সঠিক সময়ে চিকিৎসা না নেয়ায় ডেঙ্গুতে মৃত্যুহার বেশি

মেডিকেল এন্টোমলজিস্টরা মূলত মানুষের রোগের সঙ্গে সম্পর্কিত যত পোকামাকড় রয়েছে তা নিয়ে কাজ করেন। জনস্বাস্থ্যে গুরুত্ব ও তাৎপর্যপূর্ণ পোকামাকড়গুলোকে আর্থ্রোপড বলা হয়। এর মধ্যে যে ভাইরাস থাকে তাকে আর্বোভাইরাস বলা হয়। এ ভাইরাসের মাধ্যমে মানবদেহে অনেক রোগ সৃষ্টি হচ্ছে। এ রোগগুলোকে আমরা যদি সঠিকভাবে পর্যবেক্ষণ করতে না পারি, তবে বাহক দেহে জীবাণুগুলো বেড়ে

অধ্যাপক ড. মো. গোলাম ছারোয়ার। জাতীয় প্রতিষেধক ও সামাজিক চিকিৎসা প্রতিষ্ঠানের (নিপসম) কীটতত্ত্ব বিভাগের প্রধান। মেডিকেল এন্টোমলজির ওপর পিএইচডিধারী এ গবেষক জনস্বাস্থ্যের সঙ্গে সম্পর্কিত কীটপতঙ্গ এবং বাহকবাহিত রোগ নিয়ে দীর্ঘদিন গবেষণা ও অধ্যাপনা করছেন। দেশে বর্তমান ডেঙ্গু পরিস্থিতিতে রোগের বাহক ও রোগ ব্যবস্থাপনা নিয়ে কথা বলেছেন বণিক বার্তার সঙ্গে। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন মুহাম্মাদ শফিউল্লাহ 

মশাবাহিত রোগের ক্ষেত্রে মেডিকেল এন্টোমলজি বা চিকিৎসা কীটতত্ত্বের ভূমিকা কী?

মেডিকেল এন্টোমলজিস্টরা মূলত মানুষের রোগের সঙ্গে সম্পর্কিত যত পোকামাকড় রয়েছে তা নিয়ে কাজ করেন। জনস্বাস্থ্যে গুরুত্ব ও তাৎপর্যপূর্ণ পোকামাকড়গুলোকে আর্থ্রোপড বলা হয়। এর মধ্যে যে ভাইরাস থাকে তাকে আর্বোভাইরাস বলা হয়। এ ভাইরাসের মাধ্যমে মানবদেহে অনেক রোগ সৃষ্টি হচ্ছে। এ রোগগুলোকে আমরা যদি সঠিকভাবে পর্যবেক্ষণ করতে না পারি, তবে বাহক দেহে জীবাণুগুলো বেড়ে ওঠার পর মানবদেহে প্রবেশ করে স্বভাব পরিবর্তনের কারণে শক্তি বেড়ে যায়। এ বিষয়গুলোই মূলত মেডিকেল এন্টোমলজি বিশদভাবে গবেষণা করে ফলাফলের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত প্রদান করে। 

সন্ধিপদী বা আর্থ্রোপডের মাধ্যমে মানুষের শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্যে কেমন নেতিবাচক প্রভাব পড়ে?

পোকামাকড়ের গোত্রের বেশির ভাগ অংশই আর্থ্রোপড। এগুলো কিছু অণুজীব যেমন ভাইরাস, ব্যাকটেরিয়া, ফাঙ্গাস, নিমাটোড ইত্যাদি বহন করে। যার কারণে এদেরকে ভেক্টর বা বাহক বলা হয়। আর্থ্রোপডগুলো এসব জীবাণু মানুষের শরীরের মধ্যে প্রবেশ করায়। ওই অণুজীবগুলো মানুষের শরীরে প্রবেশ করে বংশবৃদ্ধির কারণে রোগের সৃষ্টি হয়। ভাইরাসের সংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়ার পর শরীরে নানা জটিলতার সৃষ্টি হয়। এমনকি মৃত্যু পর্যন্ত হয়।

পীতজ্বর নির্মূল করা গেলেও ম্যালেরিয়া, ফাইলেরিয়া, কালা জ্বর এখনো নির্মূল করা যায়নি। এর কারণ হিসেবে কী দেখছেন?

