বৈঠক শেষে ওবায়দুল কাদের

বিএনপি যে শর্ত দিয়েছে তা সংবিধানবিরোধী

আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে অংশ নিতে বিএনপি যে শর্ত দিয়েছে তা সংবিধানের বাইরে ও সংবিধানবিরোধী বলে মন্তব্য করেছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। তিনি বলেন, ‘তত্ত্বাবধায়ক সরকার কিংবা দলটির এক দফা নিয়ে বিদেশীদের কোনো বক্তব্য নেই।’

আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে অংশ নিতে বিএনপি যে শর্ত দিয়েছে তা সংবিধানের বাইরে ও সংবিধানবিরোধী বলে মন্তব্য করেছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। তিনি বলেন, ‘তত্ত্বাবধায়ক সরকার কিংবা দলটির এক দফা নিয়ে বিদেশীদের কোনো বক্তব্য নেই।’ 

গতকাল রাজধানীর সেতু ভবনে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন। এর আগে সেতু ভবনে আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদকের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন বাংলাদেশে নিযুক্ত ব্রিটিশ হাইকমিশনার সারাহ ক্যাথেরিন কুক।

বৈঠক শেষে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘বিএনপি অশান্তির পথে হাঁটছে। সহিংসতার ইঙ্গিত দিচ্ছে। মির্জা ফখরুলের বক্তব্যে তা আরো স্পষ্ট হয়েছে। তারা শান্তিপূর্ণ নির্বাচন বাধাগ্রস্ত করতে চাইছে। তারা সন্ত্রাস করবে, সন্ত্রাস করে নির্বাচন পণ্ড করবে, ভণ্ডুল করবে—এ লক্ষ্য নিয়ে তারা এগিয়ে যাচ্ছে।’

তিনি বলেন, ‘আমাদের পরিষ্কার কথা। আওয়ামী লীগের দফা একটাই—সংবিধান অনুযায়ী শেখ হাসিনার আমলে নির্বাচন কমিশনের অধীনে নির্বাচন হবে। বিএনপির দাবি অদ্ভুত, উদ্ভট ও অযৌক্তিক। বিএনপিকে নির্বাচনে জেতার গ্যারান্টি দেবে এমন নিশ্চয়তা না পেলে তারা নির্বাচনে আসবে না। এটা তাদের প্রতিজ্ঞা, তারা পণ করেছে।’

সেতুমন্ত্রী বলেন, ‘ক্যাথেরিন কুকের সঙ্গে সাক্ষাৎকালে দেশের আগামী জাতীয় নির্বাচন কীভাবে হবে, নির্বাচনকালীন সরকারের দায়িত্ব, বিরোধী দলের সঙ্গে সম্পর্ক কেমন হবে তা নিয়ে আলোচনা হয়েছে। ব্রিটিশ হাইকমিশনার নির্বাচনকে অবাধ, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ করার পাশাপাশি অংশগ্রহণমূলক করার কথা বলেছেন।’

আগামী জাতীয় নির্বাচন কীভাবে হবে—ব্রিটিশ হাইকমিশনারের করা এমন প্রশ্নে পাল্টা প্রশ্ন তোলেন ওবায়দুল কাদের। তিনি বলেন, ‘ব্রিটিশ হাইকমিশনারকে আমি জিজ্ঞেস করেছি, আপনাদের দেশে নির্বাচন কীভাবে হয়? সেখানে কি প্রধানমন্ত্রী পদত্যাগ করেন, হাউজ অব কমন্স কি ডিজলভ হয়? কেয়ারটেকার নামে কোনো সরকার কি নির্বাচনের সময় আবির্ভূত হয়?’

