রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াকে বিদেশে নিয়ে উন্নত চিকিৎসা করাতে তার পরিবারের পক্ষ থেকে সরকারের কাছে আবার আবেদন করা হয়েছে। গত মঙ্গলবার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে এ আবেদন করা হয়। তবে এ প্রসঙ্গে আইনমন্ত্রী আনিসুল হক বলেছেন, ‘আইনে এর কোনো সুযোগ নেই। তবে খালেদা জিয়াকে আবারো শর্তযুক্ত মুক্তি দেয়া হবে।’
প্রায় এক মাস হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। তার শারীরিক অবস্থার ক্রমাগত অবনতি হওয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য দেশের বাইরে নিতে তৎপরতা শুরু করেছেন পরিবারের সদস্যরা। আবারো সরকারের শীর্ষ পর্যায়ে যোগাযোগ করার বিষয়ে পারিবারিক ও দলের শীর্ষ পরিমণ্ডলে আলোচনা শুরু হয়েছে বলে জানিয়েছে দল ও পরিবারের বেশ কয়েকটি সূত্র।
বিদেশে চিকিৎসার ফের আবেদন প্রসঙ্গে খালেদা জিয়ার একান্ত সচিব এবিএম আবদুস সাত্তার গতকাল বণিক বার্তাকে বলেন, ‘গত ৫ সেপ্টেম্বর বেগম খালেদা জিয়ার পরিবারের পক্ষ থেকে বিদেশে চিকিৎসার জন্য আবেদন করা হয়েছে। তবে এ বিষয়ে সরকারের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত কোনো আপডেট জানানো হয়নি।’
খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থা প্রসঙ্গে তার ব্যক্তিগত চিকিৎসক ও বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন জানিয়েছেন, লিভার ও কিডনি সমস্যা আরো জটিল হওয়ায় খালেদা জিয়ার স্বাস্থ্যের অবস্থা নিয়ে তার চিকিৎসকরা শঙ্কিত।
সূত্র জানিয়েছে, খালেদা জিয়ার বিদেশে চিকিৎসা ও তার মুক্তির দাবিতে আবারো মাঠপর্যায়ে কর্মসূচি দেবে বিএনপি। এরই মধ্যে প্রতি ছয় মাস অন্তর মুক্তির মেয়াদ বাড়ানোর যে প্রক্রিয়া, তা সম্পন্ন করতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পরিবারের পক্ষ থেকে আবেদন করা হয়েছে।
খালেদা জিয়াকে স্থায়ী জামিন দিয়ে চিকিৎসার জন্য বিদেশে পাঠাতে পরিবারের আবেদন প্রসঙ্গে আইনমন্ত্রী আনিসুল হক বলেন, ‘আইনে এর কোনো সুযোগ নেই। আগামী ২৪ সেপ্টেম্বর বেগম খালেদা জিয়ার জামিনের ছয় মাসের মেয়াদ শেষ হবে। তাকে আগের মতো কারাদণ্ড স্থগিত রেখে আবারো শর্তযুক্ত মুক্তি দেয়া হবে।’
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবা উপজেলার বিনাউটি ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের বিশেষ বর্ধিত সভায় গতকাল তিনি এ মন্তব্য করেন।
গত বছরের জুনে খালেদা জিয়ার এনজিওগ্রাম করা হলে তার হৃদযন্ত্রে তিনটি ব্লক ধরা পড়ে। এর একটিতে রিং পরানো হয়। তিনি দীর্ঘদিন আর্থ্রাইটিস, ডায়াবেটিস, কিডনি, লিভার ও হৃদরোগে ভুগছেন। তার পরিপাকতন্ত্রে রক্তক্ষরণ ও লিভার সিরোসিসে আক্রান্ত হওয়ার কথা জানিয়েছিলেন মেডিকেল বোর্ডের চিকিৎসকরা। ২০২১ সালের এপ্রিলে কভিড-১৯-এ আক্রান্ত হওয়ার পর থেকে কয়েকবার নানা জটিলতার কারণে তাকে হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে হয়েছে।
জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় ২০১৮ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি খালেদা জিয়াকে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড দেন বকশীবাজার আলিয়া মাদ্রাসা মাঠে স্থাপিত ঢাকার ৫ নম্বর বিশেষ আদালত। রায় ঘোষণার পর খালেদাকে পুরান ঢাকার নাজিমউদ্দিন রোডে অবস্থিত পুরোনো কেন্দ্রীয় কারাগারে বন্দি রাখা হয়। ওই বছরের ৩০ অক্টোবর বিচারিক আদালতের রায়ের বিরুদ্ধে করা আপিলে আরো পাঁচ বছরের সাজা বাড়িয়ে ১০ বছর করেন হাইকোর্ট। একই বছরের ২৯ অক্টোবর জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় খালেদার সাত বছরের সাজা হয়।
২০২০ সালের ২৫ মার্চ সরকারের নির্বাহী আদেশে প্রথমবারের মতো শর্তসাপেক্ষে ছয় মাসের অন্তর্বর্তীকালীন মুক্তি পান খালেদা জিয়া। ওই বছরের সেপ্টেম্বরে তার মুক্তির মেয়াদ আরো ছয় মাস বাড়ানো হয়। এরপর দফায় দফায় বাড়ে তার মুক্তির মেয়াদ। সবশেষ গত মার্চ মাসে বাসায় থেকে চিকিৎসা নেয়া এবং বিদেশ যেতে না পারার দুটি শর্তই বহাল রেখে আরো এক দফা মুক্তির মেয়াদ বাড়ানোর আবেদনে সায় দেয় সরকার।