সিপিডির সংলাপে বক্তারা

ঢাকায় ২ ঘণ্টায় ৪৬ মিনিট যানজটে থাকতে হয়

ঢাকা শহরের রাস্তায় প্রতি ২ ঘণ্টায় ৪৬ মিনিট যানজটে থাকতে হয় বাসিন্দাদের। ফলে জ্বালানি পুড়ছে, সময় অপচয় হচ্ছে এবং বায়ুদূষণ হচ্ছে। একই সঙ্গে নষ্ট হচ্ছে উৎপাদনশীলতা। আর বায়ুদূষণের ফলে স্বাস্থ্যের যে ক্ষতি হচ্ছে তার চিকিৎসায় একজন মানুষকে বছরে ৪ হাজার টাকা খরচ করতে হচ্ছে। গতকাল রাজধানীর ব্র্যাক সেন্টারে ‘সবুজ নগরীর জন্য দূষণ হ্রাস’ শীর্ষক সংলাপের মূল প্রবন্ধে এসব তথ্য তুলে ধরে সিপিডি।

ঢাকা শহরের রাস্তায় প্রতি ২ ঘণ্টায় ৪৬ মিনিট যানজটে থাকতে হয় বাসিন্দাদের। ফলে জ্বালানি পুড়ছে, সময় অপচয় হচ্ছে এবং বায়ুদূষণ হচ্ছে। একই সঙ্গে নষ্ট হচ্ছে উৎপাদনশীলতা। আর বায়ুদূষণের ফলে স্বাস্থ্যের যে ক্ষতি হচ্ছে তার চিকিৎসায় একজন মানুষকে বছরে ৪ হাজার টাকা খরচ করতে হচ্ছে। গতকাল রাজধানীর ব্র্যাক সেন্টারে ‘সবুজ নগরীর জন্য দূষণ হ্রাস’ শীর্ষক সংলাপের মূল প্রবন্ধে এসব তথ্য তুলে ধরে সিপিডি।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের উপমন্ত্রী হাবিবুন নাহার। সিপিডি নির্বাহী পরিচালক ফাহমিদা খাতুনের সঞ্চালনায় গবেষণাপত্র উপস্থাপনা করেন সিনিয়র রিসার্চ ফেলো সৈয়দ ইউসুফ সাদাত। 

উপমন্ত্রী হাবিবুন নাহার বলেন, ‘‌সড়ক তৈরিতে প্রধানমন্ত্রীকে ধোঁকা দিয়ে ফাইল পাস করে গাছ কাটা হয়। প্রধানমন্ত্রী এখন বুঝে গেছেন। কোনো ফাইল এলেই সেই প্রকল্পে গাছ কাটা হচ্ছে কিনা, পরিবেশের ক্ষতি হচ্ছে কিনা, তা যাচাই করে পাস করেন। পরিবেশসম্মত নয়, এমন অনেক ফাইল তিনি ফিরিয়ে দিয়েছেন।’

উপমন্ত্রী আরো বলেন, ‘‌আমাদের আইন অনেক আছে, কিন্তু বাস্তবায়নের দিকে মনোযোগ নেই। এটা শুধু পরিবেশ মন্ত্রণালয়ের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়, সব ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। আমাদের আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হতে হবে। শ্রদ্ধাশীল না হলে অনেক মত ও পথ থাকলেও লক্ষ্য পূরণ হচ্ছে না। পরিবেশের উন্নয়নে আগে মানুষকে সচেতন হতে হবে। সচেতন না হলে গোলটেবিলে পরিবেশ রক্ষার কথা বলে বাসায় গিয়ে পরিবেশ দূষণে পলিথিন ব্যবহার করবে। সচেতন না হলে আইন দিয়ে পলিথিন উৎপাদন বন্ধ করা যাবে না, ব্যবহার বন্ধ হবে না। এর থেকে সৃষ্ট পরিবেশেরও ক্ষতি রোধ করা যাবে না।’

সিপিডির নির্বাহী পরিচালক ফাহমিদা খাতুন বলেন, ‘‌আমাদের অর্থনৈতিক উন্নতি হয়েছে বটে, কিন্তু তা হচ্ছে পরিবেশকে ধ্বংস করে। পরিবেশ না বাঁচিয়ে উন্নয়ন করলে সে উন্নয়ন টেকসই হবে না।’

বক্তারা জানান, ‘‌পরিবেশ দূষণের প্রধান দুটি উৎস হলো বায়ু ও পলিথিন। এছাড়া নির্মাণকাজ, যানবাহন, শিল্প-কারখানা, ইটভাটা থেকে পরিবেশের ক্ষতি হচ্ছে। ঘরের বাইরে বা ভেতরে দুই পর্যায়েই হচ্ছে ক্ষতি। ঘরের ভেতরে ইলেকট্রনিক পণ্য, ফ্রিজ, ফ্যান, এমনকি বাজারে ব্যবহৃত পলিথিন ঘরে এসে পরিবেশের ক্ষতি করছে। এ ক্ষতি মারাত্মকভাবে শিশুদেরও ওপর পড়ছে। এ ক্ষতি থেকে মুক্তি পেতে আইনি পদক্ষেপ যেমন দরকার, আবার সচেতনতাও দরকার। 

মূল প্রবন্ধে অর্থনৈতিক, নিয়ন্ত্রক, প্রাতিষ্ঠানিক ও সামাজিক বিভিন্ন পদক্ষেপ নেয়ার সুপারিশ করা হয় বায়ু ও প্লাস্টিক দূষণ সমস্যা মোকাবেলায়। এসব সুপারিশের মধ্যে রয়েছে ইটভাটা ও কয়লাচালিত বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র পর্যায়ক্রমে বন্ধ করে দেয়া। পাঁচ বছরের মধ্যে পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর ইটভাটা তুলে দেয়া। সরকার যে ১০টি কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র বন্ধ করে দেয়ার কথা ভাবছে, সেগুলো নতুন করে চালু না করা। কয়লা থেকে সরে এসে যেসব উৎপাদনকারী নবায়নযোগ্য বিদ্যুৎ উৎপাদনে আসবে তাদের প্রণোদনা দেয়া। যারা প্লাস্টিক পণ্য উৎপাদন ও বিক্রি করছে তাদের শাস্তির আওতায় আনা। প্লাস্টিক পণ্য বাদ দিয়ে বিকল্প পরিবেশসম্মত কাগজ বা কাপড়ের পণ্য উৎপাদন করতে চাইলে তাদের প্রয়োজনীয় প্রণোদনা দেয়া। প্রয়োজনে সহজ শর্তে ঋণ দেয়া। পরিবেশ দূষণকারীদের আর্থিক দণ্ডের আওতায় আনা এবং অন্য যেসব শাস্তির আওতায় আনা যাবে সেগুলো নিশ্চিত করা। এছাড়া জনসচেতনতা তৈরিতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া।

আরও