কমনওয়েলথ মহাসচিবকে প্রধানমন্ত্রী

অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন করতে চায় সরকার

আওয়ামী লীগ সরকার আগামী জাতীয় নির্বাচন অবাধ ও সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে চায় বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এজন্য বিভিন্ন পর্যায়ের পর্যবেক্ষক পাঠাতে কমনওয়েলথ মহাসচিব ব্যারনেস প্যাট্রিসিয়া স্কটল্যান্ডের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। লন্ডনের ক্লারিজ হোটেলের দ্বিপক্ষীয় সভাকক্ষে স্থানীয় সময় শনিবার প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে স্কটল্যান্ড সৌজন্য সাক্ষাৎ করতে এসেছিলেন। যুক্তরাজ্যের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জেমস ক্লিভারলি এবং তার স্ত্রী সুজানা স্পার্কসের সঙ্গেও একই স্থানে বৈঠক করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

আওয়ামী লীগ সরকার আগামী জাতীয় নির্বাচন অবাধ ও সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে চায় বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এজন্য বিভিন্ন পর্যায়ের পর্যবেক্ষক পাঠাতে কমনওয়েলথ মহাসচিব ব্যারনেস প্যাট্রিসিয়া স্কটল্যান্ডের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। লন্ডনের ক্লারিজ হোটেলের দ্বিপক্ষীয় সভাকক্ষে স্থানীয় সময় শনিবার প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে স্কটল্যান্ড সৌজন্য সাক্ষাৎ করতে এসেছিলেন। যুক্তরাজ্যের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জেমস ক্লিভারলি এবং তার স্ত্রী সুজানা স্পার্কসের সঙ্গেও একই স্থানে বৈঠক করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

আলোচনা শেষে হোটেলে সাংবাদিকদের ব্রিফিং করেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন। তিনি বলেন, ‘অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠানে তারা (কমনওয়েলথ) আমাদের সাহায্য করতে চায় এবং আমরা তাদের স্বাগত জানিয়েছি। আমরাও চাই নির্বাচন অবাধ ও সুষ্ঠুভাবে অনুষ্ঠিত হোক। কমনওয়েলথ মহাসচিব অতীতের মতো জেলা পর্যায়ে বাংলাদেশের নির্বাচন কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণ দেয়ার প্রস্তাব দিয়েছেন।’

আব্দুল মোমেন বলেন, ‘আমাদের প্রধানমন্ত্রীই নির্বাচনের বিষয়টি উত্থাপন করেন এবং আগামী সংসদ নির্বাচন পর্যবেক্ষণের জন্য কমনওয়েলথ থেকে বিভিন্ন পর্যায়ের পর্যবেক্ষক পাঠানোর আহ্বান জানান। জবাবে কমনওয়েলথ মহাসচিব জানিয়েছেন, তারা আগামী সাধারণ নির্বাচন শান্তিপূর্ণ, সুষ্ঠু ও অংশগ্রহণমূলক অনুষ্ঠানে বাংলাদেশকে সাহায্য করতে চান। সংস্থার কিছু সদস্য দেশে সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠানে সহায়তা করেছেন বলেও জানান। সেক্ষেত্রে সব রাজনৈতিক দলের রাজনৈতিক অঙ্গীকার প্রয়োজন যে তারা নির্বাচনে অংশ নেবে, ভোটের ফল মেনে নেবে এবং হারলে বা জিতলে সহিংসতায় যাবে না।’

এদিকে যুক্তরাজ্যের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জেমস ক্লিভারলিও বাংলাদেশে আসন্ন সাধারণ নির্বাচন সুষ্ঠুভাবে অনুষ্ঠানের বিষয়ে কথা বলেন। জবাবে শেখ হাসিনা বলেন, ‘আমরা সুষ্ঠু নির্বাচন করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ, যাতে সবার অংশগ্রহণ প্রয়োজন। সুষ্ঠু নির্বাচন করতে আমি সবার সহযোগিতা চাই। আওয়ামী লীগ সরকার সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্য প্রয়োজনীয় সবকিছু করেছে। কেউ যাতে কারচুপি করতে না পারে সেজন্য ছবিসহ ভোটার তালিকা এবং স্বচ্ছ ব্যালট বাক্স তৈরি করা হয়েছে।’

প্রধানমন্ত্রীর বরাত দিয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্দুল মোমেন বলেন, ‘আমরা চাই সুষ্ঠু নির্বাচন হোক। আমার দল সবসময় দেশে গণতন্ত্র বজায় রেখেছে। আমরা দেশের গণতন্ত্রকে একটি শক্তিশালী ভিত্তি দিয়েছি। সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্য প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো তৈরির পাশাপাশি নির্বাচন কমিশনকে যথেষ্ট স্বাধীন ও শক্তিশালী করা হয়েছে। অন্যদিকে বিএনপি ভোট কারচুপির জন্য ১ কোটি ২৩ লাখ ভুয়া ভোটার যুক্ত করে ভোটার তালিকা তৈরি করেছিল।’ প্রধানমন্ত্রী জানান, তারা ওয়েস্টমিনস্টারের আদলে গণতন্ত্রে বিশ্বাসী, যার অনুসরণে বাংলাদেশ জাতীয় সংসদে প্রশ্নোত্তর পর্ব চালু করেছে।

বৈঠকে রোহিঙ্গা ইস্যু ছাড়াও জলবায়ু, ব্যবসা-বাণিজ্যের মতো বেশকিছু দ্বিপক্ষীয় বিষয়ও আলোচনায় এসেছে। বিপুলসংখ্যক রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দেয়ায় বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর মানবিক ভূমিকার ভূয়সী প্রশংসা করেন যুক্তরাজ্যের পররাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘রোহিঙ্গাদের দ্রুত প্রত্যাবাসনে ব্রিটেন বাংলাদেশের পাশে থাকবে। এরই মধ্যে ব্রিটিশ সরকার রোহিঙ্গা ইস্যুতে নিরাপত্তা পরিষদে একটি বিল তুলেছে এবং রেজল্যুশন পাস করতে কার্যকর ভূমিকা রেখেছে।’

শেখ হাসিনা বলেন, ‘স্বাধীনতার পর পাকিস্তানের কারাগার থেকে মুক্তি পেয়ে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান লন্ডনে এলে তাকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানানো হয়। এরপর থেকে যুক্তরাজ্যের সঙ্গে বাংলাদেশের খুব ভালো সম্পর্ক রয়েছে।’ জবাবে জেমস ক্লিভারলি বলেন, ‘বছরের পর বছর ধরে বাংলাদেশ ও যুক্তরাজ্যের মধ্যে সম্পর্ক অত্যন্ত গভীর হয়েছে এবং দিন যতই এগিয়ে আসছে এ সম্পর্ক ততই জোরদার হচ্ছে।’ এ সময় তিনি শেখ হাসিনার গতিশীল নেতৃত্বে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতিরও প্রশংসা করেন বলে জানান পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্দুল মোমেন।

বৈঠকে আরো উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর বেসরকারি শিল্প ও বিনিয়োগ উপদেষ্টা সালমান ফজলুর রহমান, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী মো. শাহরিয়ার আলম, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব মো. তোফাজ্জেল হোসেন মিয়া, পররাষ্ট্র সচিব মাসুদ বিন মোমেন, প্রধানমন্ত্রীর স্পিচ রাইটার এম নজরুল ইসলাম এবং যুক্তরাজ্যে বাংলাদেশের হাইকমিশনার সাইদা মুনা তাসনীম।

আরও