হরতাল থেকে ফের ৪৮ ঘণ্টা অবরোধের ডাক বিএনপির

সরকারের পদত্যাগের দাবিতে ডাকা হরতালের সমর্থনে গতকাল রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে ঝটিকা মিছিল করেছে বিএনপি। সড়ক অবরোধ করে পিকেটিংও হয়েছে দু-এক জায়গায়। তবে দেশের কোথাও বড় ধরনের সংঘাতের ঘটনা ঘটেনি। স্বাভাবিক দিনের মতোই গণপরিবহন চলার পাশাপাশি ঢাকা ছেড়ে গেছে দূরপাল্লার বাস। এর মধ্যেই শুক্র ও শনিবার বিরতি দিয়ে রোববার থেকে ফের ৪৮ ঘণ্টার

সরকারের পদত্যাগের দাবিতে ডাকা হরতালের সমর্থনে গতকাল রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে ঝটিকা মিছিল করেছে বিএনপি। সড়ক অবরোধ করে পিকেটিংও হয়েছে দু-এক জায়গায়। তবে দেশের কোথাও বড় ধরনের সংঘাতের ঘটনা ঘটেনি। স্বাভাবিক দিনের মতোই গণপরিবহন চলার পাশাপাশি ঢাকা ছেড়ে গেছে দূরপাল্লার বাস। এর মধ্যেই শুক্র ও শনিবার বিরতি দিয়ে রোববার থেকে ফের ৪৮ ঘণ্টার অবরোধ কর্মসূচি ডেকেছে বিএনপি। গতকাল এক ভার্চুয়াল সংবাদ সম্মেলনে দলটির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী এ কর্মসূচি ঘোষণা দেন। জামায়াতে ইসলামীও একই সময়ে সর্বাত্মকভাবে সড়ক, নৌ ও রেলপথ অবরোধের কর্মসূচি পালনের ঘোষণা দিয়েছে।

রিজভী বলেন, ‘রোববার ভোর ৬টা থেকে মঙ্গলবার ভোর ৬টা পর্যন্ত মোট ৪৮ ঘণ্টার অবরোধ কর্মসূচি পালিত হবে। দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ নেতাকর্মীদের মুক্তিসহ এক দফা দাবি আদায়ের লক্ষ্যে এবং অবৈধ তফসিল ঘোষণার প্রতিবাদে এ কর্মসূচি। একতরফা নির্বাচনী তফসিল ঘোষণার পর থেকে এ পর্যন্ত মোট ৬ হাজার ৭৫ নেতাকর্মীকে গ্রেফতার করা হয়েছে। মামলা দেয়া হয়েছে ২০৬টি। এসব মামলায় আসামি করা হয়েছে ২৩ হাজার ৮৮৫ জনের অধিক নেতাকর্মীকে।’ 

এদিকে নির্বাচন কমিশন ঘোষিত তফসিল প্রত্যাহারের দাবি জানিয়ে হরতালের সমর্থনে গতকাল ঢাকাসহ বিভিন্ন স্থানে বিক্ষোভ মিছিল করেছে বিএনপি ও সমমনা দলগুলো। এর মধ্যে সকাল ৭টায় হরতালের সমর্থনে গুলশান ১ নম্বরে রুহুল কবির রিজভীর নেতৃত্বে মিছিল এবং কিছু সময়ের জন্য সড়ক অবরোধ ও পিকেটিং করেন নেতাকর্মীরা। তবে ফটোসেশন শেষে সবাই যার যার মতো সটকে পড়েন। সকাল ৮টার দিকে রুহুল কবির রিজভীর নেতৃত্বেই উত্তরায় জনপথ রোডে পিকেটিং করেন ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির নেতাকর্মীরা। 

হরতালে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে পুলিশের পাশাপাশি সারা দেশে র‍্যাব ও বিজিবি মোতায়েন করা হয়। বিজিবি সদর দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ঢাকা ও আশপাশের জেলায় ২২ প্লাটুনসহ সারা দেশে মোতায়েন করা হয় ১৬১ প্লাটুন বিজিবি। র‍্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক কমান্ডার খন্দকার আল মইন জানান, আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে রাজধানীতে ১৪৬টিসহ সারা দেশে ৪৪২টি টহল দল মোতায়েন করা হয়। যেকোনো ধরনের নাশকতা ও সহিংসতা প্রতিরোধে বাসস্ট্যান্ড, রেল স্টেশনসহ গুরুত্বপূর্ণ স্থানে র‍্যাব গোয়েন্দারা নজরদারি অব্যাহত রেখেছে।

