সিপিডির সংলাপে বক্তারা

১৩ বছরে জ্বালানি খাতে বিদেশী বিনিয়োগ ৩০ বিলিয়ন ডলার

বিগত ১৩ বছরে বাংলাদেশে জ্বালানি খাতে ইংল্যান্ড, হংকং, নেদারল্যান্ডস, আমেরিকা ও চীনের প্রায় ৩০ বিলিয়ন ডলার বিদেশী বিনিয়োগ হয়েছে। ২০২২ সালেই দেশে ৩ হাজার ৪৭৯ দশমিক ৯৫ মিলিয়ন ডলারের বিদেশী বিনিয়োগ এসেছে।’ যা আগের বছরের তুলনায় ২০ দশমিক ২ শতাংশ বেশি।

বিগত ১৩ বছরে বাংলাদেশে জ্বালানি খাতে ইংল্যান্ড, হংকং, নেদারল্যান্ডস, আমেরিকা ও চীনের প্রায় ৩০ বিলিয়ন ডলার বিদেশী বিনিয়োগ হয়েছে। ২০২২ সালেই দেশে ৩ হাজার ৪৭৯ দশমিক ৯৫ মিলিয়ন ডলারের বিদেশী বিনিয়োগ এসেছে।’ যা আগের বছরের তুলনায় ২০ দশমিক ২ শতাংশ বেশি।

গতকাল বাংলাদেশে নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে বিদেশী বিনিয়োগের সুযোগ ও চ্যালেঞ্জ: চীনের কেস স্টাডি শীর্ষক সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) ভার্চুয়াল সংলাপে এসব তথ্য জানানো হয়েছে। সভায় মূল প্রবন্ধ তুলে ধরেন সিপিডির রিসার্চ অ্যাসোসিয়েট মাশফিক আহসান হৃদয়। 

সিপিডি বলছে, বিদেশী বিনিয়োগের বেশির ভাগই হয়েছে জীবাশ্ম জ্বালানিকেন্দ্রিক। অন্যদিকে বাংলাদেশ ২০৩০ সাল নাগাদ ৩০ শতাংশ ও ২০৪১ সাল নাগাদ ৪০ শতাংশ রিনিউয়েবল বা নবায়নযোগ্য জ্বালানি ব্যবহার করতে আগ্রহী। এ খাতে বিদেশী বিনিয়োগের ব্যাপক সম্ভাবনা রয়েছে।  মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করে মাশফিক আহসান বলেন, ‘‌বিদেশী বিনিয়োগ আনতে হলে একটি দেশে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা, অবকাঠামোগত উন্নয়ন, দক্ষ জনবল, বিনিয়োগবান্ধব প্রণোদনা প্রয়োজন। বিদেশী বিনিয়োগকারীদের জন্য করছাড়সহ বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা দেয় বাংলাদেশ সরকার। তবে বিনিয়োগকারীরা আমলাতান্ত্রিক জটিলতা, সেবাপ্রাপ্তিতে ধীরগতিসহ একাধিক জটিলতার সম্মুখীন হন। তা সত্ত্বেও জ্বালানি খাতে ২০২২ সালে ৩ হাজার ৪৭৯ দশমিক ৯৫ মিলিয়ন ডলারের বিদেশী বিনিয়োগ এসেছে, যা আগের বছরের তুলনায় ২০ দশমিক ২ শতাংশ বেশি।’

নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে বিদেশী বিনিয়োগ বাড়ানোর প্রস্তাব তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘‌বিশ্বমানের প্রকল্প প্রোফাইল তৈরি করে ভেস্টাস, সিমেন্সের মতো বহুজাতিক প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ করতে হবে। বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা) ছাড়াও আরেকটি বিনিয়োগ আকৃষ্ট এজেন্সি তৈরি করা, বিদেশী বিনিয়োগকারীদের আস্থা অর্জনের জন্য সরকারের বিনিয়োগ বৃদ্ধি (পিপিপি পদ্ধতির অধীনে হতে পারে), বিনিয়োগকারীদের হয়রানি কমাতে ওয়ান স্টপ ইনভেস্টমেন্ট সার্ভিস সেন্টার, অবকাঠামো উন্নয়ন, প্রযুক্তি হস্তান্তর এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টির সুবিধার্থে চাকরি প্রার্থীদের প্রশিক্ষণের ওপর জোর দেয়া।’ 

