অনিশ্চিত আর্থসামাজিক
ও রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ, দক্ষতা অনুযায়ী চাকরির বাজার তৈরি না
হওয়া, শিক্ষা ও প্রশিক্ষণের সুযোগের সল্পতা, উদ্ভাবন ও উদ্যোক্তার অভাব এবং ব্যক্তিগত নিরাপত্তার শঙ্কায় বিদেশে পাড়ি জমাতে চায় দেশের ৪২ শতাংশ তরুণ। তবে এসব সংকট সমাধান
হলে তাদের ৮৫ শতাংশই আবার দেশে ফিরতে চায়।
সম্প্রতি
সমসাময়িক বাংলাদেশ যুব সমাজর অবস্থান, ভাবনা ও প্রত্যাশা
জানার জন্য বাংলাদেশ ইয়ুথ লিডারশিপ সেন্টার (বিওয়াইএলসি) ও ব্র্যাক
বিশ্ববিদ্যালয়ের পিস অ্যান্ড জাস্টিস সেন্টারের ‘ইয়ুথ ম্যাটার্স সার্ভে— ২০২৩’
শীর্ষক যৌথ সমীক্ষায় এ তথ্য উঠে এসেছে। আজ বৃহস্পতিবার (১৬ নভেম্বর) বিওয়াইএলসি কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এ সমীক্ষার ফল উপস্থাপন করেন
বিওয়াইএলসির গবেষণা, পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন ব্যবস্থাপক
আবুল খায়ের সজীব ও ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের পিস অ্যান্ড জাস্টিস সেন্টারের গবেষণা
সহযোগী হোসাইন মোহাম্মদ ওমর খৈয়াম।
প্রতি পাঁচ বছর
পরপর
তরুণদের নিয়ে গবেষণাটি পরিচালনা করে
বিওয়াইএলসি। জীবিকা, জলবায়ু পরিবর্তন, ন্যায়বিচার, গণতন্ত্র ও সুশাসন, তথ্য ও দৃষ্টিভঙ্গি এবং অভিপ্রয়াণ বিষয়ে করা
এ জরিপে তরুণদের আকাঙ্ক্ষা ও উদ্বেগ
উভয়ই উঠে এসেছে।
দেশের ৮
বিভাগের ৫ হাজার ৬০৯ জন তরুণ-তরুণীর মধ্যে পরিচালিত জরিপে দেখা যায়, দেশ ছাড়ার কারণ
হিসেবে ৭৫ দশমিক ৫ শতাংশ আর্থসামাজিক ও রাজনৈতিক ভবিষ্যতের অনিশ্চিতাকেই দায়ী
করছেন। ৫০ দশমিক ৯ শতাংশ তরুণ মনে করেন, তাদের দক্ষতা অনুযায়ী
পর্যাপ্ত চাকরি নেই দেশে। শিক্ষা ও প্রশিক্ষণের জন্য
পর্যাপ্ত সুযোগ-সুবিধা নেই বলে মনে করেন ৪২ দশমিক ৩
শতাংশ তরুণ এবং ৪০ দশমিক ৮ শতাংশ মনে করেন, দেশে উদ্ভাবন
ও উদ্যোক্তার অভাব রয়েছে। এছাড়াও ব্যক্তিগত নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কার কারণেও দেশ ছাড়তে চাইছেন ৩৩ দশমিক ৯ শতাংশ তরুণ।
জরিপে অংশ
নেয়া ৫৫ দশমিক ৩ শতাংশ তরুণ বিশ্বাস করেন, বর্তমানে দেশে
শান্তিপূর্ণ অবস্থা বিরাজ করছে না। অপরদিকে, ৬৩ শতাংশ
তরুণ মনে করেন, গত ৫ বছরে দেশের সার্বিক শান্তিপূর্ণ
পরিস্থিতির অবনতি হয়েছে। সুশাসন প্রতিষ্ঠায় সবচেয়ে বড় বাধা হিসেবে দুর্নীতিকে
চিহ্নিত করেছেন ৮৮ দশমিক ৯ শতাংশ তরুণ। এছাড়াও ২৯ শতাংশ
তরুণ মনে করেন দেশে গণতান্ত্রিক অধিকার হ্রাস পাচ্ছে যা
সুশাসনকে বাধাগ্রস্ত করছে।
সংবাদ সম্মেলনে
উপস্থিত বিওয়াইএলসির প্রতিষ্ঠাতা ও নির্বাহী সভাপতি ইজাজ আহমেদ বলেন, তরুণদের শুধু ভবিষ্যতের কাণ্ডারি হিসেবে
দেখলেই চলবে না বরং এখন থেকেই সর্বোচ্চ পর্যায়ের নীতিনির্ধারণী কাজে যুক্ত করতে হবে। যুবকদের অর্থবহ
অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে হলে তাদের মতামত কেবল জাতীয় নীতিমালায় যুক্ত করলেই হবে না,
তাদের রাজনীতি, ব্যবসা ও বেসামরিক খাত এবং
স্থানীয় ও জাতীয় পর্যায়ে নেতৃত্বচর্চার ক্ষেত্র তৈরি করে দিতে হবে।
সংবাদ সম্মেলনে
উপস্থিত ছিলেন ব্র্যাক ইউনিভার্সিটির সিপিজের গবেষণা পরিচালক ড. এম সানজীব হোসেন, গবেষণা সহযোগী তাসনিয়া খন্দকার এবং বিওয়াইএলসির নির্বাহী পরিচালক
তাহসিনাহ আহমেদসহ আরো অনেকে।