এক এক রোগের জন্য এক এক প্যাথোজেন (রোগ সংক্রামক জীবাণু) দায়ী। তা প্যাথোজেনের ভিরুলেন্স অর্থাৎ আক্রমণের তীব্রতার ওপর নির্ভর করে। বিষয়টি এমন, জীবাণু যে বাহকের শরীরে ছিল সেই শরীর তার জন্য কতটুকু স্বাচ্ছন্দ্যময়। যদি কোনো স্বাচ্ছন্দ্যময় দেহের মধ্যে প্যাথোজেন তার সব  ফিজিওলজিক্যাল (শরীরবৃত্তীয়) কার্যকলাপ ব্যবহার করতে পারে, তাহলে তার আক্রমণের তীব্রতা ও সক্রিয়তা বেড়ে যায়। তখন সেই প্যাথোজেনকে নির্মূল করা কঠিন। ইয়েলো ফিভার (পীত জ্বর) নিয়ন্ত্রণে আনার জন্য যে পদ্ধতি ব্যবহার করা হয়েছিল, আমরা সেই পদ্ধতি অন্যান্য ক্ষেত্রে ব্যবহার করতে পারিনি। যেমন ডেঙ্গুর চারটি ধরন বা সেরোটাইপের জন্য সেভাবে কার্যকরী পদক্ষেপের অভাব রয়েছে। কেউ প্রথমবার এক সেরোটাইপে আক্রান্ত হলে যে প্রতিরোধ শক্তি তৈরি হয়, পরবর্তী সময়ে অন্য কোনো ধরনে আক্রান্ত হলে সেই প্রতিরোধ কার্যকর থাকে না। রোগীর অবস্থা আরো সংকটাপন্ন হয়ে ওঠে। একই সঙ্গে মানবদেহে প্রথমবার আক্রান্ত হওয়ার ফলে ওই সেরোটাইপের বিরুদ্ধে যে অ্যান্টিবডি (রোগ প্রতিরোধের সক্ষমতা) তৈরি হয়েছিল তা দ্বিতীয়বার অন্য কোনো ধরনে আক্রান্ত হলে কার্যকর থাকছে না। ম্যালেরিয়া, ফাইলেরিয়া, কালা জ্বরে ভিন্ন কোনো সেরোটাইপ নেই। মূল বিষয় হলো ভেক্টরকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারলে আমরা রোগ নিয়ন্ত্রণ করতে পারব। কিন্তু এখন পর্যন্ত বাহক নিয়ন্ত্রণের জন্য আমরা পরিচ্ছন্ন পরিবেশ তৈরি করতে পারিনি। সেই সঙ্গে পরিবেশের বিরূপ অবস্থা রয়েছে। আমাদের দেশের তাপমাত্রার তারতম্য বেশি। বৃষ্টিপাত, তাপমাত্রা, আপেক্ষিক আর্দ্রতা, সূর্যের আলো, বাতাসের বেগ সবকিছু মিলিয়ে পরিবেশ বাহকের অনুকূলে, তাতে মশার ঘনত্ব প্রচণ্ডভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে। কীটপতঙ্গগুলো মেরুদণ্ডী হোস্ট খুঁজে পেতে তাদের (হোস্ট) নির্গত তাপ, গন্ধ, পারিপার্শ্বিক অবস্থা ব্যবহার করে। আমাদের দেশে মশা পোষক দেহ থেকে রক্ত নেয়ার জন্য উপযোগী পরিবেশ পায়। পরিবর্তিত পরিবেশ তাদের জন্য উপযোগী, যা আমরা নিজেরা করে দিয়েছি। 

ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়ার মধ্যে ডেঙ্গু ভাইরাস এখন জনস্বাস্থ্যের জন্য প্রধান উদ্বেগের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে কেন?

মশা যদি তার আচরণ পরিবর্তন করে তাহলে ভাইরাসেও পরিবর্তন দেখা যায়। ডেঙ্গু ভাইরাস ছড়ানো এডিস মশা পরিবর্তিত পরিবেশের সঙ্গে মানিয়ে নিতে সক্ষম হয়েছে। ভাইরাসটিও মশার শরীরে প্রয়োজনীয় কার্যক্রম স্বাচ্ছন্দ্যে করতে পারছে। ভাইরাস যখন এক শরীর থেকে অন্য শরীরে যায় তখন তার আচরণ ও শক্তি বেড়ে যায়। রূপান্তরিত ভাইরাসের আচরণ আরো তীব্র হয়। আমরা দেখছি এডিস মশার শরীরে যে ডেঙ্গু ভাইরাস পরিবাহিত হচ্ছে, পরবর্তী সময়ে তা মানুষের দেহে গিয়ে আশঙ্কাজনকভাবে বাড়ছে, যা উদ্বেগের কারণ। তাছাড়া সময়মতো মশা নিধন করতে না পারা, রোগীর ব্যবস্থাপনা ও কর্মকৌশলের অপ্রতুলতা ভয়াবহতা বৃদ্ধি করেছে। 

