গাজায় গণহত্যার অভিযোগে ইসরায়েলের বিরুদ্ধে মামলার রায় আজ

ফিলিস্তিনের গাজায় গণহত্যার অপরাধে আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে (আইসিজে) ইসরাইলের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলার রায় হওয়ার কথা রয়েছে আজ। শুক্রবার (২৬ জানুয়ারি) এ খবর দিয়েছে রয়টার্স। আজকের রায়ে মূলত ইসরায়েলের বিরুদ্ধে জরুরি ব্যবস্থা নেয়ার বিষয়ে সিদ্ধান্ত হবে।

ফিলিস্তিনের গাজায় গণহত্যার অপরাধে আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে (আইসিজে) ইসরাইলের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলার রায় হওয়ার কথা রয়েছে আজ। শুক্রবার (২৬ জানুয়ারি) এ খবর দিয়েছে রয়টার্স। আজকের রায়ে মূলত ইসরায়েলের বিরুদ্ধে জরুরি ব্যবস্থা নেয়ার বিষয়ে সিদ্ধান্ত হবে। তবে রায়ে এ মামলার মূল অভিযোগ, অর্থাৎ ফিলিস্তিনে ইসরায়েলের গণহত্যার অভিযোগ মিমাংসার চেয়ে দক্ষিণ আফ্রিকার অনুরোধমতো, সেখানে জরুরি হস্তক্ষেপের বিষয়টিই প্রাধান্য পাবে। মামলার নথিতে দক্ষিণ আফ্রিকা জরুরি হস্তক্ষেপ বলতে উল্লেখ করেছে, ইসরায়েলের সামরিক অভিযান অবিলম্বে বন্ধ করার বিষয়টিকে।

অবশ্য শুরু থেকেই নিজেদের বিরুদ্ধে অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে ইসরায়েল। গতকাল বৃহস্পতিবার ইসরায়েলি সরকারের একজন মুখপাত্র বলেছেন, তারা আশা করেন জাতিসংঘের শীর্ষ আদালত এই ‘‌মিথ্যা’ অভিযোগগুলো আমলে নেবে না। অন্যদিকে অভিযোগকারী দেশ দক্ষিণ আফ্রিকা বলছে, ইসরায়েলের এসব হামলার মূল লক্ষ্য গাজার জনসংখ্যায় ধস নিয়ে আসা।

উল্লেখ্য, ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় অভিযানরত ইসরায়েলি বাহিনীর বিরুদ্ধে গণহত্যার অভিযোগ তুলে গত ৩০ ডিসেম্বর দক্ষিণ আফ্রিকা মামলাটি দায়ের করেছিল। মামলার আবেদন করার সময় আবেদনপত্রের সঙ্গে ৮৪ পৃষ্ঠার একটি নথি সংযুক্ত করা হয়। সেখানে বলা হয়, গাজায় ইসরায়েলি বাহিনী আন্তর্জাতিক অপরাধ, যেমনমানবতাবিরোধী অপরাধ এবং যুদ্ধাপরাধ, এর পাশাপাশি গণহত্যা বা এ সম্পর্কিত অপরাধের সীমারেখা লঙ্ঘন করেছে বলে তথ্য পাওয়া গেছে।

আবেদনে আরো বলা হয়, ইসরায়েলের এ আচরণ গণহত্যামূলক। কারণ তারা ফিলিস্তিনি জাতির একটি উল্লেখযোগ্য অংশকে ধ্বংস করার উদ্দেশ্য নিয়েই হামলা চালাচ্ছে। আবেদনপত্র জমা দেয়ার সময় আইসিজেকে দ্রুত এ বিষয়ে শুনানির অনুরোধ করেছিল দক্ষিণ আফ্রিকা।

আইসিজের সমনের প্রতিক্রিয়ায় জাতিসংঘে ইসরায়েলি মিশনের পক্ষ থেকে এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ‘এ মামলার মাধ্যমে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে ইসরায়েলের মানহানির চেষ্টা করা হচ্ছে এবং ইসরায়েল অবশ্যই সেই চেষ্টা ব্যর্থ করে দেবে।’

গত ৭ অক্টোবর থেকেই গাজায় অভিযান শুরু করে ইসরায়েলি বিমানবাহিনী। ২৮ অক্টোবর থেকে অভিযানে যোগ দেয় স্থলবাহিনীও। ইসরায়েলি বাহিনীর টানা প্রায় চার মাসের অভিযানে কার্যত ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে গাজা উপত্যকা, নিহত হয়েছেন ২ হাজারের কাছাকাছি মানুষ।

আরও