আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেছেন, ‘ক্ষমতার স্বপ্ন দেখিয়ে কোনো লাভ নেই। ফখরুল সাহেব দিল্লি বহুদূর। ক্ষমতার পথ আপনারাই বন্ধ করে দিয়েছেন। পিটার হাস কী করবেন—ভিসা নীতি দেবেন, নিষেধাজ্ঞা দেবেন? তার মুরব্বিদের সঙ্গে আমাদের কথা হয়ে গেছে। আমেরিকার মুরব্বি যারা, তাদের সঙ্গে কথাবার্তা শেষ।’ ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগের শান্তি সমাবেশে গতকাল তিনি এ কথা বলেন।
বিএনপিকে আমেরিকা রোগে পাইছে মন্তব্য করে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘আর কাউকে তো এ রোগে পায় না। ওভাবে আমেরিকানরাও আসে না, পাত্তা দেয় না। দৌড়ে যায় পিটার হাসের কাছে। সকালে ঘুম থেকে উঠে পিটার হাস, দুপুরে লাঞ্চ করতে পিটার হাস, রাতে ডিনার করতে পিটার হাস। আমি জানি না, তিনি ফখরুলকে কী স্বপ্ন দেখিয়েছেন। আমাদের তারও উচ্চপর্যায়ে কথাবার্তা হয়ে গেছে। তলে তলে যখন সব শেষ, তখন আর এসব করে লাভ কী? পিটার হাসকে দেখিয়ে নির্বাচন বন্ধ করবেন, ঢাকায় তাণ্ডব করবেন, সেই খেলা খেলতে দেব না। সেই খেলা সন্ত্রাসের খেলা, বিএনপিকে সেই খেলা খেলতে দেব না।’
নেতাকর্মীদের উদ্দেশে আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক বলেন, ‘এখন কোয়ার্টার ফাইনাল, সামনে সেমিফাইনাল, ফাইনাল হবে জানুয়ারিতে। খেলা হবে সারা ঢাকায়, খেলা হবে চট্টগ্রামে, খেলা হবে সিলেটে, খেলা হবে রাজশাহীতে, খেলা হবে বরিশালে, খেলা হবে খুলনায়, খেলা হবে সারা বাংলায়। ঠিক আছে? ফাইনাল পর্যন্ত খেলতে হবে। এখনই ক্লান্ত হলে চলবে না।’
ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘মির্জা ফখরুলের সর্বশেষ বক্তৃতা শুনে মনে হলো তিনি এখনো তত্ত্বাবধায়ক সরকারের মরা লাশ নিয়ে টানাটানি করছেন। তত্ত্বাবধায়ক সরকার মরা লাশ। আজিমপুরের গোরস্থানে চিরনিদ্রায় শায়িত। গোরস্থান থেকে ফখরুল এখন ওই মরা লাশ টেনে আনছেন। কিন্তু এ মরা লাশে মুক্তি আসবে না।’
বিএনপি মহাসচিবকে উদ্দেশ করে আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক বলেন, ‘নির্বাচন হবে বাংলাদেশে। বঙ্গবন্ধু কন্যা বেঁচে থাকলে এ দেশে নির্বাচন কেউ বন্ধ করতে পারবে না। নির্বাচন হবে, শান্তিপূর্ণ হবে। এ দেশে নজিরবিহীন উন্নয়ন করেছেন শেখ হাসিনা। এ দেশে নজিরবিহীন নিরপেক্ষ নির্বাচন শেখ হাসিনাই করবেন। নজিরবিহীন নিরপেক্ষ নির্বাচন হবেই। ফখরুল সাহেব, নির্বাচনে না এলে আমও যাবে ছালাও যাবে, দুটোই হারাবেন। দুনিয়াব্যাপী আপনারা বদনাম করেছেন, দেশে দেশে বদনাম করছেন, বদনাম গোছানোর জন্য শেখ হাসিনা এমন নির্বাচন করবেন, যে নির্বাচন হবে নজিরবিহীন। ফখরুল সাহেব, হারালে আর পাবেন না।’
২০০৪ সালের ২১ আগস্টের কথা স্মরণ করে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘আজ এখানে দাঁড়ালে বিএনপির সেই নৃশংস চরিত্র আমাদের চোখের সামনে আসে। এ বিএনপি গ্রেনেড মেরে আমাদের নেত্রীকে হত্যা করতে চেয়েছিল। আমাদের ২৩টি প্রাণ সেদিন রক্তাক্ত করেছিল। আমাদের অনেক নেতাকর্মী আহত হয়েছিলেন। এই সেই বঙ্গবন্ধু এভিনিউ, এখানে এলে বিএনপি কত ভয়ংকর, বিএনপি কত নিষ্ঠুর, সেই ছবি আমরা বারবার দেখতে পাই। কাজেই প্রস্তুত থাকতে হবে, সবদিক থেকেই খেলা হবে। ওরা ফাউল করবে, ফাউলের জবাব দিতে হবে। লালকার্ড দেখাতে হবে।’
ইউরেনিয়াম নিয়ে সম্প্রতি নিজের দেয়া বক্তব্যের ব্যাখ্যায় ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘সেদিন বলেছিলাম, রূপপুর ইউরেনিয়ামের চালান আসছে। ফখরুল, মির্জা আব্বাস, মঈন খানরা বলেন, ‘রূপপুর বন্ধ করে দেবে। ইউরেনিয়াম যেটা আছে সেটা সারা দুনিয়া স্বীকৃত। এ রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ, আমরা ইউরেনিয়াম ক্লাবে ৩৩ নম্বরে যুক্ত হয়েছি। এ পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র তারা বন্ধ করে দিতে চায়। আমরা কোটি কোটি টাকার ইউরেনিয়াম কেন আনলাম, এজন্য বলেছি ওদের মাথার ওপর ঢালব। ফখরুল, মির্জা আব্বাসরা গরম হয়ে যান, তাদের মাথার ওপর ঢালতে হবে।’