কোম্পানির ক্ষেত্রে আয়কর রিটার্ন জমা দেয়ার সময় দুই মাস বাড়ানোর দাবি জানিয়েছে দেশের ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন দ্য ফেডারেশন অব বাংলাদেশ চেম্বার্স অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (এফবিসিসিআই)। গতকাল জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) চেয়ারম্যানকে দেয়া এক চিঠিতে এ দাবি জানায় সংগঠনটি।
এফবিসিসিআইয়ের ওই চিঠিতে আরো বলা হয়, নতুন আয়কর আইন-২০২৩ সম্পর্কে ব্যবসায়ীদের মধ্যে পরিপূর্ণ ধারণা এখনো তৈরি হয়নি। এছাড়া বৈশ্বিক প্রতিকূল পরিস্থিতি, মূল্যস্ফীতি, ডলার সংকট ও আসন্ন রমজান উপলক্ষে ব্যবসায়ীরা নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের আমদানি-রফতানি নিয়ে ব্যস্ত থাকায় অডিট কার্যক্রমের জন্য প্রয়োজনীয় কাগজ ও দলিলপত্রাদি প্রস্তুত করতে বিলম্ব হচ্ছে। তাছাড়া অডিট ফার্মের ডিভিসি কোড (ডকুমেন্টস ভেরিফিকেশন কোড) প্রাপ্তিতে দীর্ঘসময়ের প্রয়োজন হওয়ায় কোম্পানিগুলোর অডিট রিপোর্ট পেতে দীর্ঘ সময়ের প্রয়োজন হচ্ছে। এফবিসিসিআইয়ের সদস্য বিভিন্ন সংগঠন থেকে অনুরোধ জানানোর পরিপ্রেক্ষিতে কোম্পানির রিটার্ন দাখিলের ক্ষেত্রে আরো অন্তত দুই মাস সময়ের প্রয়োজন মনে করে এফবিসিসিআই। তাই আয়কর আইন ২০২৩-এর ৩৩৪ ধারার অধীনে বিনা জরিমানায় ও অন্যান্য সুবিধা অব্যাহত রেখে কোম্পানির রিটার্ন দাখিলের সময়সীমা আগামী ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত বাড়ানো প্রয়োজন। তাই অধিক রাজস্ব আয়ের পাশাপাশি দেশে ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ অক্ষুণ্ন রাখার স্বার্থে বিষয়গুলো বিবেচনায় নিয়ে বিনা জরিমানা ও অন্যান্য সুবিধা বহাল রেখে কোম্পানির রিটার্ন দাখিলের সময়সীমা ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত বাড়াতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানায় এফবিসিসিআই।
এর আগে ব্যবসায়ীদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে ১৫ জানুয়ারি থেকে ২৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত রিটার্ন দাখিলের সময় বাড়ানো হয়েছিল। আয়কর সেবা মাসের সময় দুই মাস বৃদ্ধি ও সেবা নিতে রিটার্ন দেয়ার বাধ্যবাধকতার ক্ষেত্র বাড়ানো এবং নতুন আয়কর আইন প্রণয়নসহ নানা পদক্ষেপ নেয়ার পরও ওই সময় বাড়েনি কাঙ্ক্ষিত আয়কর রিটার্ন জমার পরিমাণ। এনবিআরের তথ্যমতে, সেবা মাস শেষে ট্যাক্স আইডেন্টিফিকেশন নাম্বার (টিআইএন) নিয়েছেন ৯৯ লাখ ৭২ হাজার জন। কিন্তু আয়কর রিটার্ন জমা পড়েছে মাত্র ৩৫ লাখ ৪০ হাজার ৪০৬টি।
এনবিআরের তথ্যানুযায়ী, গত বছরের ১ নভেম্বর থেকে শুরু হয় আয়কর সেবা মাস। দুই মাস মেয়াদ বাড়ানোয় ৩১ জানুয়ারি সেবা মাস শেষ হয়। এ সময় চলতি অর্থবছরের সেবা মাসে এনবিআরের আয়কর থেকে রাজস্ব আয় হয়েছে ৫ হাজার ৭৯৯ কোটি ২১ লাখ টাকা।