চাল রফতানি সীমিত করার পরিকল্পনা মিয়ানমারের

বিশ্বব্যাপী বাড়ছে চালের দাম। অভ্যন্তরীণ বাজার স্থিতিশীল রাখতে এরই মধ্যে চাল রফতানিতে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে বিশ্বের সবচেয়ে বড় চাল রফতানিকারক দেশ ভারত। পঞ্চম বৃহত্তম রফতানিকারক দেশ মিয়ানমারেও এখন চালের দাম বাড়ছে। অভ্যন্তরীণ মূল্য নিয়ন্ত্রণে দেশটি সাময়িকভাবে চাল রফতানি সীমিত করার পরিকল্পনা নিয়েছে। চলতি মাসের শেষ থেকে পরবর্তী ৪৫ দিনের জন্য এ সিদ্ধান্ত কার্যকর

বিশ্বব্যাপী বাড়ছে চালের দাম। অভ্যন্তরীণ বাজার স্থিতিশীল রাখতে এরই মধ্যে চাল রফতানিতে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে বিশ্বের সবচেয়ে বড় চাল রফতানিকারক দেশ ভারত। পঞ্চম বৃহত্তম রফতানিকারক দেশ মিয়ানমারেও এখন চালের দাম বাড়ছে। অভ্যন্তরীণ মূল্য নিয়ন্ত্রণে দেশটি সাময়িকভাবে চাল রফতানি সীমিত করার পরিকল্পনা নিয়েছে। চলতি মাসের শেষ থেকে পরবর্তী ৪৫ দিনের জন্য এ সিদ্ধান্ত কার্যকর থাকবে। দেশটির চাল ব্যবসায়ী ও রফতানিকারকদের সংগঠন মিয়ানমার রাইস ফেডারেশনের (এমআরএফ) এক জ্যেষ্ঠ সদস্যের বরাত দিয়ে গতকাল এ খবর প্রকাশ করে রয়টার্স।

এমআরএফের ওই জ্যেষ্ঠ সদস্য বলেন, ‘অভ্যন্তরীণ বাজার স্থিতিশীল রাখতে কিছুদিনের জন্য চাল রফতানি সীমিত করার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। আগস্টের শেষদিক থেকে আগামী ৪৫ দিন চালের রফতানি সীমিত থাকবে।’

চাল বাণিজ্যে মিয়ানমার ও বাংলাদেশের সরকার পর্যায়ে (জি টু জি) পাঁচ বছর মেয়াদী চুক্তি রয়েছে। দেশ দুটি ২০২২ সালের ৮ সেপ্টেম্বর এক সমঝোতা স্মারকে (এমওইউ) সই করে। এ স্মারক অনুসারে, ২০২২ থেকে ২০২৭ সালে বার্ষিক আড়াই লাখ টন সাদা চাল ও ৫০ হাজার টন সিদ্ধ চাল কিনতে সম্মত হয় বাংলাদেশ। এরপর গত বছরের ১২ ডিসেম্বর পর্যন্ত বাংলাদেশে ১৯টি জাহাজের মাধ্যমে মোট এক লাখ ৪৩ হাজার ২২৫ টন সাদা চাল রফতানি করে মিয়ানমার।

বিশ্বের সর্ববৃহৎ চাল রফতানিকারক দেশগুলোর মধ্যে রয়েছে ভারত, থাইল্যান্ড, ভিয়েতনাম, পাকিস্তান ও মিয়ানমার। জার্মানভিত্তিক তথ্যসেবা প্রতিষ্ঠান স্ট্যাটিস্টার তথ্য বলছে, ২০২২-২৩ মৌসুমে ভারত চাল রফতানি করেছে ২ কোটি ১৫ লাখ টন। এছাড়া থাইল্যান্ড ৮২ লাখ টন, ভিয়েতনাম ৬৮ লাখ টন, পাকিস্তান ৩৮ লাখ টন এবং মিয়ানমার ২৪ লাখ টন চাল রফতানি করে।

