এসেছে। সংস্কার শেষে দ্রুতই অপারেশনে নিয়ে আসা হবে।’

দেশে এলএনজি সরবরাহের জন্য দুটি ভাসমান টার্মিনাল রয়েছে। এগুলোর দৈনিক গ্যাস সরবরাহের সক্ষমতা ১ হাজার ১০০ এমএমসিএফ। টার্মিনাল দুটির একটি পরিচালনা করছে স্থানীয় জ্বালানি খাতের কোম্পানি সামিট গ্রুপ, অন্যটি মার্কিন কোম্পানি এক্সিলারেট এনার্জি। এর মধ্যে সামিটের এলএনজি টার্মিনালের সক্ষমতা দৈনিক ৬০০ এমএমসিএফ আর এক্সিলারেটের ৫০০ এমএমসিএফ।

গত বছরের ১২ মে দক্ষিণ উপকূলীয় অঞ্চল দিয়ে বয়ে যাওয়া অতিপ্রবল ঘূর্ণিঝড় মোখার কারণেও দুটি টার্মিনাল থেকে গ্যাস সরবরাহ বন্ধ রাখা হয়েছিল। এতে চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন বিদ্যুৎ কেন্দ্রে তীব্র গ্যাস সংকট দেখা দেয়। এছাড়া এক্সিলারেট এনার্জির টার্মিনালটি রক্ষণাবেক্ষণের জন্য গত বছরের ১ নভেম্বর গভীর সমুদ্রে সরিয়ে নেয়া হয়। তাতেও জাতীয় গ্রিডে এলএনজি সরবরাহ কমে যায়।

আরও