ঈদের ছুটির আগেই শিল্প-কারখানার শ্রমিকদের বোনাস এবং জুনের ১৫ দিনের বেতন পরিশোধে শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের দিকনির্দেশনা রয়েছে। গতকাল ২৭ জুন রাত ৮টা পর্যন্ত এ বেতন পরিশোধ করেনি প্রায় এক-চতুর্থাংশ কারখানা। আর ঈদ বোনাস পরিশোধ করা হয়নি ৩ দশমিক ১৩ শতাংশ কারখানায়। শিল্পসংশ্লিষ্ট আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।
দেশের শিল্প অধ্যুষিত আটটি এলাকার মধ্যে রয়েছে আশুলিয়া, গাজীপুর, চট্টগ্রাম, নারায়ণগঞ্জ, ময়মনসিংহ, খুলনা, কুমিল্লা ও সিলেট। এসব এলাকায় মোট কারখানা রয়েছে ৯ হাজার ৯১৫টি। যার মধ্যে তৈরি পোশাক, বস্ত্র ও পাট উদ্যোক্তাদের সংগঠন এবং রফতানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চল কর্তৃপক্ষের (বেপজা) অধিভুক্ত মিলিয়ে মোট কারখানা আছে ৩ হাজার ১৬৪টি। বাকি ৬ হাজার ৭৫১টি কারখানা কোনো সংগঠন বা কর্তৃপক্ষের আওতায় নেই।
শিল্পসংশ্লিষ্ট আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সূত্রে পাওয়া বেতন বোনাস পরিশোধের হিসাব অনুযায়ী, বিভিন্ন সংগঠন ও কর্তৃপক্ষের অধিভুক্ত ৩ হাজার ১৬৪টি কারখানাই মূলত শ্রমঘন। এসব কারখানার মধ্যে গতকাল রাত ৮টা পর্যন্ত ৩ হাজার ৬৫টি বা ৯৬ দশমিক ৮৭ শতাংশ কারখানা বোনাস পরিশোধ করেছে, বাকি ৯৯টি বা ৩ দশমিক ১৩ শতাংশ কারখানা বোনাস পরিশোধ করেনি।
শিল্প অধ্যুষিত আট এলাকায় পোশাক প্রস্তুত ও রফতানিকারকদের সংগঠন বিজিএমইএর সদস্য কারখানা আছে ১ হাজার ৬২৪টি। এর মধ্যে ১ হাজার ৫৮২টি কারখানা বোনাস পরিশোধ করেছে। বাকি ৪২ কারখানার শ্রমিকদের বোনাস গতকাল রাত ৮টা পর্যন্ত বকেয়া ছিল।
এ আট এলাকায় পোশাক খাতের আরেক সংগঠন বিকেএমইএর সদস্য কারখানার সংখ্যা ৬৯৯। এর মধ্যে বোনাস পরিশোধ করেছে ৬৮৬টি কারখানা। বাকি ১৩টি কারখানায় গতকাল রাত ৮টা পর্যন্ত বোনাস পরিশোধ হয়নি। আট এলাকায় সুতা ও কাপড় উৎপাদনকারী বস্ত্র খাতের মালিকদের সংগঠন বাংলাদেশ টেক্সটাইল মিলস অ্যাসোসিয়েশনের (বিটিএমএ) সদস্য কারখানা আছে ৩৫৯টি। এর মধ্যে বোনাস পরিশোধ করেছে ৩৩৮টি। বাকি ২১টি কারখানায় বোনাস বকেয়া রয়েছে।
বেপজার আওতায় কারখানা রয়েছে ৩৯২টি। সবগুলো কারখানাই বোনাস পরিশোধ করেছে। আট এলাকায় পাটকল রয়েছে ৯০টি। এর মধ্যে বোনাস পরিশোধকারী কারখানার সংখ্যা ৬৭। বাকি ২৩ কারখানায় বোনাস পরিশোধ হয়নি।
শিল্পসংশ্লিষ্ট আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সূত্রে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, সংগঠন ও কর্তৃপক্ষের আওতাধীন মোট ৩ হাজার ১৬৪টি কারখানার মধ্যে মে মাসের বেতন পরিশোধ হওয়া কারখানা ৩ হাজার ৬১টি বা ৯৬ দশমিক ৭৪ শতাংশ। বাকি ১০৩টি বা ৩ দশমিক ২৬ শতাংশ কারখানায় মে মাসের বেতন বকেয়া ছিল। জুনের ১৫ দিনের বেতন পরিশোধ করেছে এমন কারখানার সংখ্যা আট শিল্প এলাকায় ২ হাজার ৪৪৯ বা ৭৬ দশমিক ৯২ শতাংশ। বাকি ৭৩৫টি বা ২৩ দশমিক শূন্য ৮ শতাংশ কারখানায় জুনের ১৫ দিনের বেতন গতকাল রাত ৮টা পর্যন্ত বকেয়া ছিল।
জানতে চাইলে সবচেয়ে বড় শ্রমঘন শিল্প তৈরি পোশাক পণ্য প্রস্তুত ও রফতানিকারকদের সংগঠন বিজিএমইএ সহসভাপতি শহিদউল্লাহ আজিম বণিক বার্তাকে বলেন, ‘সংগঠনের ক্রাইসিস ম্যানেজমেন্ট কমিটির মাধ্যমে বেতন-ভাতা পরিশোধ পরিস্থিতি নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছিল। যেসব কারখানায় সমস্যা দেখা দিয়েছে, সংশ্লিষ্টদের সমন্বয়ে সেগুলোর সমাধান করা হয়েছে।’
বিজিএমইএর দাবি, ঢাকা ও চট্টগ্রামে সংগঠনটির সদস্য সচল কারখানা রয়েছে ২ হাজার ৯৬টি। শতভাগ কারখানায় মে মাসের বেতন ও ঈদুল আজহার উৎসব ভাতা পরিশোধ করা হয়েছে।
সংগঠনটির তথ্য অনুযায়ী, মোট ১২টি কারখানায় বেতন-বোনাস পরিশোধ নিয়ে সমস্যা ছিল। এর মধ্যে একটি বাদে বাকি ১১টি কারখানার সমস্যা সমাধান করা হয়েছে।
বিজিএমইএর গতকাল সন্ধ্যায় পাঠানো এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে শ্রমিকদের পাওনা পরিশোধের সর্বাত্মক প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখায় পোশাক খাতের উদ্যোক্তাদের আন্তরিক ধন্যবাদ জানান সংগঠনটির সভাপতি ফারুক হাসান।
ফারুক হাসান বলেন, ‘ঈদের আগে বেতন-ভাতা নিয়ে সমস্যা হতে পারে এমন ৩০০ কারখানাকে ক্লোজ মনিটরিংয়ের আওতায় এনে বিজিএমইএ সমস্যার ধরন বুঝে সমাধানের উদ্যোগ নেয়। বিজিএমইএর সরাসরি হস্তক্ষেপে সমস্যাপূর্ণ প্রায় ২৫টি কারখানার শ্রমিকদের বেতন-ভাতাদি নিশ্চিত করা হয়েছে। এক্ষেত্রে কারখানার সমস্যার ধরন বুঝে বিজিএমইএর পক্ষ থেকে শ্রমিক-মালিক ও ফেডারেশন নেতাদের সঙ্গে আলোচনার ভিত্তিতে সমস্যার সমাধান করা হয়েছে।’