ডেঙ্গুতে আরো ১০ জনের মৃত্যু, রোগী ভর্তি ৬০ হাজার ছাড়াল

দেশে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে আরো ১০ জনের মৃত্যু হয়েছে। আর নতুন করে সারা দেশের হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে আরো ১ হাজার ৭৫৭ জন ডেঙ্গু রোগী। গতকাল সকাল ৮টা পর্যন্ত গত ২৪ ঘণ্টার ডেঙ্গুবিষয়ক এ তথ্য জানিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। এ বছর ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি রোগীর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াল ৬১ হাজার ৪৭৩-এ। তাদের মধ্যে ২৯৩ জনের মৃত্যু হয়েছে এডিস মশাবাহিত এ রোগে।

দেশে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে আরো ১০ জনের মৃত্যু হয়েছে। আর নতুন করে সারা দেশের হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে আরো ১ হাজার ৭৫৭ জন ডেঙ্গু রোগী। গতকাল সকাল ৮টা পর্যন্ত গত ২৪ ঘণ্টার ডেঙ্গুবিষয়ক এ তথ্য জানিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। এ বছর ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি রোগীর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াল ৬১ হাজার ৪৭৩-এ। তাদের মধ্যে ২৯৩ জনের মৃত্যু হয়েছে এডিস মশাবাহিত এ রোগে।

সরকারের তথ্য অনুযায়ী, ডেঙ্গুতে এক বছরে এত সংখ্যক রোগীর মৃত্যু আগে দেশে কখনো দেখা যায়নি। গত বছর ডেঙ্গুতে সর্বাধিক ২৮১ জনের মৃত্যু হয়েছিল। গত বৃহস্পতিবার ওই রেকর্ড ভেঙে যায়। ২০১৯ সালে সারা দেশে রেকর্ড ১ লাখ ১ হাজারের বেশি মানুষ ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়। তাদের মধ্যে মৃত্যু হয় ১৭৯ জনের। ২০২২ সালে মশাবাহিত এ রোগে আক্রান্ত হয়ে ৬২ হাজার ৩৮২ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিল। আর চলতি বছরের এ সময়ে এসে সে সংখ্যা অতিক্রম করছে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গতকাল হাসপাতালে ভর্তি হওয়া রোগীদের মধ্যে ৮৯২ জনই ঢাকার। বাকি ৮৬৫ জন ঢাকার বাইরের। যদিও গতকাল সাপ্তাহিক ছুটির দিন হওয়ায় রাজধানীর ১৪ হাসপাতাল ও বিভিন্ন জেলার তথ্য পাওয়া যায়নি। সাধারণত শুক্রবারের তথ্য শনিবার সন্নিবেশ করে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। এতে ওইদিন মৃত্যু ও রোগী ভর্তির সংখ্যা বেশি দেখা যায়।

বর্তমানে সারা দেশে হাসপাতালে ভর্তি ৯ হাজার ২৬ জনের মধ্যে রাজধানীর হাসপাতালে রয়েছে ৪ হাজার ৫৬৮ জন। জুলাই মাসের ৩১ দিনেই হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ৪৩ হাজার ৮৫৪ জন রোগী, মৃত্যু হয়েছে ২০৪ জনের। এক মাসে আক্রান্ত ও মৃত্যুর এ সংখ্যা এ বছরের মোট সংখ্যার তিন-চতুর্থাংশ। আর আগস্টের প্রথম তিনদিনে ৯ হাজার ৬৪১ জন রোগী ভর্তি হয় হাসপাতালে। মৃত্যু হয়েছে ৪২ জনের। এছাড়া জানুয়ারিতে ৫৬৬ জন, ফেব্রুয়ারিতে ১৬৬, মার্চে ১১১, এপ্রিলে ১৪৩, মে মাসে ১ হাজার ৩৬ এবং জুনে ৫ হাজার ৯৫৬ রোগী ডেঙ্গু নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়। তাদের মধ্যে জানুয়ারিতে ছয়জন, ফেব্রুয়ারিতে তিন, এপ্রিলে দুই এবং মে মাসে দুজন ও জুনে ৩৪ জনের মৃত্যু হয়।

যদিও চলতি বছর দেশে ডেঙ্গু পরিস্থিতির অবনতির আশঙ্কার কথা আগেই জানিয়েছিলেন রোগতত্ত্ববিদ ও জনস্বাস্থ্যবিদরা। তবে সরকারের সংশ্লিষ্ট বিভাগ প্রয়োজনীয় প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নেয়নি বলে অভিযোগ রয়েছে। এ অবস্থায় সামনে ডেঙ্গুর প্রকোপ আরো বাড়ার আশঙ্কা করেছেন তারা।

দেশে ডেঙ্গু রোগের প্রাদুর্ভাব দ্রুতগতিতে বাড়ছে। চলতি বছরের জুনে যে সংখ্যক মানুষ ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছিল তার চেয়ে বেশি আক্রান্ত হয়েছে জুলাইয়ে। মাসের ব্যবধানে রোগী বেড়েছে সাত গুণ বলে জানিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। এতদিন রাজধানী ঢাকার তুলনায় সারা দেশে রোগীর সংখ্যা বৃদ্ধির হার ছিল দ্বিগুণ। এখন ঢাকার বাইরের জেলাগুলোয় ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তির সংখ্যা রাজধানীকেও ছাড়িয়েছে।

রাজধানীর বাইরে ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে যাওয়ায় চিকিৎসা খাতসংশ্লিষ্টদের মধ্যে আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। তারা বলছেন, দেশের জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে ডেঙ্গু রোগী ব্যবস্থাপনার জন্য পর্যাপ্ত সুবিধা নেই। রয়েছে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের সংকট ও বিশেষায়িত চিকিৎসা সরঞ্জামের অপ্রতুলতাও। এছাড়া ঢাকার বাইরের চিকিৎসকদের ডেঙ্গু রোগী ব্যবস্থাপনা ও চিকিৎসার বিষয়ে অভিজ্ঞতাও কম। ফলে রাজধানীর বাইরের জেলাগুলোয় ডেঙ্গু রোগ আরো প্রাণঘাতী হয়ে ওঠার বড় আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

দেশে প্রথম ২০০০ সাল থেকে ডেঙ্গুকে রোগতত্ত্বের গুরুত্ব দেয় সরকার বলে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর এবং রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের (আইইডিসিআর) তথ্য থেকে জানা যায়। ১৯৬৪ সালে বাংলাদেশের ঢাকায় সংক্রমণ ঘটায় ডেঙ্গু। সে সময় ডেঙ্গুকে ঢাকা ফিভার নামে অভিহিত করা হয়। ২০০০ সালে দেশে সাড়ে পাঁচ হাজার ডেঙ্গু ভাইরাসে আক্রান্ত রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়। আর এদের মধ্যে ৯৩ জনের মৃত্যু হয়। ২০২২ সালে ৬১ হাজার রোগীর মধ্যে ২৮১ জনের মৃত্যু হয়। এই বছরই দেশে সর্বোচ্চসংখ্যক ডেঙ্গু রোগীর মৃত্যু হয়েছে। এর আগে ২০১৯ সালে সর্বোচ্চসংখ্যক ডেঙ্গু রোগী পাওয়া যায়। গত ২২ বছরে (২০২৩ বাদে) দেশে আড়াই লাখের বেশি ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিল। এর মধ্যে মারা গেছে সাড়ে আটশ রোগী।

আরও