অনেকেই বলেছে, বাহক ধ্বংসের তুলনায় ডেঙ্গু ভাইরাস নিয়ন্ত্রণে কম গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে। বাহক নির্মূল না করে ডেঙ্গু ভাইরাস কতটা নিয়ন্ত্রণযোগ্য?

মশা একটি নির্দিষ্ট মাত্রার নিচে নামিয়ে না এনে ভাইরাস নিয়ন্ত্রণ করা কখনই সম্ভব নয়। বাহককে নিয়ন্ত্রণ না করে ভাইরাস নিয়ন্ত্রণ করতে হলে আমাদেরকে অবশ্যই বায়োলজিক্যাল বা জীবতাত্ত্বিক প্রক্রিয়ায় যেতে হবে। এ ভাইরাস নিয়ন্ত্রণের জন্য উলবাকিয়া নামের ব্যাকটেরিয়া ব্যবহার করতে হবে। সেই ব্যাকটেরিয়াকে মশার দেহে প্রবেশ করিয়ে দিতে হবে। এতে মশার দেহে ভাইরাসের কর্মক্ষমতা নষ্ট হয়ে যাবে। একটা মশার দেহে ভাইরাস যে ইনকিউবেশন পিরিয়ড (রোগজীবাণুর উন্মেষ পর্ব) পার করে, এ সময়ের মধ্যে বাহকের সেলুলার বা সব শরীরবৃত্তীয় কার্যক্রমে ভাইরাস অভ্যস্ত হয়ে ওঠে। ভাইরাস যেন সংখ্যায় বেশি না হয় তার জন্য ব্যাকটেরিয়া কাজ করবে। জৈবিক প্রক্রিয়া ব্যবহার করে এটা সম্ভব। তবে ওই মশা আমাদের পরীক্ষাগারে পালন করতে হবে। 

ইউরোপীয় রোগ নিয়ন্ত্রণ ও প্রতিরোধ কেন্দ্রের (ইসিডিসি) মতে, বিশ্বের শতাধিক দেশে ডেঙ্গু রোগ মারাত্মক হারে ছড়িয়ে পড়েছে। তবে বাংলাদেশে রোগীর অনুপাতে মৃত্যু সবচেয়ে বেশি। এর কারণ কী?

রোগীর অনুপাতে মৃত্যুহার আমাদের দেশের জন্য উদ্বেগের। ইউরোপ বা অন্যান্য দেশে ডেঙ্গু আক্রান্ত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই তারা চিকিৎসকের শরণাপন্ন হচ্ছেন। আর শক সিনড্রোমে যাওয়ার আগেই তাদের রোগ নিরীক্ষা হচ্ছে। জনসচেতনতার অভাবে আমাদের শরীরে ভাইরাস প্রবেশ করলেও মারাত্মক পরিস্থিতির সৃষ্টি না হওয়া পর্যন্ত আমরা চিকিৎসার জন্য যাই না। এজন্য সবসময়ই বলা হয় ন্যূনতম লক্ষণ দেখা গেলে ডেঙ্গু পরীক্ষা করতে হবে। এ কারণেই আমাদের দেশে মৃত্যুহার অনেক বেশি। সঠিক সময়ে চিকিৎসা না নিয়ে আমরাই ভাইরাসকে শক্তিশালী করে তুলছি। 

ডেঙ্গু রোগ নিয়ন্ত্রণ ও রোগী ব্যবস্থাপনায় দেশে কী কী ঘাটতি রয়েছে বলে আপনি মনে করেন?

