রবি ও সোমবার সপ্তম দফায় অবরোধ ডেকেছে বিএনপি

রাজধানীর পাশাপাশি গাজীপুর ও রাজশাহীতে অগ্নিসংযোগের মধ্য দিয়ে শেষ হয়েছে বিএনপির ৪৮ ঘণ্টার অবরোধ কর্মসূচি। এর মধ্যে দুদিন বিরতি দিয়ে ফের সপ্তমবারের মতো সারা দেশে সর্বাত্মক অবরোধের ঘোষণা দিয়েছেন দলের জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। গতকাল বিকালে এক ভার্চুয়াল ব্রিফিংয়ে তিনি জানান, আগামী রোববার ভোর ৬টা থেকে মঙ্গলবার ভোর ৬টা পর্যন্ত সড়ক, নৌ ও

রাজধানীর পাশাপাশি গাজীপুর ও রাজশাহীতে অগ্নিসংযোগের মধ্য দিয়ে শেষ হয়েছে বিএনপির ৪৮ ঘণ্টার অবরোধ কর্মসূচি। এর মধ্যে দুদিন বিরতি দিয়ে ফের সপ্তমবারের মতো সারা দেশে সর্বাত্মক অবরোধের ঘোষণা দিয়েছেন দলের জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। গতকাল বিকালে এক ভার্চুয়াল ব্রিফিংয়ে তিনি জানান, আগামী রোববার ভোর ৬টা থেকে মঙ্গলবার ভোর ৬টা পর্যন্ত সড়ক, নৌ ও রেলপথে অবরোধ পালন করা হবে। 

এদিকে পুলিশের দাবি, বিএনপির চলমান অবরোধ ও হরতাল কর্মসূচি ঘিরে গত ২৫ দিনে ৬৮৬টি ভাংচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে। এ ধরনের নাশকতার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেয়ার ঘোষণা দিয়েছে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। 

নতুন কর্মসূচি ঘোষণা করে রুহুল কবির রিজভী বলেন, ‘একতরফা তফসিল ঘোষণার প্রতিবাদে এবং সরকারের পদত্যাগসহ নির্দলীয় নিরপেক্ষ সরকার প্রতিষ্ঠার যে চলমান আন্দোলন, তা অব্যাহতভাবে চলার প্রত্যয়ে অবরোধ কর্মসূচি ঘোষণা করছি। আমাদের নেতাকর্মীরা অত্যন্ত বীরত্বের সঙ্গে, সাহসিকতার সঙ্গে এবং দৃঢ় প্রত্যয়ে ধারাবাহিক অবরোধ কর্মসূচিকে সাফল্যমণ্ডিত করছেন।’ 

বিএনপির ডাকা ষষ্ঠ দফার অবরোধের শেষ দিন গতকাল রাজধানীর বিভিন্ন সড়কে গণপরিবহন ও ব্যক্তিগত গাড়ির চলাচল ছিল তুলনামূলক বেশি। যাত্রীর সংখ্যা বেড়ে যাওয়ায় দূরপাল্লার বাসও ঢাকা থেকে ছেড়ে যায় অবরোধের মধ্যেই। রাজধানীর শ্যামলী, কল্যাণপুর, মাজার রোড, গাবতলী, বিমানবন্দর এলাকা, খিলক্ষেত, বনানী, মহাখালী এলাকা ঘুরে যানবাহন চলাচলের এ চিত্র দেখা গেছে। 

এদিকে প্রায় প্রতিদিন চোরাগোপ্তা হামলার ঘটনা ঘটছে। আগুন দেয়া হচ্ছে যানবাহনে। এসব ঘটনায় সরকারের পক্ষ থেকে বিএনপিকে দায়ী করা হলেও রিজভীর দাবি, ‘সরকারের এজেন্সি’ দিয়ে এগুলো করানো হচ্ছে। অবশ্য একাধিক ঘটনায় বিএনপি ও তার সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের হাতেনাতে ধরার কথা জানিয়েছে আইন-শৃঙ্খল রক্ষাকারী বাহিনী। প্রকাশ করা হয়েছে বেশকিছু ভিডিও। 

