দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগের দিন গতকাল সারা দেশে ৩২টি ট্রেনের যাত্রা বাতিল করেছে বাংলাদেশ রেলওয়ে। আজ ভোট গ্রহণের দিনও বন্ধ থাকবে এসব ট্রেন। যাত্রা বাতিল হওয়া সবক’টি ট্রেনই ‘লোকাল’। বাংলাদেশ রেলওয়ে পরিচালিত ট্রেনগুলোর নিরাপত্তা বৃদ্ধি এবং নির্বাচনকালীন যাত্রী সংখ্যা কমে যাওয়ায় ট্রেনগুলোর যাত্রা বাতিল করা হয়েছে জানিয়েছেন বাংলাদেশ রেলওয়ের মহাপরিচালক কামরুল আহসান। ৩২টি লোকাল ট্রেন ছাড়াও অগ্নিকাণ্ডের শিকার বেনাপোল এক্সপ্রেসের যাত্রাও ৬ ও ৭ জানুয়ারি বাতিল করা হয়েছে বলে জানান তিনি।
নির্বাচনের দিন দেশের আকাশপথেও কমেছে যাত্রীর চাপ। অভ্যন্তরীণ রুটে ফ্লাইট পরিচালনা করা বেসরকারি আকাশ পরিবহন সংস্থা নভোএয়ার আজকের জন্য তাদের ফ্লাইটের সংখ্যা কমিয়ে এনেছে। তবে যাত্রীর সংখ্যা কম থাকলেও আজ শিডিউলে থাকা সব ফ্লাইট পরিচালনার সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছে আরেক আকাশ পরিবহন সংস্থা ইউএস বাংলা এয়ারলাইনস। অভ্যন্তরীণ রুটের আকাশ পরিবহন সংস্থা এয়ার অ্যাস্ট্রা ফ্লাইটের সংখ্যা কমানোর ব্যাপারে গতকাল রাত পর্যন্ত কোনো সিদ্ধান্ত নেয়নি।
এর বাইরে দেশের সড়ক পরিবহন খাতের বাস কোম্পানিগুলো জানিয়েছে, চলাচল করা বাসের সংখ্যা নির্ভর করবে যাত্রীদের চাহিদার ওপর। যাত্রী বেশি থাকলে স্বাভাবিকভাবে চলবে দূরপাল্লার বাস। যদি যাত্রী কম থাকে, বাসের সংখ্যাও কমিয়ে দেয়া হবে।
ঢাকা-যশোরের মধ্যে চলাচল করা বেনাপোল এক্সপ্রেস ট্রেনটি গতকাল রাত সাড়ে ৯টার দিকে ঢাকা স্টেশনে (কমলাপুর) প্রবেশের আগমুহূর্তে গোপীবাগ এলাকায় অগ্নিকাণ্ডের শিকার হয়। আগুনে দগ্ধ হয়ে শিশুসহ চার যাত্রী নিহত হয়েছেন। এ ঘটনার পর ঢাকা স্টেশনের নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরো জোরদার করার কথা জানিয়েছেন রেলওয়ের কর্মকর্তারা।
গতকাল দুপরে অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত বেনাপোল এক্সপ্রেস ট্রেনটি পরিদর্শনে আসেন বাংলাদেশ রেলওয়ের মহাপরিচালক কামরুল আহসান। এ সময় তিনি জানান, অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। রেলের মহাপরিচালক বলেন, ‘জিএম (মহাব্যবস্থাপক পূর্ব) সাহেবের পক্ষ থেকে সাত সদস্যের একটি কমিটি গঠন করে দেয়া হয়েছে। আমাদের তদন্তের পাশাপাশি পুলিশ এবং অন্যান্য সংস্থাও তদন্ত করছে। আপাত দৃষ্টিতে যেটা মনে হচ্ছে, এটা একটা নাশকতামূলক কাজ। তবে এটা এখনো ফাইনাল বলা যাবে না। এ ঘটনায় ঢাকা জিআরপি থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ, আনসার, পুলিশ, র্যাবসহ গোয়েন্দা সংস্থাগুলো নাশকতা রোধে কাজ করছে। নিরাপত্তা বৃদ্ধির জন্য পর্যায়ক্রমে আমরা সবগুলো ট্রেনে সিসি ক্যামেরা লাগাবো। এরই মধ্যে আমরা মোহনগঞ্জ এক্সপ্রেস ট্রেনটিতে সিসি ক্যামেরা লাগিয়েছি।’
কয়েকটি ট্রেনের যাত্রা বাতিল সম্পর্কে দৃষ্টি আকর্ষণ করলে তিনি বলেন, ‘কিছু লোকাল ট্রেন, নির্বাচনের কারণে যেগুলোয় যাত্রীর চাপ কম থাকবে বলে আমরা মনে করছি সেগুলো বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। আজ (গতকাল শনিবার) পূর্ব ও পশ্চিম অঞ্চল মিলে ৩২টি ট্রেনের যাত্রা বাতিল করা হয়েছে। আগামী কাল ভোটের দিনও এই ট্রেনগুলোর চলাচল বন্ধ থাকবে। যে কয়টা লোকাল ট্রেনের চলাচল আমরা স্থগিত রেখেছি, সেগুলো ছাড়া বাকি সব ট্রেন স্বাভাবিকভাবে চলাচল করবে। অন্যদিকে পুড়ে যাওয়া বেনাপোল এক্সপ্রেস ট্রেনটি ৬ ও ৭ জানুয়ারি বন্ধ রাখা হয়েছে। আমরা আশা করছি ৮ জানুয়ারি থেকে ট্রেনটি পুনরায় চালু করতে পারব। নির্বাচনের আগের দিন হওয়ায় আজ (গতকাল শনিবার) যাত্রীর সংখ্যা কম থাকবে। যাত্রীর সংখ্যা কম থাকার কারণে কিছু ট্রেনের যাত্রা বাতিল করেছি। এসব ট্রেনে যেসব কর্মী কাজ করেন, তাদের রেলপথ ও ট্রেনের নিরাপত্তায় কাজে লাগানোর পরিকল্পনা করছি।’
অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত ট্রেন সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘বেনাপোল এক্সপ্রেসের দুইটা বগি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ট্রেনটির পাওয়ার কার আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। পাওয়ার কারটা আমরা পরীক্ষা করে বুঝতে পারব ক্ষতির পরিমাণ কেমন। বগি দুটির সম্পূর্ণ কোচ এবং ভেতরের অংশ পুড়ে গেছে। এগুলো ব্যবহার করা যাবে, তবে এজন্য ভারী মেরামত প্রয়োজন হবে।’