সুইজারল্যান্ডের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রতিবেদন

সুইস ব্যাংকে জমা বাংলাদেশীদের অর্থ কমেছে ৯৩.৬৫%

সুইজারল্যান্ডের বিভিন্ন ব্যাংক বা সুইস ব্যাংকে বাংলাদেশীদের জমা রাখা অর্থের পরিমাণ উল্লেখযোগ্য হারে কমে গেছে। ২০২২ সালে বাংলাদেশীরা দেশটির বিভিন্ন ব্যাংকে জমা করেছেন ৫ কোটি ৫২ লাখ ৬৮ হাজার সুইস ফ্রাঁ। এক বছরে যা প্রায় ৮২ কোটি সুইস ফ্রাঁ বা ৯৩ দশমিক ৬৫ শতাংশ কমে গেছে। সুইজারল্যান্ডের কেন্দ্রীয় ব্যাংক সুইস ন্যাশনাল ব্যাংক (এসএনবি) গতকাল ব্যাংকের বার্ষিক আর্থিক বিবৃতি

সুইজারল্যান্ডের বিভিন্ন ব্যাংক বা সুইস ব্যাংকে বাংলাদেশীদের জমা রাখা অর্থের পরিমাণ উল্লেখযোগ্য হারে কমে গেছে। ২০২২ সালে বাংলাদেশীরা দেশটির বিভিন্ন ব্যাংকে জমা করেছেন ৫ কোটি ৫২ লাখ ৬৮ হাজার সুইস ফ্রাঁ। এক বছরে যা প্রায় ৮২ কোটি সুইস ফ্রাঁ বা ৯৩ দশমিক ৬৫ শতাংশ কমে গেছে। সুইজারল্যান্ডের কেন্দ্রীয় ব্যাংক সুইস ন্যাশনাল ব্যাংক (এসএনবি) গতকাল ব্যাংকের বার্ষিক আর্থিক বিবৃতি প্রকাশ করেছে। সেখানে এসব তথ্য উঠে এসেছে। 

এসএনবির প্রতিবেদনে দেখা যায়, ২০২১ সালে সুইস ব্যাংকে বাংলাদেশীদের জমা করা অর্থের পরিমাণ ছিল ৮৭ কোটি ১১ লাখ ১২ হাজার সুইস ফ্রাঁ। ২০২০ সালে ছিল ৫৬ কোটি ২৯ লাখ ৩৩ হাজার সুইস ফ্রাঁ। এ হিসাবে ২০২০ সালের তুলনায় ২০২১ সালে সুইস ব্যাংকে বাংলাদেশীদের জমা রাখা অর্থ বেড়েছিল ৫৪ শতাংশ। তবে গতকাল প্রকাশিত হালনাগাদ প্রতিবেদনে দেখা যাচ্ছে, গত বছর অর্থাৎ ২০২২ সালে এ জমা রাখা অর্থের পরিমাণ উল্লেখযোগ্য হারে কমে গেছে। 

প্রতিবেদনে আরো দেখা যায়, ২০১৮ সালে বাংলাদেশীদের জমা অর্থের পরিমাণ ছিল ৬১ কোটি ৭৭ লাখ ২৫ হাজার সুইস ফ্রাঁ। ২০১৯ সালে যার পরিমাণ কমে দাঁড়ায় ৬০ কোটি ৩০ লাখ ২২ হাজার সুইস ফ্রাঁতে।

এসএনবির তথ্যমতে, যদি কোনো বাংলাদেশী তার নাগরিকত্ব গোপন করে অর্থ জমা রেখে থাকেন, তবে ওই টাকা এ হিসাবে অন্তর্ভুক্ত হয়নি। গচ্ছিত রাখা স্বর্ণ বা মূল্যবান সামগ্রীর আর্থিক মূল্যমানও হিসাব করা হয়নি প্রতিবেদনে। এতে দেশটির ব্যাংকগুলোতে বাংলাদেশীদের অর্থের পরিমাণ বলা হয়েছে, তবে আমানত হিসাবে কার কত অর্থ আছে, সে বিষয়ে কোনো তথ্য উল্লেখ করা হয়নি। 

