ডলারের দাম আরো ২৫ পয়সা কমানোর সিদ্ধান্ত

তীব্র সংকটের মধ্যেই দেশের ব্যাংক নির্বাহীরা ডলারের বিনিময় হার আরো ২৫ পয়সা কমানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, আগামী ৩ ডিসেম্বর থেকে রফতানি ও রেমিট্যান্সের ক্ষেত্রে প্রতি ডলারের দাম হবে ১০৯ টাকা ৭৫ পয়সা। আর ব্যাংকগুলো সর্বোচ্চ ১১০ টাকা ২৫ পয়সায় আমদানিকারকদের কাছে ডলার বিক্রি করতে পারবে।

তীব্র সংকটের মধ্যেই দেশের ব্যাংক নির্বাহীরা ডলারের বিনিময় হার আরো ২৫ পয়সা কমানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, আগামী ৩ ডিসেম্বর থেকে রফতানি ও রেমিট্যান্সের ক্ষেত্রে প্রতি ডলারের দাম হবে ১০৯ টাকা ৭৫ পয়সা। আর ব্যাংকগুলো সর্বোচ্চ ১১০ টাকা ২৫ পয়সায় আমদানিকারকদের কাছে ডলার বিক্রি করতে পারবে।

বাংলাদেশ ফরেন এক্সচেঞ্জ ডিলারস অ্যাসোসিয়েশন (বাফেদা) ও ব্যাংকের শীর্ষ নির্বাহীদের সংগঠন অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকার্স বাংলাদেশের (এবিবি) শীর্ষ নেতাদের বৈঠকে গতকাল ডলারের দর কমানোর এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। এর আগে গত বৃহস্পতিবার বাফেদা ও এবিবির সভায় ডলারের দর ৫০ পয়সা কমানোর সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছিল। 

যদিও ডলারের বাজার পরিস্থিতি একেবারেই বিপরীত তথ্য দিচ্ছে। গতকালও দেশের অনেক ব্যাংক রেমিট্যান্স আনার ক্ষেত্রে ডলারপ্রতি ১২০ টাকার বেশি পরিশোধ করেছে। আর আমদানিকারকদের কাছে এর চেয়েও বেশি দরে ডলার বিক্রি করছে ব্যাংকগুলো। এবিবি ও বাফেদার ঘোষিত দরে দেশের কোথায়ও ডলার মিলছে না বলে অন্তত চারটি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) বণিক বার্তাকে নিশ্চিত করেছেন। 

নাম প্রকাশ না করার শর্তে দেশের প্রথম প্রজন্মের একটি বেসরকারি ব্যাংকের শীর্ষ নির্বাহী বণিক বার্তাকে বলেছেন, ‘বাফেদা ও এবিবির শীর্ষ নেতারা ডলারের বিনিময় হার নিয়ে যেসব সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন, সেগুলো বাংলাদেশ ব্যাংক নির্দেশিত। বাজারে এখনো ডলারের তীব্র সংকট চলছে। দেশের অনেক ব্যাংক ডলার সংকটের কারণে যথাসময়ে ঋণপত্রের (এলসি) দায় পরিশোধ করতে পারছে না। এ অবস্থায় ডলারের বিনিময় হার কমে যাবে এটি অসম্ভব।’

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, গত দুই বছর দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ক্রমাগত ক্ষয় হচ্ছে। ২২ নভেম্বর আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী (বিপিএম৬) দেশের রিজার্ভ নেমে এসেছে ১ হাজার ৯৫২ কোটি বা ১৯ দশমিক ৫২ বিলিয়ন ডলারে। যদিও আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) হিসাবে বাংলাদেশের নিট রিজার্ভ এখন ১৫ বিলিয়ন ডলারের ঘরে। দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ রিজার্ভ ছিল ২০২১ সালের আগস্টে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নিজস্ব হিসাবায়ন পদ্ধতি অনুযায়ী, ওই সময় রিজার্ভের পরিমাণ ৪৮ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত হয়। এর পর থেকেই রিজার্ভের ক্ষয় শুরু হয়। গত দুই বছরে প্রতি মাসে গড়ে ১ বিলিয়ন ডলার করে রিজার্ভ কমেছে। 

বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তারা জানান, জাতীয় নির্বাচনের আগে বাংলাদেশ ব্যাংক রিজার্ভ বাড়াতে চায়। আবার ডলারের বিপরীতে টাকার মান শক্তিশালী হচ্ছে, এমন একটি পরিস্থিতিও দেখাতে চাচ্ছে। এ কারণে বাজার থেকে কেন্দ্রীয় ব্যাংক ডলার কেনা শুরু করেছে। আর এবিবি ও বাফেদার নেতাদের মাধ্যমে ডলারের দাম কমানোর ঘোষণা দেয়া হচ্ছে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র মো. মেজবাউল হক বণিক বার্তাকে বলেন, ‘দেশের ব্যাংকগুলোর ডলারের নেট ওপেন পজিশন (এনওপি) এখন বেশ পজিটিভ। এ কারণে উদ্বৃত্ত ডলার কেনা হচ্ছে। চলতি সপ্তাহে বাংলাদেশ ব্যাংক ৭ কোটি ৭০ লাখ ডলার কিনেছে। এর বড় অংশই বিক্রি করেছে ইসলামী ব্যাংক। গত ২৬ নভেম্বর ব্যাংকটির হাতে ৮ কোটি ৪০ লাখ ডলার উদ্বৃত্ত ছিল। এরই মধ্যে ইসলামী ব্যাংক নিজেদের সব এলসি দায়ও সমন্বয় করে দিয়েছে।’

গত দুই বছর ধরেই দেশে ডলারের সংকট চলছে। যে কারণে ডলারের বিনিময় হারও বেড়েছে অস্বাভাবিক হারে। গত বছরের জানুয়ারিতেও দেশের ব্যাংক খাতে প্রতি ডলারের বিনিময় হার ছিল সর্বোচ্চ ৮৫ টাকা। বর্তমানে বাংলাদেশ ব্যাংক অনুমোদিত দর অনুযায়ী প্রতি ডলার ১১০ টাকা ৫০ পয়সায় লেনদেন হচ্ছে। যদিও ঘোষিত দরে দেশের ব্যাংকগুলোয় ডলার মিলছে না। আমদানিকারকদের কাছ থেকে ব্যাংকগুলো ডলারপ্রতি ১২৪-১২৫ টাকাও আদায় করেছে বলে অভিযোগ রয়েছে। সে হিসাবে এ সময়ে ডলারের বিনিময় হার বেড়েছে প্রায় ৪৭ শতাংশ। আর কার্ব মার্কেটে (খুচরা বাজার) প্রতি ডলারের মূল্য ১২৮ টাকা পর্যন্ত উঠেছিল।

গত বছরের সেপ্টেম্বর থেকে ডলারের বিনিময় হার নির্ধারণের দায়িত্ব এবিবি ও বাফেদার হাতে ছেড়ে দেয় বাংলাদেশ ব্যাংক। দায়িত্ব পাওয়ার পর থেকে সংগঠন দুটির পক্ষ থেকে গত এক বছরে বহু সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। যদিও কোনো সিদ্ধান্তই বাজারে কার্যকর হয়নি। উল্টো অযৌক্তিকভাবে কিছু সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দেয়ায় বাফেদা ও এবিবির শীর্ষ নেতাদের ওপর সদস্যদের ক্ষোভও তৈরি হয়েছে। অনেক ব্যাংকের এমডি সংগঠন দুটির নেতাদের এড়িয়ে চলছেন বলেও সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

আরও