নতুন অর্থমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলী

বর্ষীয়ান কূটনীতিক ও রাজনীতিক আবুল হাসান মাহমুদ আলী দেশের নতুন অর্থমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন। তিনি আ হ ম মুস্তফা কামালের স্থলাভিষিক্ত হলেন। সদ্য সমাপ্ত দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দিনাজপুর-৪ আসন থেকে সংসদ সদস্য হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন তিনি। গতকাল বঙ্গভবনে শপথ নেয়ার পর তাকে অর্থমন্ত্রী হিসেবে নিয়োগ দিয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে।

বর্ষীয়ান কূটনীতিক ও রাজনীতিক আবুল হাসান মাহমুদ আলী দেশের নতুন অর্থমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন। তিনি আ হ ম মুস্তফা কামালের স্থলাভিষিক্ত হলেন। সদ্য সমাপ্ত দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দিনাজপুর-৪ আসন থেকে সংসদ সদস্য হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন তিনি। গতকাল বঙ্গভবনে শপথ নেয়ার পর তাকে অর্থমন্ত্রী হিসেবে নিয়োগ দিয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে।

দেশের ১৮তম অর্থমন্ত্রী হিসেবে দেশের চ্যালেঞ্জিং একটা সময়ে দায়িত্ব নিয়েছেন অর্থনীতির ছাত্র ও শিক্ষক আবুল হাসান মাহমুদ আলী। অর্থমন্ত্রী হিসেবে তাকে দেশের সামষ্টিক অর্থনীতির নানামুখী চ্যালেঞ্জ, বিশেষ করে মূল্যস্ফীতি, বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ও ডলার সংকট, রাজস্ব আহরণ, খেলাপি ঋণ, ব্যাংক খাতের সুশাসনের দিকে নজর দিতে হবে। পাশাপাশি ঋণ কর্মসূচি চলাকালীন আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) বিভিন্ন শর্ত ও লক্ষ্যমাত্রা পূরণের সমান চাপও থাকবে তার ওপর।

আবুল হাসান মাহমুদ আলী নবম জাতীয় সংসদ থেকে চার মেয়াদে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। তিনি ২০১২ সালের ১৩ সেপ্টেম্বর নবগঠিত দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পান এবং ২০১৩ সালের ১৬ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত এ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ছিলেন। এরপর ২০১৩ সালের ২১ নভেম্বর পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রীর দায়িত্ব পান তিনি। ২০১৪ সালের জানুয়ারিতে অনুষ্ঠিত নির্বাচনে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হলে ২৬ ফেব্রুয়ারি তিনি পুনরায় পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন। ২০১৮ সালের ডিসেম্বরে অনুষ্ঠিত একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনেও জয় পান আবুল হাসান মাহমুদ আলী। গত পাঁচ বছর তিনি অর্থ মন্ত্রণালয়সংক্রান্ত সংসদীয় কমিটির সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।

আবুল হাসান মাহমুদ আলী ১৯৪৩ সালের ২ জুন দিনাজপুরের খানসামার ডাক্তারপাড়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অর্থনীতিতে ১৯৬২ সালে বিএ ও ১৯৬৩ সালে এমএ ডিগ্রি অর্জন করেন। ১৯৬৪-৬৬ মেয়াদে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের প্রভাষক ছিলেন। ১৯৬৬ সালে মাহমুদ আলী পাকিস্তান ফরেন সার্ভিসে যোগ দেন। পেশাদার কূটনীতিক হিসেবে তিনি দেশে ও দেশের বাইরে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেছেন। এছাড়া নয়াদিল্লিতে ডেপুটি হাইকমিশনার ও বেইজিংয়ে ডেপুটি চিফ অব মিশনের দায়িত্বেও ছিলেন তিনি। মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে আবুল হাসান মাহমুদ আলী স্বাধীনতা সংগ্রামে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। ১৯৭১ সালে তিনি মুজিবনগর সরকারের যুক্তরাষ্ট্রে নিযুক্ত বাংলাদেশের প্রতিনিধি ছিলেন। ১৯৯২ সালে ভারতের সঙ্গে তিন বিঘা করিডোর বাস্তবায়ন চুক্তি ও মায়ানমারের সঙ্গে রোহিঙ্গা শরণার্থী প্রত্যাবর্তন চুক্তির ক্ষেত্রেও ভূমিকা রেখেছেন এ রাজনীতিক। 

পেশাদার কূটনীতিক হিসেবে অবসর গ্রহণের পর মাহমুদ আলী ২০০১ সালে আওয়ামী লীগে যোগ দেন এবং দলটির নির্বাচনী কমিটির সদস্য নির্বাচিত হন। ২০০২ সালে তিনি কেন্দ্রীয় উপদেষ্টা কমিটির সদস্য হন। এরপর তিনি আওয়ামী লীগের আন্তর্জাতিক বিষয়ক উপকমিটির কো-চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন।


আরও