বিশ্বের সবচেয়ে সাশ্রয়ী টেলিকম সেবা দিতে চায় ভারত

তথ্যপ্রযুক্তি খাতের উন্নয়নের সঙ্গে তাল মিলিয়ে পরিষেবার পরিধি বাড়াতে কাজ করছে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ।

তথ্যপ্রযুক্তি খাতের উন্নয়নের সঙ্গে তাল মিলিয়ে পরিষেবার পরিধি বাড়াতে কাজ করছে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ। এর অংশ হিসেবে ২০২২ সালে আনুষ্ঠানিকভাবে ফাইভজি নেটওয়ার্ক চালু করে ভারত। চালুর পর থেকে প্রতিনিয়ত এ নেটওয়ার্ক ব্যবহারকারীর সংখ্যা বাড়ছে। এবার বিশ্ববাজারে সবচেয়ে সাশ্রয়ী টেলিকম সেবা দেয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে দেশটি। ভারতের তথ্যমন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণব সম্প্রতি নিজ দেশের এমন কথা জানিয়েছেন। খবর ইটি টেলিকম। 

ইন্ডিয়া মোবাইল কংগ্রেস ২০২৩-এ গণমাধ্যমকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে অশ্বিনী বৈষ্ণব বলেন, ‘সরকারি পর্যায় থেকে আমাদের অবস্থান খুবই পরিষ্কার। আমরা চাই বিশ্বের অন্যান্য দেশের তুলনায় ভারতের টেলিকম পরিষেবা সবচেয়ে সাশ্রয়ী হবে। সেই সঙ্গে এটি বলতে চাই, বর্তমানে বিশ্বের অন্যান্য বড় অর্থনীতির দেশগুলোর তুলনায় ভারতের টেলিকম খাত সাশ্রয়ী।’ 

টেলিকম খাতের সংস্থা সেলুলার অপারেটরস অ্যাসোসিয়েশন অব ইন্ডিয়া বলছে, গত বছর চালু হওয়ার পর থেকে টেলিকম অপারেটররা ফাইভজি পরিষেবা থেকে সেভাবে আয় করতে পারেনি। 

বিশ্লেষকদের মতে, ফাইভজি নেটওয়ার্কের পরিধি বাড়াতে টেলি নেটওয়ার্ক পরিষেবা কোম্পানিগুলো বড় বিনিয়োগ করছে। বর্তমানে ভারতের কোম্পানিগুলো গ্রাহকপ্রতি ১৪০-২০০ রুপি মুনাফা করছে। যেখানে এর বৈশ্বিক গড় ৬০০-৮৫০ রুপি এবং চীনে এর হার ৫৮০ রুপি। 

টেলিকম অপারেটরদের দাবি, ভারতে চার থেকে পাঁচটি অ্যাপে ব্যবহারকারী বা ট্রাফিক সবচেয়ে বেশি। এসব অ্যাপ দেশটিতে ভালো ব্যবসা করছে। বর্তমানে মোবাইল নেটওয়ার্ক পরিষেবা দিচ্ছে চারটি কোম্পানি। এর মধ্যে শুধু ভারতী এয়ারটেল ও রিলায়েন্স জিও ফাইভজি চালু করেছে। স্পেকট্রামসহ এ দুটি কোম্পানির সম্মিলিত বিনিয়োগ ৩ লাখ কোটি রুপিরও বেশি। দুটি কোম্পানির কেউ-ই এখন পর্যন্ত ফাইভজি ডাটা ব্যবহারের জন্য আলাদা কোনো ফি নিচ্ছে না। 

ঋণে জর্জরিত ভোডাফোন আইডিয়ার অতিরিক্ত পরিচালক কুমার মঙ্গলম জানিয়েছেন, তার প্রতিষ্ঠান ফাইভজি নেটওয়ার্ক চালু এবং ফোরজির কাভারেজ আরো বাড়াতে উল্লেখযোগ্য হারে বিনিয়োগ অব্যাহত রাখবে। অন্যদিকে বৈষ্ণব জানান, বিএসএনএলও শিগগিরই ফোরজি নেটওয়ার্ক চালু করবে এবং পরবর্তী সময়ে ফাইভজিতে রূপান্তর করবে। 

সিক্সজি নিয়ে ভারতের পরিকল্পনা কী—এমন প্রশ্নের উত্তরে বৈষ্ণব জানান, এ নেটওয়ার্কে নেতৃস্থানীয় অবস্থান তৈরিতে ভারতের প্রধানমন্ত্রী একটি লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছেন। আন্তর্জাতিক টেলিকম ইউনিয়ন ভারতের সিক্সজি ভিশন তৈরি ও গ্রহণ করেছে। এছাড়া সিক্সজি নিয়ে কাজ করার জন্য বিভিন্ন শিল্প খাত, একাডেমিয়া ও শিক্ষার্থীদের নিয়ে জোট তৈরি করা হয়েছে। 

বৈষ্ণব বলেন, ‘আমরা স্পেকট্রাম অব থিংসকে পাঁচ-ছয়টি গ্রুপে ভাগ করেছি। প্রতিটিতে অ্যান্টেনা গ্রুপ, ওয়েভফর্ম গ্রুপ, ইকুইপমেন্ট গ্রুপ রয়েছে। যারা নতুন প্রযুক্তির উন্নয়নে গুরুত্বের সঙ্গে কাজ করছে। প্রধানমন্ত্রীর লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য পরিষ্কার। সিক্সজি প্রযুক্তিতে ভারত নেতৃস্থানীয় পর্যায়ে থাকবে।’

আরও