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২১ সালে বাংলাদেশীদের সবচেয়ে বেশি আমানত ছিল সুইস ব্যাংকে। ২০০২ সালে আমানত ছিল ৩ কোটি ১০ লাখ সুইস ফ্রাঁ, দুই দশকে তা বেড়েছিল প্রায় ৩০ গুণ। বৃদ্ধির হারও সবচেয়ে বেশি ছিল ২০২১ সালে।

বাংলাদেশ থেকে নানাভাবে অর্থ সুইজারল্যান্ডের বিভিন্ন ব্যাংকে জমা হয়। আবার বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বসবাসকারী বাংলাদেশীরাও দেশটিতে অর্থ জমা রাখেন। সাধারণত সুইস ব্যাংক অর্থের উৎস গোপন রাখে। এ কারণে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের নাগরিকরা সুইস ব্যাংকে অর্থ জমা রাখেন।

সারা বিশ্বের ধনীদের অর্থ গোপনে গচ্ছিত রাখার জন্য বহু দিনের খ্যাতি রয়েছে সুইজারল্যান্ডের। এসব ব্যাংকে কঠোরভাবে গ্রাহকদের নাম-পরিচয় গোপন রাখা হয়। এতে ধারণা করা হয়, অপ্রদর্শিত আয়ের অর্থ জমা রাখা হয় এসব ব্যাংকে। নির্দিষ্ট গ্রাহকের তথ্য না দিলেও এক দশক ধরে বার্ষিক প্রতিবেদন প্রকাশ করে আসছে তারা। 

প্রতিবেদনে দেখা যায়, সুইস ব্যাংকে ভারতীয় নাগরিকরাও অর্থ জমা করেছেন। এক বছরে ভারতীয়দের জমা রাখা অর্থের পরিমাণও কমেছে। ২০২০ সাল শেষে ব্যাংকটিতে ভারতীয়দের জমা অর্থের পরিমাণ ছিল ২৫৫ কোটি ২৬ লাখ সুইস ফ্রাঁ। ২০২১ সালে তা ৫০ শতাংশ বেড়ে ৩৮২ কোটি ৮৯ লাখ সুইস ফ্রাঁ হয়। ২০২২ সালে জমা করা অর্থের পরিমাণ ৩৪০ কোটি ২ লাখ ৬১ হাজার সুইস ফ্রাঁ। একইভাবে পাকিস্তানের নাগরিকদের আমানতও কমেছে সেখানে। ২০২০ সালে যে পরিমাণ ছিল ৬৪ কোটি ২২ লাখ সুইস ফ্রাঁ। ২০২১ সাল শেষে তা দাঁড়ায় ৭০ কোটি ৫৯ লাখ সুইস ফ্রাঁতে। আর সবশেষ ২০২২ সালে পাকিস্তানের জমা রাখা অর্থের পরিমাণ হয়েছে ৩৮ কোটি ৮৬ লাখ ৫০ হাজার সুইস ফ্রাঁ। 

সুইজারল্যান্ডের আইনে ব্যাংকগুলো তাদের গ্রাহকের তথ্য প্রকাশ করতে বাধ্য নয় বা টাকার উৎসও তারা জানতে চায় না। তবে কোন দেশের গ্রাহকদের কী পরিমাণ অর্থ সুইজারল্যান্ডের ব্যাংকগুলোতে জমা আছে, তার একটি ধারণা প্রতি বছর এসএনবির বার্ষিক প্রতিবেদন থেকে পাওয়া যায়। দুর্নীতিবিরোধী আন্তর্জাতিক সনদের বাধ্যবাধকতা মেনে এসএনবি ওই তথ্য প্রকাশ করে।

আরও