নাগরিক প্লাটফর্মের মিডিয়া ব্রিফিং

দেশে ১৫ বছরে সম্পদ ও ভোগের বৈষম্য বেড়েছে

১৫ বছরের উন্নয়নের অভিজ্ঞতায় এটা প্রকাশ্য যে দেশে প্রবৃদ্ধির সঙ্গে বৈষম্যও বেড়েছে। সম্পদ, অর্থ বৈষম্যর সঙ্গে ভোগ বৈষম্যও বেড়েছে বলে মন্তব্য করেছেন সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) বিশিষ্ট ফেলো ও নাগরিক প্লাটফর্মের আহ্বায়ক ড.‌‌ দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য।

১৫ বছরের উন্নয়নের অভিজ্ঞতায় এটা প্রকাশ্য যে দেশে প্রবৃদ্ধির সঙ্গে বৈষম্যও বেড়েছে। সম্পদ, অর্থ বৈষম্যর সঙ্গে ভোগ বৈষম্যও বেড়েছে বলে মন্তব্য করেছেন সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) বিশিষ্ট ফেলো ও নাগরিক প্লাটফর্মের আহ্বায়ক ড.‌‌ দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য।

গতকাল রাজধানীর ব্র্যাক সেন্টারে ‘‌অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়ন ও ন্যায্যতার লক্ষ্যে নাগরিক এজেন্ডা: শিক্ষা, স্বাস্থ্য, জলবায়ু পরিবর্তন এবং সামাজিক সুরক্ষা’ শীর্ষক মিডিয়া ব্রিফিংয়ে তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন মানুষের জন্য ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক শাহীন আনাম। সঞ্চালনা করেন নাগরিক প্লাটফর্ম ও সিপিডির ফেলো অধ্যাপক মোস্তাফিজুর রহমান। অনুষ্ঠানে শিক্ষা, স্বাস্থ্য, জলবায়ু ও সামাজিক সুরক্ষায় সব শ্রেণীর মানুষের অন্তর্ভুক্তির বিষয়ে চারটি পৃথক প্রতিবেদন উপস্থাপন করা হয়।

ড.‌‌ দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য আরো বলেন, ‘‌বৈষম্যের ফলে কিছু মানুষ ধারাবাহিকভাবে প্রান্তিক পর্যায়ে রয়ে গেছে। এসব মানুষ শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও সরকারের বিভিন্ন সহযোগিতা সুবিধা পাওয়ার ক্ষেত্রেও অগ্রগামী হতে পারেনি। এটাই বাস্তবতা।’

দেশের মধ্যবিত্ত সমাজ দুর্বল হওয়ার হওয়ার ফলেই অলিগার্কদের উত্থান হয়েছে বলে মনে করছেন ড.‌‌ দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য। এ বিষয়ে তিনি বলেন, ‘‌বাংলাদেশের মধ্যবিত্ত সমাজ দুর্বল হয়ে গেছে। এর সামাজিক, অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক তাৎপর্য রয়েছে। দেশের ইতিহাস ও ঐতিহ্যের দিকে তাকালে দেখা যাবে, সাংস্কৃতিক মান, রাজনৈতিক মূল্যবোধ ও অর্থনৈতিক সঞ্চালনের সব জায়গায় আমাদের বিকাশমান মধ্যবিত্ত শ্রেণীর সবসময় বড় ভূমিকায় ছিল। কিন্তু এখন তাদের ভূমিকা নির্জীব হয়ে গেছে। আর মধ্যবিত্তদের নির্জীব হওয়ার ফলে অলিগার্কদের উত্থান হয়েছে। এ অলিগার্করা অত্যন্ত বিত্তবান, রাজনৈতিকভাবে প্রভাবশালী ও আন্তর্জাতিকভাবে যুক্ত।’ 

তিনি বলেন, ‘‌বিপন্ন মানুষের কণ্ঠস্বর সক্ষমভাবে উচ্চ জায়গায় পৌঁছাতে পারেনি। তাই অনেকের জীবনমান পরিবর্তন হয়নি। উন্নয়নের মধ্যে ন্যায্যতা আনতে হবে, এটা ফিরিয়ে আনাই পরবর্তী প্রজন্মের মূল চ্যালেঞ্জ। অর্থাৎ পিছিয়ে পড়া মানুষের হিস্যা যদি জোরদার করতে না পারি, তাহলে ওই উন্নয়ন প্রকৃত উন্নয়ন হয় না। সেটা মানবিক সমাজ বা ‍মুক্তিযুদ্ধের চেতনার সমাজ হয় না।’

ড.‌‌ দেবপ্রিয় বলেন, ‘‌পিছিয়ে পড়া মানুষের কণ্ঠস্বর কার্যকর করতে হলে গণতান্ত্রিক জবাবদিহিতা আনতে হবে। না আনতে পারলে আমাদের ওই ঘাটতি কখনই পূরণ করতে পারব না। গণতান্ত্রিক জবাবদিহিতায় পিছিয়ে পড়া মানুষের কণ্ঠস্বরকে শক্তিশালী করার জায়গা দেয়।’

তিনি আরো বলেন, ‘‌পরামর্শ দেয়ার ক্ষেত্রে ২০১৪ ও ২০১৮ সালের প্রাক-নির্বাচনের সময় পরিস্থিতির কারণে উৎসাহবোধ করিনি। কিন্তু এবারে নির্বাচনের প্রাক্কালে গত দেড় দশকের উন্নয়নের অভিজ্ঞতা আমরা মূল্যায়ন করার চেষ্টা করেছি। এটা করতে যেয়ে আমাদের মনে হয়েছে, জাতীয় উন্নয়নের যে আখ্যান বা বয়ান আমরা সর্বদা শুনি, সেটা কতখানি সত্যি ও মজবুত সেটা বোঝা প্রয়োজন। সেটা বুঝতে গিয়ে বাংলাদেশের সাতটি জায়গায় বিপন্ন ও পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর প্রায় ৫০০ জন মানুষের সঙ্গে আলোচনা করেছি।’

সভাপতির বক্তব্যে মানুষের জন্য ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক শাহীন আনাম বলেন, ‘‌দেশের উন্নয়ন বিশ্বনন্দিত হলেও আমরা মানবিক সমাজ গড়তে পেরেছি কিনা সেখানে প্রশ্ন রয়েছে। আমাদের দেশে এমন অনেক মানুষ রয়েছে, যারা ন্যায়বিচার থেকে বঞ্চিত এবং তাদের মৌলিক অধিকারও লঙ্ঘিত হয়।’

আরও