বাংলাদেশের আদালতগুলোয় বর্তমানে ৪২ লাখ মামলা বিচারাধীন। বিচারকপ্রতি মামলার সংখ্যা প্রায় ১ হাজার ৮৮৩। এতে আদালতে সালিশ বা আপসযোগ্য বিরোধ নিষ্পত্তিতে দীর্ঘ সময়ের প্রয়োজন হওয়ায় বিচারপ্রার্থীদের আর্থিক ক্ষতি, হয়রানি ও বিভিন্ন সমস্যার সম্মুখীন হতে হয় দাবি করে পৌরসভার নাগরিকদের সমস্যা সহজে সমাধানের লক্ষ্যে বিরোধ মীমাংসা (পৌর এলাকা) বোর্ড আইন-২০০৪ সংস্কারের দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। আইনের আওতায় বিচারিক ক্ষমতা ২৫ হাজার থেকে ১০ লাখ টাকায় সীমাবদ্ধ করাসহ বিভিন্ন দাবি জানিয়েছেন তারা।
গতকাল রাজধানীর ব্র্যাক ইন সেন্টারে ‘বিরোধ মীমাংসা (পৌর এলাকা) বোর্ড আইন, ২০০৪ সংস্কারের প্রয়োজনীয়তা’ শীর্ষক এক আলোচনা সভায় এসব দাবি জানানো হয়। মাদারীপুর লিগ্যাল এইড অ্যাসোসিয়েশন ও বাংলাদেশ পৌরসভা সমিতির যৌথ উদ্যোগে অনুষ্ঠিত এ সভা আয়োজনে সহায়তা করে এসডিজি বাস্তবায়নে নাগরিক প্লাটফর্ম, বাংলাদেশ ও এশিয়া ফাউন্ডেশন।
আলোচনা সভায় স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মো. তাজুল ইসলাম বলেন, ‘বহুমুখী ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে উন্নয়নকাজ করা হচ্ছে। কোনো আইন স্মার্টলি করলে তিন মাস সময় লাগে। আলোচনা পর্যালোচনা করে একটা সারসংক্ষেপ তুলে ধরলে বিরোধ মীমাংসা (পৌর এলাকা) বোর্ড আইন সংশোধন নিয়ে কাজ করা সহজ হবে। আমরা চাই জনবান্ধব আইনের মাধ্যমে মানুষের আইনি সেবা পাওয়া সহজ হোক।’
সেমিনার সঞ্চালনা করেন এসডিজি বাস্তবায়ন নাগরিক প্লাটফর্মের আহ্বায়ক ও সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) সম্মাননীয় ফেলো ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য। তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশের স্বাধীনতার অন্যতম চেতনা হলো নাগরিকদের আইনের শাসন পাওয়া ও বিচার পাওয়ার অধিকার। এটা শুধু সুপ্রিম কোর্টের পর্যায় থেকে নয়, তৃণমূল পর্যায়ে নিয়ে যাওয়া ও প্রত্যেকটা মানুষের জীবনকে সহজ করার ক্ষেত্রে এটা (আইন সংস্কার) অবদান রাখবে। এটাকে (বিচার পাওয়ার অধিকার) আমরা ’৭১-এর চেতনার সঙ্গে মিলিয়ে দেখছি।’
আলোচনা সভায় বক্তারা বলেন, বর্তমানে দেশে মোট ৩২৯টি পৌরসভায় প্রায় পাঁচ কোটি জনগণ বসবাস করে। ২০১৮ সালে জাস্টিস অডিটের সমীক্ষা অনুযায়ী, দেশের মাত্র ৯ শতাংশ লোক আদালতের মাধ্যমে, ৪ শতাংশ লোক পুলিশের মাধ্যমে এবং ৮৭ শতাংশ লোক স্থানীয় পর্যায়ে নির্বাচিত প্রতিনিধি এবং গণ্যমান্য ব্যক্তির সহায়তায় বিরোধ নিষ্পত্তিতে আগ্রহী। তবে বিরোধ মীমাংসা আইনের আর্থিক এখতিয়ারসহ বিভিন্ন সীমাবদ্ধতা থাকায় পৌরবাসী এ সুযোগ থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। সেজন্য দ্রুত আইনটির সংস্কার জরুরি।
সভায় আরো উপস্থিত ছিলেন মাদারীপুর লিগ্যাল এইড অ্যাসোসিয়েশনের প্রধান সমন্বয়ক খান মোহাম্মদ শহীদ, দ্য এশিয়ান ফাউন্ডেশনের কান্ট্রি রিপ্রেজেন্টেটিভ কাজী ফয়সাল বিন সিরাজ, বাংলাদেশ পৌরসভা সমিতির সাধারণ সম্পাদক ও মাদারীপুর পৌরমেয়র খালিদ হোসেন ইয়াদ, পঞ্চগড় পৌরসভা মেয়র জাকিয়া খাতুন, লাকসাম পৌরসভার মেয়র মো. আবুল খায়েরসহ বিভিন্ন পৌরসভা থেকে আসা জনপ্রতিনিধি ও আইনজীবীরা।