নির্বাচনকালীন সরকারের ভূমিকা নিয়েও কথা বলেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘উত্তর আমাদের সেটা একটাই, আমেরিকানদের যা বলেছি, ইউরোপীয় ইউনিয়নকে যা বলেছি, আজকে ব্রিটিশ হাইকমিশনারকেও তাই বলেছি। আমাদের বক্তব্য অভিন্ন। আমাদের মূল বক্তব্য হচ্ছে, প্রত্যেক দেশে গণতন্ত্রের কার্যকারিতা ও নির্বাচন একই রকম। নির্বাচন কমিশন থাকে এবং তারা নির্বাচন পরিচালনা করে, আর সরকার নির্বাচনকালীন দায়িত্ব পালন করবে। তারা কোনো নীতিনির্ধারণী সিদ্ধান্ত নিতে পারবে না। তারা শুধু রুটিন কাজ করবে আর নির্বাচন করার জন্য যে যে সহযোগিতা দরকার সেটা দেবে।’

আলোচনায় সরকার পতনের দাবিতে বিএনপির পদযাত্রায় বিভিন্ন জেলায় সংঘাতের বিষয়টি নিয়েও কথা হয় বলে জানান ওবায়দুল কাদের। তিনি বলেন, ‘আমি বলেছি, মেইন অপজিশন গত ডিসেম্বর থেকে এ ঢাকা শহরে অনেকগুলো সমাবেশ-পদযাত্রা করেছে। আমরাও অনেকগুলো শান্তি সমাবেশ করেছি। অপজিশনের সঙ্গে ঢাকা সিটিতে এযাবৎ কোনো সংঘাত-সংঘর্ষ হয়নি। গত কয়েকদিনেই হঠাৎ করে কিছু জায়গায় সংঘাত হয়েছে। কোথাও আমাদের অফিস আক্রান্ত হয়েছে। তাদেরও কোথাও কোথাও পুলিশের সঙ্গে সংঘাত হয়েছে। লক্ষ্মীপুরে তাদের একজন মারা গেছে। সেটা পুলিশের সঙ্গে সংঘাতের জেরে হয়েছে। চট্টগ্রামে গতকাল (বুধবার) দুই-একটা ঘটনা ঘটেছে। এ রকম কিছু ইনসিডেন্ট হয়েছে।’

বিএনপি এখন যেভাবে আন্দোলন করছে, তাতে তারা আগামী নির্বাচনে আসবে না বলেই মনে করছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক। তিনি বলেন, ‘বিএনপি নির্বাচনে আসবে এমন কোনো বিন্দুমাত্র ইঙ্গিত-ইশারা দেয়নি। তারা তো এক দফা দাবিতে চলে গেছে, এটা তো নির্বাচনে আসার লক্ষণ নয়।’

নির্বাচন পণ্ড করতে বিএনপি সংঘাতের পথ বেছে নেবে বলে আশঙ্কার কথা জানান আওয়ামী লীগ নেতা। বিরোধী দলের কর্মসূচিতে বাধা দিলে শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি আর শান্তিপূর্ণ থাকবে না বলে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের বক্তব্যের প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ করে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘এটা মির্জা ফখরুলের বলার দরকার ছিল না। ইঙ্গিত, ইশারা, আলামত কিছু ভায়োলেন্সের উসকানি দিয়ে অলরেডি সৃষ্টি করেছে। তারা (বিএনপি) জানান দিচ্ছে, অশান্তির পথেই যেতে চলেছে। তারা সন্ত্রাস করবে, নির্বাচনকে পণ্ড করবে, এ লক্ষ্য নিয়ে তারা এগিয়ে যাচ্ছে।’

নিজ দলের নেতা-কর্মীদের শান্ত থাকার পরামর্শ দিয়ে তিনি বলেন, ‘তারা উসকানি দেবে, কিন্তু আমাদের মাথা গরম করা চলবে না। সবাইকে শান্ত থাকতে বলেছি। বিএনপি কী করবে না করবে, এটা তারা সিদ্ধান্ত নিয়েই শুরু করেছে। তারা কোন পথে যাচ্ছে সেটা এখন স্পষ্ট।’

সরকার ও আইন প্রয়োগকারী সংস্থা যা করা দরকার তা করবে বলেও হুঁশিয়ার করেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী।

হাইকমিশনারের সঙ্গে আলোচনায় ঢাকা-১৭ আসনের উপনির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিরো আলমের ওপর হামলা নিয়েও আলোচনা হয়। ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘ঘটনাটা সমর্থনযোগ্য নয়, নিন্দনীয়। ঘটনা যারা ঘটিয়েছে তাদের গ্রেফতার করা হয়েছে। সরকার তার কাজ করেছে। দুর্বৃত্ত যে পরিচয়ের হোক না কেন তাকে আইনের আওতায় আনা হয়েছে।’

আরও