জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) শহীদ সালাম-বরকত হলের ‘গেস্টরুম নির্যাতনের’ ঘটনায় ছাত্রলীগের আট নেতার নামে হত্যাচেষ্টা মামলা দায়ের করেছেন ভুক্তভোগী দাবিদার শিক্ষার্থী সায়েম হাসান সামি। সামি বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের (৫০তম ব্যাচ) শিক্ষার্থী।
মামলায় বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সহ-সম্পাদক এবং সরকার ও রাজনীতি বিভাগের ৪৭তম ব্যাচের শিক্ষার্থী মাবরুক আল ইসলাম জোয়াদকে প্রধান আসামি করা হয়েছে। এছাড়া মামলায় আরো আাসামি করা হয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি সাজ্জাদ কবির, রাতুল রায় ধ্রুব, রিয়াজুল ইসলাম রিয়াদ ও মহিবুর আলম মৃন্ময়, তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক আকিব শাহরিয়ার সিজান, কার্যকরী সদস্য তানভীর হাসান রাব্বি ও কর্মী আসিফ হোসাইন আকাশকে।
মামলার আবেদনে বলা হয়, গত ১৬ মে কানে অস্ত্রোপচারের কারণে গেস্টরুমে যাননি সামি। ফলে তাকে শহীদ সালাম-বরকত হলের ‘পলিটিক্যাল ব্লকে’ ডেকে নিয়ে মারধর করা হয়। পরদিন ১৭ মে সায়েম হাসান সামি হল ছেড়ে দিতে চাইলে মাবরুক আল ইসলাম জোয়াদ, তানভীর হাসান রাব্বি ও আকিব শাহরিয়ার সিজান তাকে গেস্টরুমে ডেকে নিয়ে আবার মারধর করেন। সেখানে উপস্থিত রিয়াজুল ইসলাম রিয়াদ, সাজ্জাদ কবির, রাতুল রায় ধ্রুব ও মহিবুর আলম মৃন্ময় মুঠোফোনের ভিডিও ক্যামেরা অন করে জোর করে শিবির ও ছাত্রদলের রাজনীতি সঙ্গে জড়িত, এমন স্বীকারোক্তি নেয়ার চেষ্টা করেন।
অভিযোগে বলা হয়, ঘটনার সময় সামির মাথায় আগ্নেয়াস্ত্র ধরেন আকিব। তখন সামি নিজেকে মুক্তিযোদ্ধার সন্তান পরিচয় দেয়ায় তারা ক্ষিপ্ত হয়ে তার পকেটে ইয়াবা ট্যাবলেট ও আগ্নেয়াস্ত্র ঢুকিয়ে মুঠোফোনে ভিডিও ধারণ করতে চান। তখন সামি হলের ছাদ থেকে লাফ দিয়ে বা বিষপান করে আত্মহত্যার হুমকি দিলে তাকে পলিটিক্যাল ব্লক থেকে কোথাও না যাওয়ার নির্দেশ দেয়া হয় এবং নজরদারিতে রাখা হয়।
এরপর ১৯ মে মাথা, কান ও হাঁটুর ব্যথা বেড়ে যাওয়ায় চিকিৎসার কথা বলে সাভার রেডিও কলোনিতে মামার বাসায় চলে যান সামি। পরে সাভার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নেন তিনি। গত ২২ মে বিষয়টি নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর বরাবর লিখিত অভিযোগ দেন সামি।
এদিকে সামির মামলার আবেদনটি আমলে নিয়ে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনকে (পিবিআই) তদন্তের আদেশ দিয়েছেন আদালত। আগামী ১৪ আগস্টের মধ্যে তাদের তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন সামির আইনজীবী নাইমুল ইসলাম চৌধুরী।
আইনজীবী নাইমুল ইসলাম চৌধুরী বলেন, ঢাকার চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত-৩ এ মামলাটি করা হয়। পরবর্তীকালে মামলাটি ঢাকার চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত-৪ এ স্থানান্তর করা হয়। মামলার তদন্তসহ সামগ্রিক পরিচালনায় সহায়তা করার জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরকে মামলার একটি কপি পাঠানো হয়েছে।
অবশ্য মামলার কপি পাওয়ার কথা অস্বীকার করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর আ স ম ফিরোজ-উল-হাসান। তবে গেস্টরুমে নির্যাতনের ঘটনায় অভিযোগপত্র পাওয়ার কথা নিশ্চিত করেছেন প্রক্টর।
এ বিষয়ে জানতে মামলার প্রধান আসামি মাবরুক আল ইসলাম জোয়াদকে ফোন করা হলেও তিনি রিসিভ করেননি। তবে এর আগে তিনি গণমাধ্যমকে বলেন, মামলার বিষয়ে জানি না। আপনারা রিয়াদ ভাইসহ অন্যান্য সিনিয়রদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারেন।
বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি আকতারুজ্জামান সোহেল বলেন, মামলার বিষয়টি আমরা জেনেছি। তবে আমরা পুরো ঘটনা ভালোভাবে পর্যবেক্ষণ করছি। যেটা সত্য সেই অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা নেব।