রোগ হয়ে যাওয়ার পর নিরাময় করা চিকিৎসকের কাজ। আর রোগ হওয়ার আগে নিয়ন্ত্রণের জন্য কাজ করবেন কীটতত্ত্ববিদ, রোগতত্ত্ববিদ ও জনস্বাস্থ্যবিদরা। রোগ নিয়ন্ত্রণ করতে চাইলে একসঙ্গে অনেক প্রতিষ্ঠানকে কাজ করতে হবে। প্রত্যেক শ্রেণী-পেশার মানুষ এ বিষয়ের সঙ্গে জড়িত। মশার উৎসস্থলগুলো আগে ধ্বংস করতে হবে। এক্ষেত্রে পরিবেশের কথা চলে আসবে। পরিবেশ সুরক্ষিত রাখতে সাধারণ জনগণকে অবশ্যই দায়িত্বশীল হতে হবে। তবে নীতিনির্ধারকরা কীভাবে নীতিগুলো নির্ধারণ করছেন তা ‍গুরুত্বপূর্ণ। টারশিয়ারি (বিশেষায়িত) হাসপাতালগুলোয় যে সুবিধা রয়েছে তা স্বাভাবিকভাবেই মাধ্যমিক ও প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানে নেই। প্রান্তিক পর্যায়েও প্রয়োজনীয় সুবিধাসংবলিত স্বাস্থ্য অবকাঠামো প্রস্তুত করতে হবে। যারা হাসপাতালে ভর্তি হচ্ছে তাদের মাধ্যমে যেন ডেঙ্গু ছড়িয়ে পড়তে না পারে, সেজন্য স্বতন্ত্র ব্যবস্থা নেয়া জরুরি। যারা ডেঙ্গু নিশ্চিত হয়েছেন তবে হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার মতো পরিস্থিতি হয়নি, তাদেরও বাড়িতে সতর্কভাবে বিচ্ছিন্ন থাকতে হবে। আবার কেউ ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হওয়া সত্ত্বেও না জানার কারণে তার মাধ্যমে ডেঙ্গু ছড়ানো বেশি আশঙ্কার। তাই পরীক্ষা করানো অত্যাবশ্যকীয়। সচেতনতার সঙ্গে সঙ্গে প্রাতিষ্ঠানিক পর্যবেক্ষণ বাস্তবায়ন করতে হবে। 

ডেঙ্গু রোগ নিয়ন্ত্রণে মশক নিধন কার্যক্রমে নগর ও উপনগরে যেসব ব্যবস্থাপনা নেয়া হয় তার ঘাটতিগুলো কী কী?

যেসব কর্তৃপক্ষ এ নিয়ে কাজ করছে তাদেরকে বেশকিছু বিষয় গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করতে হবে। যেমন মশার লার্ভা ধ্বংস করা হচ্ছে, মশার প্রজননস্থলে যে কীটনাশক প্রয়োগ করা হচ্ছে তাতে শক্তিশালী মনিটরিং ব্যবস্থা জরুরি। শুধু মশক নিধন কর্মীকে দায়িত্ব দিলেই চলবে না। যে কার্যক্রম চালানো হচ্ছে তাতে মশা নিধন হচ্ছে কিনা, মশা স্বাভাবিকভাবেই প্রতিরোধী হয়ে উঠছে কিনা সে বিষয়েও খেয়াল রাখতে হবে। চিকিৎসক, প্রশাসন, কীটতত্ত্ববিদ, রোগতত্ত্ববিদ, জনস্বাস্থ্যবিদসহ সাধারণ মানুষকে কার্যক্রমে যুক্ত হতে হবে। যে কার্যক্রমই পরিচালিত হোক না কেন তা যেন কার্যকর ও সক্রিয় থাকে। অবশ্যই জনবল ও অবকাঠামো উন্নত করতে হবে।

বিভিন্ন দেশে মশাবাহিত রোগ বিশেষ করে ডেঙ্গুর জন্য মশক নিধন কার্যক্রম কীভাবে পরিচালিত হয়? 

কলকাতার মডেল রয়েছে, মালয়েশিয়ার মডেল রয়েছে। কলকাতার পৌর এলাকাকে বেশ কয়েকটি ভাগে ভাগ করে কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। এসব ভাগ করা এলাকায় আবার কার্যক্রম পরিচালনার জন্য বিভিন্নসংখ্যক জনবল নিয়ে কয়েকটি দল করা হয়েছে। কোনো দল মশার উৎসস্থল ধ্বংস করছে, কোনো দল খোঁজ করছে নতুন করে কোথাও মশার উৎসস্থল রয়েছে কিনা, আবার কোনো দল পর্যবেক্ষণ করছে মশা নিধন কার্যক্রম সঠিকভাবে কার্যকর হচ্ছে কিনা। কোথাও ক্রাশ কার্যক্রম পরিচালনার প্রয়োজন পড়লে তা তাৎক্ষণিক করা হয়। তারা মৌসুমি কার্যক্রমে নিজেদের সীমাবদ্ধ রাখেনি। সেসব দেশে এডিস ও অন্যান্য মশার গবেষণাগার রয়েছে। 

এডিস মশা, ডেঙ্গু রোগ ও রোগী নিয়ে গবেষণার সীমাবদ্ধতার কারণগুলো কী কী? দেশে ডেঙ্গুর জন্য স্বতন্ত্র গবেষণাগারের প্রয়োজন রয়েছে কি?