বৈশ্বিকভাবে চালের মূল্য বৃদ্ধি পেতে শুরু করলে গত বছর ভাঙা চাল রফতানিতে নিষেধাজ্ঞা দেয় ভারত সরকার। এর পাশাপাশি তখন বাসমতী নয় এমন চালের রফতানির ওপর ২০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করা হয়। এর পরও দেশটির অভ্যন্তরীণ বাজারে বাড়তে থাকে চালের দাম। গত বছরের অক্টোবর থেকে চলতি বছরের মে পর্যন্ত ভারতের অভ্যন্তরীণ বাজারে চালের দাম প্রায় ৩০ শতাংশ বৃদ্ধি পায়। দেশের ভেতরে চালের ঊর্ধ্বমুখী দাম সামাল দিতে চলতি বছরের ২০ জুলাই বাসমতী নয় এমন চাল রফতানিতেও নিষেধাজ্ঞা দেয় ভারত সরকার।

সম্প্রতি ইন্টারন্যাশনাল ফুড পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউট (আইএফপিআরআই) থেকে প্রকাশিত ‘ইন্ডিয়া’স নিউ ব্যান অন রাইস এক্সপোর্ট: পটেনশিয়াল থ্রেটস টু গ্লোবাল সাপ্লাই, প্রাইসেস, অ্যান্ড ফুড সিকিউরিটি’ শীর্ষক প্রতিবেদনে দেখা যায়, ১৫ বছর ধরে বিশ্বের সবচেয়ে বৃহত্তম চাল রফতানিকারক দেশ হয়ে উঠেছে ভারত। বিশ্বের প্রায় ৪২টি দেশ মোট চাল আমদানির ৫০ শতাংশেরও বেশি ভারত থেকে আমদানি করে। ২০২২-২৩ অর্থবছরে বিশ্বে মোট রফতানি হওয়া চালের প্রায় ৪০ শতাংশ রফতানি করেছে দেশটি।

আইএফপিআরআইয়ের প্রতিবেদনে বলা হয়, সবচেয়ে বড় রফতানিকারক দেশ হওয়ায় চাল রফতানিতে ভারতের নিষেধাজ্ঞা বিশ্বব্যাপী খাদ্য নিরাপত্তাহীনতা বৃদ্ধি করতে পারে। এছাড়া বিশ্বব্যাপী চালের মূল্য বৃদ্ধি পাবে।

ভারতের নিষেধাজ্ঞার পর মিয়ানমারের চাল রফতানি সীমিত করার পরিকল্পনায় বিশ্ববাজারে চালের মূল্য আরো বাড়তে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। পণ্যবাজারের মূল্য পরিস্থিতি নিয়ে বিশ্বব্যাংকের নিয়মিত প্রতিবেদনের (পিংকশিট) তথ্য অনুযায়ী, জুলাইয়ে প্রতি টন থাইল্যান্ডের ৫ শতাংশ ভাঙা চালের দাম ছিল ৫৪৭ ডলার। যদিও গত বছরের জুলাই-সেপ্টেম্বর প্রান্তিকে প্রতি টন চালের দাম ছিল ৪২৯ ডলার ৩ সেন্ট।

চট্টগ্রাম রাইস মিল মালিক সমিতির সভাপতি ফরিদ উদ্দিন আহমেদ বণিক বার্তাকে বলেন, ‘অভ্যন্তরীণ বাজার নিয়ন্ত্রণে রাখার উদ্দেশ্যে মিয়ানমার চালের রফতানি সীমিত করার সিদ্ধান্ত নিতে পারে। বাংলাদেশে বোরো ও আমনের ফলন ভালো হয়েছে। এ কারণে চালের সরবরাহ ভালো। চলতি আমন মৌসুমেও ভালো উৎপাদন হবে। সেজন্য বড় কোনো সমস্যা না হলে দেশে চালের সংকট তৈরি হবে না। আশা করছি, দাম স্বাভাবিক থাকবে।’

আরও