নির্বাচন প্রত্যাখ্যান করে যুগপৎ আন্দোলনে অংশ নেয়া দলগুলো গতকাল এক যৌথ সভা করেছে। তোপখানা রোডে শিশু কল্যাণ পরিষদ মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত সভায় বিএনপির পক্ষ থেকে অংশ নেন স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান। তিনি বলেন, ‘রাজপথে সক্রিয় বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলো দীর্ঘদিন ধরে দেশে একটি অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও বিশ্বাসযোগ্য নির্বাচনের জন্য আন্দোলন করে আসছি। এজন্য আমরা দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে আওয়ামী লীগ সরকারের পদত্যাগ, নির্বাচনকালীন নিরপেক্ষ অন্তর্বর্তীকালীন সরকার, জাতীয় সংসদের বিলুপ্তি, বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াসহ হয়রানিমূলক রাজনৈতিক মামলায় সাজাপ্রাপ্ত ও গ্রেফতারকৃত সব রাজবন্দির মুক্তি এবং বিদ্যমান অগণতান্ত্রিক রাষ্ট্র, সরকার ব্যবস্থা ও সংবিধান সংস্কারের দাবিতে যুগপৎ ধারায় এক আন্দোলনে আছি। এ দাবিগুলো এরই মধ্যে গণদাবিতে পরিণত হয়েছে। গণদাবির এ আন্দোলনে আতঙ্কগ্রস্ত হয়ে পরিকল্পিত সহিংসতা ও নাশকতার ঘটনা ঘটিয়ে সরকার ও সরকারি দল গত ২৮ অক্টোবর বিএনপিসহ বিরোধী দলগুলোর মহাসমাবেশ পণ্ড করে দেয়।’

নেতাকর্মীদের ওপর নিপীড়ন ও গ্রেফতারের অভিযোগ তুলে যৌথ সভায় বলা হয়, গত এক মাস দমন-নিপীড়ন ও গ্রেফতারের পথে দেশব্যাপী ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করা হয়েছে। আমরা বিস্ময়ের সঙ্গে লক্ষ করছি সরকারের পদত্যাগের গণদাবিকে উপেক্ষা করে ২০১৪ ও ২০১৮ সালের মতো আরেকটি একতরফা নীলনকশার নির্বাচনের পাঁয়তারা করা হচ্ছে। সরকারের এ রাজনৈতিক এজেন্ডা বাস্তবায়ন করতে তাদের সহযোগী হিসেবে নির্বাচন কমিশন আগামী ৭ জানুয়ারি দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করেছে। পাতানো এ নির্বাচনের অংশ হিসেবে ৩০ নভেম্বর কথিত নির্বাচনের মনোনয়নপত্র জমা দেয়ার শেষ তারিখও নির্ধারণ করেছে। তবে সরকার জেদ ও অহমিকা নিয়ে জবরদস্তি করে নির্বাচনের নামে আরেকটি তামাশা মঞ্চস্থ করতে চায়। তাদের এ অশুভ তৎপরতা প্রতিরোধ করা ছাড়া দেশবাসীর সামনে অন্য কোনো পথ থাকবে না।

ঢাকায় গত ২৮ অক্টোবর মহাসমাবেশ পণ্ড হওয়ার পর থেকেই বিএনপি কয়েক দফায় হরতাল-অবরোধ পালন করছে। এর মধ্যে আগামী ৭ জানুয়ারি ভোটের দিন রেখে গত ১৫ নভেম্বর রাতে দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার কাজী হাবিবুল আউয়াল। আওয়ামী লীগ তফসিলকে স্বাগত জানালেও প্রত্যাখ্যান করে বিএনপিসহ বিরোধী সমমনা দলগুলো। 

আরও