পুরুষদের টেনিসে
২২টি করে শিরোপা জিত যুগ্মভাবে রেকর্ডের অধিকারী নোভাক জোকোভিচ ও রাফায়েল নাদাল।
রোববার সন্ধ্যায় নাদালকে পেছনে ফেলে রেকর্ডটা নিজের করে নেয়ার সুযোগ জোকোভিচের
সামনে। ফ্রেঞ্চ ওপেনের ফাইনালে ক্যাসপার রুডকে হারালেই রেকর্ড ২৩তম গ্র্যান্ডস্লাম
শিরোপার স্বাদ পাবেন সার্বিয়ান সুপারস্টার।
রোববার জিতলে
জোকোভিচ ছুঁয়ে ফেলবেন সদ্য অবসর নেয়া আমেরিকান সুপারস্টার সেরেনা উইলিয়ামসকে (২৩),
কাছাকাছি পৌঁছে যাবেন অস্ট্রেলিয়ান গ্রেট মার্গারেট কোর্টের, যিনি ২৪টি গ্র্যান্ডস্লাম
জিতে উন্মুক্ত যুগের টেনিসে নারী ও পুরুষ মিলে সবার উপরে অবস্থান করছে।
শুক্রবার রাতে
হাইভোল্টেজ সেমিফাইনালে প্রথম দুই সেটে দুর্দান্ত লড়াই হয় জোকোভিচ ও শীর্ষ বাছাই
কার্লোস আলকারাজের মধ্যে। দুই সেটেই দুজনের উচ্চমানসম্পন্ন টেনিস মুগ্ধ করে রোলাঁ
গারোঁর দর্শককে।
তৃতীয় সেটে গিয়ে
আলকারাজ পায়ে টান অনুভব করলে ছেদ পড়ে এই ধ্রুপদী লড়াইয়ে। দু দুবার মেডিকেল
সুশ্রুষা নিলেও আগের মতো স্বাভাবিক আর হতে পারেননি ২০ বছর বয়সী আলকারাজ। তার এই
দুর্বলতার সুযোগ নেন জোকোভিচ। পরে টানা দুই সেট জিতে নেন খুব সহজে। তাতে ৩-১ সেটের
ব্যবধানে স্প্যানিশ তারকাকে হারিয়ে সপ্তমবারের মতো জায়গা করে নেন ফ্রেঞ্চ ওপেনের
ফাইনালে। এটা গ্র্যান্ডস্লামে তার ৩৪তম ফাইনাল।
আলকারাজকে
হারালেও তার মেধায় মুগ্ধ জোকোভিচ। ম্যাচ শেষে স্প্যানিশ খেলোয়াড়টিকে নিয়ে তিনি
বলেন, ‘এই পর্যায়ে পেশিতে কিংবা শারীরিক সমস্যা আসলেই দুঃখজনক। তার জন্য আমি
মর্মাহত। আমি বুঝতে পারছি, আবেগ ও বাস্তবতা তাকে কতটা প্রভাবিত করেছে। হয়তো
ক্যারিয়ারের প্রথম বলে সে জিততে চেয়েছিল। এটা শিক্ষারই অংশ। আশাকরি, খুব দ্রুতই সে
সুস্থ হয়ে ফিরে আসবে। সে জানে কতটা তরুণ সে। তার সামনে অনেকটা সময় পড়ে আছে। আমি মনে
করি, সে বহুবার এখানে শিরোপা জিতবে।’
শুক্রবার রাতে আরেক সেমিফাইনালে জার্মানির আলেক্সান্ডার জেভেরেভকে ৬-৩, ৬-৪, ৬-০ গেমে হারান রুড। এ নিয়ে টানা দ্বিতীয়বার ফ্রেঞ্চ ওপেনের ফাইনালে উঠলেন নরওয়েজিয়ান খেলোয়াড়টি। গতবার ফাইনালে তিনি হেরে যান নাদালের কাছে। তাকে হারিয়ে রোলাঁ গারোঁয় রেকর্ড ১৪তম শিরোপা হাতে নেন নাদাল। সুরকির কোর্টে দ্বিতীয়বারের চেষ্টায় কি শিরোপার স্বাদ পাবেন রুড। পারবেন কি জোকোভিচের উৎসব মাটি করতে?
২৪ বছর বয়সী
রুডের অবশ্য এটা তৃতীয় গ্র্যান্ডস্লাম ফাইনাল। গত বছর ইউএস ওপেনের ফাইনালে তিনি
হেরে যান আলকারাজের কাছে। শুক্রবার সেমিফাইনালে জয়ের পর রুড বলেছেন, ‘আমি
বিন্দুমাত্র আবেগতাড়িত না হয়ে, খুব বেশি চাপ না নিয়ে খেলতে চেয়েছি।’