ফায়ার সার্ভিস সদর দপ্তর জানিয়েছে, বিএনপির ষষ্ঠ দফার অবরোধের মধ্যে ছয়টি অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে। এর মধ্যে সাতটি যানবাহনে আগুন দেয়া হয়েছে। তবে এসব ঘটনায় কেউ হতাহত হননি।

ফায়ার সার্ভিস অ্যান্ড সিভিল ডিফেন্সের গণমাধ্যম শাখা থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গতকাল বেলা পৌনে ১টার দিকে রাজধানীর বিজয়নগরে আজমেরী গ্লোরী পরিবহনের একটি বাসে আগুন দেয়া হয়। এর আগে বুধবার রাত পৌনে ১টার দিকে রাজশাহীর সিটি হাটে একটি ট্রাকে ও গতকাল সকাল পৌনে ৭টার দিকে গাজীপুরে দুটি কাভার্ড ভ্যানে আগুন দেয়া হয়েছে। এছাড়া মঙ্গলবার রাত দেড়টার দিকে রাজবাড়ীর বালিয়াকান্দিতে একটি ট্রাকে, বুধবার রাজধানীর আগারগাঁওয়ে প্রজাপতি পরিবহনের একটি বাসে ও একই দিন দিবাগত রাত সোয়া ১১টায় আশুলিয়ায় একটি বাসে আগুন দেয়া হয়।

পুলিশ সদর দপ্তর জানায়, রাজনৈতিক অস্থিরতার মধ্যে কর্তব্য পালন করতে গিয়ে একজন পুলিশ সদস্যসহ ছয়জন নিহত হয়েছেন। অবরোধ চলাকালে ৩১ অক্টোবর থেকে ২২ নভেম্বর পর্যন্ত রেলওয়েতে ২৪টি নাশকতার ঘটনা ঘটেছে। এর মধ্যে কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশন, টাঙ্গাইল ও জামালপুরে তিনটি ট্রেনে অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে। গ্রেফতারকৃতদের অনেকেই নিজেদের সম্পৃক্ততা উল্লেখপূর্বক স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে। এমনকি পুলিশকে বিতর্কিত করার লক্ষ্যে নাশকতাকারীরা উদ্দেশ্যমূলকভাবে ‘প্রেস’ লেখা জ্যাকেট পরে ধ্বংসাত্মক কর্মকাণ্ডে লিপ্ত হয়, যা জনগণের কাছে এখন স্পষ্ট। 

ঢাকায় ২৮ অক্টোবর মহাসমাবেশের দিন পুলিশের সঙ্গে নেতাকর্মীদের সংঘর্ষের পর এখন পর্যন্ত ২২ কর্মদিবসের মধ্যে ১৯ দিনই হরতাল ও অবরোধ কর্মসূচি ঘোষণা করেছে বিএনপি। এর মধ্যে ২৯ অক্টোবর এবং ১৯ ও ২০ নভেম্বর হরতাল এবং বাকি ১৬ দিন অবরোধ ডেকেছে দলটি। তবে এসব কর্মসূচিতে নেতাকর্মীদের উপস্থিতি বা পিকেটিং সেভাবে চোখে পড়ছে না। বিএনপির সঙ্গে যুগপৎ আন্দোলনে থাকা দলগুলোই বরং রাস্তায় নেমে মিছিল-সমাবেশ করছে। এর মধ্যে ২৮ অক্টোবরের সংঘাতের পর দায়ের করা তিন ডজন মামলায় গ্রেফতার হয়ে বিএনপির জ্যেষ্ঠ নেতাদের অনেকেই কারাগারে রয়েছেন। বাকিরাও রয়েছেন আত্মগোপনে। 

আরও