আমাদের দেশে মেডিকেল এন্টোমলজিস্টের অভাব রয়েছে। আমাদের দেশে মেডিকেল এন্টোমলজিস্ট তৈরি করার মতো প্রতিষ্ঠানই নেই। ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণের জন্য স্বতন্ত্র প্রতিষ্ঠানের প্রয়োজনীয়তা রয়েছে। এ প্রতিষ্ঠান মশাবাহিত ও জনস্বাস্থ্যে গুরুত্বপূর্ণ সব বাহকবাহিত রোগ নিয়ে কাজ করবে। স্বতন্ত্র প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলে সব মন্ত্রণালয় ও বিভাগের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করতে হবে। কাউকে দোষারোপ না করে শক্তিশালী দল গঠন করে কাজ করবে। তবে দেশে কতগুলো সংক্রামক রোগ ও অসংক্রামক রোগ রয়েছে, রোগী রয়েছে, কী ধরনের চিকিৎসা পাচ্ছে, কত রোগী মারা যাচ্ছে তার তথ্য স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের এমআইএস শাখাসহ দায়িত্বশীল অন্যান্য শাখায় রয়েছে। তবে এসব তথ্যের বৈজ্ঞানিক বিশ্লেষণ আরো বেশি প্রয়োজন। রোগতত্ত্ব ও জনস্বাস্থ্যে গবেষণার গুরুত্ব অপরিসীম। এখানে কিছু সীমাবদ্ধতা রয়েছে। আর্থিক সংকট রয়েছে। গবেষণা নিয়ে আমাদের গভীরভাবে ভাবতে হবে। ডেঙ্গু নিয়ে স্বতন্ত্র গবেষণাগার প্রয়োজন। কেননা ডেঙ্গু ভাইরাস তার স্বভাব বদলাচ্ছে, বাহকও স্বভাব বদলে ফেলছে। এ রোগ সহজে যাবে না। কোনো রোগই চলে যায় না। নিয়ন্ত্রণ ও নির্মূলে কাজ করতে হয়। ডেঙ্গু নিয়েও তেমন কার্যক্রম জরুরি। 

রোগী ও মৃত্যু নিয়ে রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউট (আইইডিসিআর) ও স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের রোগ নিয়ন্ত্রণ শাখার ভূমিকা কী হওয়া উচিত?

আইইডিসিআর, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের রোগ নিয়ন্ত্রণ, সংক্রামক রোগ নিয়ন্ত্রণ (সিডিসি), অসংক্রামক রোগ নিয়ন্ত্রণ শাখা ও নিপসম কিন্তু একই পরিবারের। কারো কাজ গবেষণা ও শিক্ষা, কারো কাজ রোগ নিয়ন্ত্রণ এবং কারো কাজ মাঠ পর্যায়ে জনসচেতনতা ও চিকিৎসার ব্যবস্থা করা। এখানে নিপসম শিক্ষা গবেষণা, প্রশিক্ষণ ও পরামর্শক হিসেবে কাজ করছে, আইইডিসিআর রোগ নিয়ন্ত্রণের জন্য গবেষণা ও বিভিন্ন উপাদানে কার্যকারিতা পরীক্ষা করছে, রোগের ধরন নিয়েও কাজ করছে। আর স্বাস্থ্য অধিদপ্তর গবেষণার ফলাফল পেয়ে প্রয়োজনীয় কার্যক্রম বাস্তবায়ন ও চিকিৎসা দিচ্ছে। নগরে আবার স্থানীয় সরকার বিভাগ কাজ করছে। আমরা একটি গবেষণা করে ফলাফলের ভিত্তিতে সুপারিশ করলাম তা সঠিকভাবে ও সঠিক প্রক্রিয়ায় বাস্তবায়িত না হলে রোগ নিয়ন্ত্রণ কঠিন হয়ে পড়ে। তাই সবাইকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে।

আরও