তাপপ্রবাহের কারণে প্রায় এক সপ্তাহ বন্ধের পর আগামীকাল মাধ্যমিক এবং রোববার প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পাঠদান শুরু হতে যাচ্ছে। এর আগে রমজান, ঈদুল ফিতর ও নববর্ষের ছুটি শেষে গত ২১ এপ্রিল স্কুল-কলেজ খোলার কথা ছিল। তবে দেশজুড়ে তাপপ্রবাহের কারণে ছুটি এক সপ্তাহ বাড়ানো হয়। পরবর্তী সময়ে গত রোববার স্কুল-কলেজ চালু হলেও তাপপ্রবাহের কারণে হিট স্ট্রেসে দুই শিক্ষকের মৃত্যু হয়। এছাড়া দেশের বিভিন্ন স্থানে বেশ কয়েকজন শিক্ষক-শিক্ষার্থী অসুস্থ হয়ে পড়েন।
গরমে অসুস্থ হয়ে শিক্ষকসহ কয়েকজনের মৃত্যুর ঘটনা নিয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদন নজরে আনা হলে ২৯ এপ্রিল সব প্রাথমিক ও মাধ্যমিক বিদ্যালয় ২ মে পর্যন্ত বন্ধ রাখার নির্দেশ দেন হাইকোর্ট। বিচারপতি কেএম কামরুল কাদের ও বিচারপতি খিজির হায়াতের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ স্বতঃপ্রণোদিত রুলসহ আদেশ দেন। একই দিন তাপপ্রবাহের কারণে দেশের সব সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, শিশু কল্যাণ ট্রাস্টের বিদ্যালয় ও উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা ব্যুরোর লার্নিং সেন্টার ২ মে পর্যন্ত বন্ধ রাখার নির্দেশ দেয় প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়।
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে সোমবার ঢাকাসহ পাঁচ জেলায় এবং মঙ্গলবার ঢাকাসহ ২৭ জেলায় সব মাধ্যমিক স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখার নির্দেশনা দেয়া হয়। পরবর্তী সময়ে বৃহস্পতিবারও হাইকোর্টের নির্দেশ অনুযায়ী বিদ্যালয়গুলো বন্ধ ছিল।
এদিকে, তাপপ্রবাহে অনলাইন শিক্ষা ব্যবস্থা চালু এবং শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ চেয়ে লিগ্যাল নোটিস পাঠিয়েছেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী খন্দকার হাসান শাহরিয়ার। গতকাল রেজিস্ট্রি ডাকযোগে শিক্ষামন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী, মন্ত্রিপরিষদ সচিব মো. মাহবুব হোসেন, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব, মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের সচিব এবং কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগের সচিব বরাবর এ নোটিস পাঠানো হয়েছে।
এছাড়া নোটিসে সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সিলেবাস কমিয়ে মে থেকে জুলাই পর্যন্ত অনলাইনে শিক্ষা কার্যক্রম চালুর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের কথা বলা হয়েছে। যদি একান্তই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলতে হয় তাহলে মে থেকে জুলাই পর্যন্ত তাপপ্রবাহের সময়ে সকালের শিফট ভোর ৬টা থেকে সকাল ৮টা এবং দিবা শিফট সকাল সাড়ে ৮টা থেকে সকাল সাড়ে ১০টা পর্যন্ত চালু রাখতে হবে। পাশাপাশি প্রচলিত কাগজ-কলমে পরীক্ষার পরিবর্তে অ্যাসাইনমেন্ট, প্রকল্পভিত্তিক ও অনুসন্ধানমূলক কাজের মাধ্যমে মূল্যায়নের বিষয়ে সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে লিখিত নির্দেশনা জারির কথা বলে হয়েছে।