হৃদরোগ সেবায় ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশন

হৃদরোগসংক্রান্ত জটিলতায় আক্রান্ত রোগীদের সেবাদান এবং চিকিৎসক ও প্যারামেডিকদের প্রশিক্ষণের উদ্দেশ্য নিয়ে প্রতিষ্ঠিত হয় ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশন। জাতীয় অধ্যাপক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অবসরপ্রাপ্ত) আবদুল মালিক ১৯৭৮ সালে ঢাকার মিরপুরে এটি প্রতিষ্ঠা করেন। বাংলাদেশের হৃদরোগ চিকিৎসার ইতিহাসে আবদুল মালিক অগ্রগণ্য নাম। পাকিস্তান আমলে তার নেতৃত্বেই প্রথম ওপেন হার্ট

হৃদরোগসংক্রান্ত জটিলতায় আক্রান্ত রোগীদের সেবাদান এবং চিকিৎসক ও প্যারামেডিকদের প্রশিক্ষণের উদ্দেশ্য নিয়ে প্রতিষ্ঠিত হয় ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশন। জাতীয় অধ্যাপক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অবসরপ্রাপ্ত) আবদুল মালিক ১৯৭৮ সালে ঢাকার মিরপুরে এটি প্রতিষ্ঠা করেন। বাংলাদেশের হৃদরোগ চিকিৎসার ইতিহাসে আবদুল মালিক অগ্রগণ্য নাম। পাকিস্তান আমলে তার নেতৃত্বেই প্রথম ওপেন হার্ট সার্জারি হয়। ১৯৮৯ সালে সরকারি চাকরি থেকে অবসর নেয়ার পর পুরোদমে ফাউন্ডেশন নিয়ে সক্রিয় হন। হৃদরোগের সব ধরনের পরীক্ষা ও চিকিৎসা সুবিধা দিয়ে যাচ্ছে প্রতিষ্ঠানটি। ফাউন্ডেশনের প্রধান প্রকল্প ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশন হসপিটাল অ্যান্ড রিসার্চ ইনস্টিটিউট। প্রথমে এএনএইচ বারি ট্রাস্টের অনুদানে যাত্রা শুরু করলেও পরে সরকারি, বেসরকারি ও ব্যক্তিগত সহযোগিতায় পরিধি সম্প্রসারণ হয়। বর্তমানে সব ধরনের আধুনিক চিকিৎসা নিয়ে দেশের ভেতরে অসংখ্য রোগীর পাশে দাঁড়িয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। গরিব ও দুস্থদের জন্য রয়েছে ৩০ শতাংশ পর্যন্ত ছাড়ের সুবিধা। চিকিৎসার খরচও তুলনামূলকভাবে কম।

ভালভ সংযোজন ও ভাসকুলার অপারেশন এখানে নিয়মিত করা হয়। রয়েছে বাইপাস সার্জারির সুবিধাও। ভর্তি হওয়া রোগী ছাড়াও হাসপাতালের বহির্বিভাগে বহু রোগীর চিকিৎসাসেবা দেয়া হয়। ইনস্টিটিউটে রয়েছে কার্ডিওলজি, কার্ডিওভাসকুলার সার্জারি, অ্যানেস্থেসিওলজি, কার্ডিওভাসকুলার রেডিওলজি, বায়োকেমিস্ট্রি, প্যাথলজি, হিমাটোলজি, ব্লাড ট্রান্সফিউশন, এপিডেমিওলজি ও প্রতিষেধক ওষুধ এবং পুনর্বাসন বিভাগ। হার্টের রোগীদের জন্য রয়েছে ইমারজেন্সি পরিষেবা, আউট পেশেন্ট ডিপার্টমেন্ট (ওপিডি), করোনারি কেয়ার ইউনিট (সিসিইউ), ইনটেনসিভ কেয়ার ইউনিট (আইসিইউ), হার্ট ফেইলিউর ইউনিট, ইসিজি, ইটিটি, ইকো কার্ডিওগ্রাফি, কার্ডিয়াক সার্জারি, কার্ডিয়াক ক্যাথেটারাইজেশন, এনজিওগ্রাম, গবেষণা এবং অ্যাম্বুলেন্সের মতো পরিষেবা।

চিকিৎসা ছাড়াও একাডেমিক কার্যক্রমে গুরুত্ব দেয় ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশন। জাতীয় অধ্যাপক আবদুল মালিকের উদ্দেশ্য ছিল হৃদরোগের চিকিৎসায় দক্ষ জনশক্তি তৈরি করা। সে ধারাবাহিকতায় যুক্ত করা হয়েছে এমডি (কার্ডিওলজি), এমএস (কার্ডিওথোরাসিক সার্জারি) এবং ডি কার্ডের সুযোগ। বিশেষ একাডেমিক কাউন্সিলের অধীনে পরিচালিত হয় ডাক্তারদের জন্য পোস্টগ্র্যাজুয়েশন কোর্স, প্রশিক্ষণার্থীদের জন্য কার্ডিওভাসকুলার রোগের ওপর সার্টিফিকেট কোর্স, ডাক্তারদের জন্য প্রশিক্ষণ কোর্স, টেকনিশিয়ানদের জন্য প্রশিক্ষণ কোর্স এবং কার্ডিয়াক নার্সিংয়ের ওপর ডিপ্লোমা অ্যান্ড অ্যাডভান্স প্রশিক্ষণ।

ঢাকার বাইরে বিভিন্ন জেলায় এ ফাউন্ডেশনের ৪১টি শাখা রয়েছে। এছাড়া ক্রমবর্ধমান কার্ডিয়াক রোগীদের চিকিৎসার সুবিধার্থে দারুস সালাম রোডে প্রতিষ্ঠিত হচ্ছে ১৫তলা বিশিষ্ট নতুন হাসপাতাল। সভাপতিসহ আট সদস্যের একটি কার্যনির্বাহী পরিষদ এবং ১৪ সদস্যের একটি উপদেষ্টা পরিষদের মাধ্যমে ফাউন্ডেশনটি পরিচালিত হয়। তাদের তত্ত্ববধানেই হৃদরোগসংক্রান্ত গবেষণা কার্যক্রম অব্যাহত। নিয়মিত প্রকাশিত হয় জার্নাল। বছরে একবার আয়োজন করা হয় কনফারেন্স। বিভিন্ন মিডিয়ার মাধ্যমে চলে সচেতনতা বৃদ্ধির প্রক্রিয়া। এর অংশ হিসেবেই ফাউন্ডেশন থেকে প্রতি ছয় মাস পর পর বের হয় হৃদরোগ বার্তা। এছাড়া প্রতি বছরই পালন করা হয় বিশ্ব হৃদরোগ দিবস, উচ্চ রক্তচাপ দিবস, লবণ সচেতনতা সপ্তাহ এবং বিশ্ব তামাকমুক্ত দিবস।

ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশন হৃৎরোগ চিকিৎসার উন্নয়নের জন্য গবেষণা ও প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করে চলেছে।

আরও