সেমিনারে ঢাকায় নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন বলেন, ‘‌নবায়নযোগ্য জ্বালানির ক্ষেত্রে বাংলাদেশে বিনিয়োগের সুযোগ অনেক। সম্প্রতি চীনের ‘বেল্ট’ কর্মসূচির দশ বছর পূতি হয়েছে। বাংলাদেশ দক্ষিণ এশিয়ার একমাত্র দেশ যারা বেল্টে অংশগ্রহণ করেছে। আমরা বদ্ধপরিকর নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে সহায়তা করতে।’ তিনি আরো বলেন, ‘‌চীনের ১ দশমিক ১ বিলিয়ন কিলোওয়াটের নবায়নযোগ্য জ্বালানির সক্ষমতা রয়েছে। যা দেশের মোট বিদ্যুৎ সক্ষমতার ৪০ শতাংশ এবং বিশ্বের নবায়নযোগ্য জ্বালানির ৩০ শতাংশ। আমরা পানিবিদ্যুৎ, জলবিদ্যুৎ, বায়ুবিদ্যুৎ নিয়েও কাজ করছি।’ স্মার্ট বাংলাদেশ ও ২০৪১ সালে বাংলাদেশের নবায়নযোগ্য জ্বালানির লক্ষ্যমাত্রা পূরণে পাশে থাকবেন বলেও মন্তব্য করেন তিনি। 

এর আগে স্বাগত বক্তব্যে গবেষণা পরিচালক ড. খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম বলেন, ‘‌চীন নবায়নযোগ্য জ্বালানি ব্যবহারে গ্লোবাল লিডার। অন্যদিকে বাংলাদেশ এর বিপরীতে। নবায়নযোগ্য জ্বালানি ব্যবহারে ১৯০টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান ১১১। চীনের এ উন্নতি থেকে বাংলাদেশের অনেক কিছু শেখার আছে। বাংলাদেশের নবায়নযোগ্য জ্বালানির ক্ষেত্রে বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ রয়েছে। তবে তারা জানে না যে কীভাবে এ দেশে বিনিয়োগ করতে হবে। অর্থায়নের ক্ষেত্রে যারা দেশে ছোট ছোট বিনিয়োগকারী রয়েছে তারা নানা ভ্যাট-ট্যাক্স সংক্রান্ত ঝামেলায় পড়ছে।’

তিনি আরো বলেন, ‘‌এগুলো বিদেশী বিনিয়োগকারীদের ঝামেলার কারণ হতে পারে। আইনকানুনে অনেক জটিলতা রয়েছে, যেগুলোর কারণে বিনিয়োগকারীরা যথাযথ সুবিধা পাচ্ছেন না। সে জায়গাগুলোয় নীতিনির্ধারকদের কাজ করতে হবে। পাশাপাশি জাতীয় রাজস্ব নীতিকাঠামোকে ঠিক করতে হবে। অর্থায়নের জন্য কেন্দ্রীয় ব্যাংককে আরো জোরালো ভূমিকা রাখতে হবে। প্রকল্প বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে আরো সক্রিয় ভূমিকা রাখতে হবে।’

প্রধান অতিথির বক্তব্যে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি ওয়াসিকা আয়েশা খান বলেন, ‘‌বর্তমান সরকার নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে অনেক গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছে। তবে আমরা লক্ষ্যমাত্রা থেকে পিছিয়ে আছি। দেশে বিনিয়োগের যথাযথ পরিবেশ রয়েছে। তবে আমাদের মাথায় রাখতে হবে, আমরা যেন আবার পুরনো প্রযুক্তির ভারে ভারাক্রান্ত না হই। সেজন্য এখানে নতুন নতুন প্রযুক্তি আনতে হবে। সেটা নবায়নযোগ্য জ্বালানির ক্ষেত্রেও।’

আরও