ব্রি ২৮-২৯-এর বিকল্প

বোরো আবাদে জনপ্রিয় হচ্ছে ব্রি ৮৮-৮৯-৯২ ও বঙ্গবন্ধু ১০০

দীর্ঘদিন বোরো আবাদে কৃষকদের বড় একটি অংশের কাছে ধানের সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য জাত ছিল ব্রি ২৮ ও ২৯। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোয় দেখা গেছে, জাত দুটিতে ব্লাস্টের আক্রমণ বেড়েছে। স্থানীয় কৃষি কর্মকর্তারা এখন জাত দুটি আবাদে নিরুৎসাহিত করছেন। উপযুক্ত নতুন জাতের সন্ধান করছেন কৃষকরাও। খাতসংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, বর্তমানে ব্রি ২৮ ও ২৯-এর

দীর্ঘদিন বোরো আবাদে কৃষকদের বড় একটি অংশের কাছে ধানের সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য জাত ছিল ব্রি ২৮ ২৯। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোয় দেখা গেছে, জাত দুটিতে ব্লাস্টের আক্রমণ বেড়েছে। স্থানীয় কৃষি কর্মকর্তারা এখন জাত দুটি আবাদে নিরুৎসাহিত করছেন। উপযুক্ত নতুন জাতের সন্ধান করছেন কৃষকরাও। খাতসংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, বর্তমানে ব্রি ২৮ ২৯-এর পরিবর্তে কৃষকদের ব্রি ৮৮, ৮৯ ৯২ এবং বঙ্গবন্ধু ১০০ জাতের ধান আবাদে ঝুঁকতে দেখা যাচ্ছে বেশি। বোরো আবাদে ২৮ ২৯-এর বিকল্প হয়ে উঠেছে জাতগুলো।

দেশে চালের সবচেয়ে বড় মৌসুম বোরো। মোট উৎপাদনের প্রায় অর্ধেকই মৌসুম থেকে আসে। আবার বোরো মৌসুমে আবাদ হওয়া ধানের প্রায় ৩০-৩৫ শতাংশই ব্রি ২৮ ২৯ জাতের ধান। দুটির পর ধানের আরো শতাধিক জাত উদ্ভাবন করেছে ব্রি। যদিও বোরো আবাদে দীর্ঘদিন ব্রি ২৮ ২৯-কেই সবচেয়ে বেশি নিরাপদ ঝুঁকিমুক্ত হিসেবে দেখেছেন কৃষক।

কিন্তু ব্লাস্টের প্রাদুর্ভাবসহ নানা কারণে জাত দুটি নিয়ে কৃষক এখন বিপাকে। চলতি বছরেও হাওরসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় জাত দুটি ব্লাস্ট রোগে আক্রান্ত হওয়ায় কৃষকরা ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়েছেন। অন্যদিকে ব্রি থেকে দুই জাতকে প্রতিস্থাপনে ব্রি ধান ৮৮, ৮৯, ৯২ বঙ্গবন্ধু ১০০ ধান আবাদে জোর দেয়া হচ্ছে। গত বছরের চেয়ে বছর জাতগুলোর আবাদ দ্বিগুণের বেশি বাড়লেও তা এখনো সন্তোষজনক অবস্থায় পৌঁছতে পারেনি। এখনো ব্রি ২৮ ২৯-এর প্রভাবই বোরো মৌসুমে সবচেয়ে বেশি।

কৃষি খাতসংশ্লিষ্টরা বলছেন, প্রায় তিন দশক ধরে ব্রি ২৮ ২৯ জাতের ধান চাষ করছেন কৃষক। এরপর অনেক জাত বিভিন্ন সময় বিকল্প হিসেবে এলেও সেগুলো টেকেনি। কারণে নতুন উদ্ভাবিত জাতে ঝুঁকতে কৃষকের সময় লাগছে। নতুন উদ্ভাবিত জাতের ফলন ভালো হলে তা দীর্ঘমেয়াদে অবদান রাখতে সক্ষম হবে।

ব্রির গবেষণা পরিচালক (চলতি দায়িত্ব) . মোহাম্মদ খালেকুজ্জামান বণিক বার্তাকে বলেন, যেকোনো নতুন জাতে কৃষকের অভ্যস্ত হতে একটু সময় লাগে। আবার সত্যিকারার্থে ব্রি ২৮ জাতের চাল দিয়ে রান্না করা ভাত খেতে সুস্বাদু। কারণে কৃষক সহজেই এটি ছাড়তে চাইছেন না। ব্রি ৮৯ ৯২ দুটো জাতই খুব ভালো। বঙ্গবন্ধু ১০০ ধানেও ভালো ফলন হয়েছে এবার। কৃষক একসময় এগুলোয়ই ঝুঁকবেন। বছর যেহেতু ব্লাস্টের প্রাদুর্ভাব হয়েছে, সেহেতু আগামীতে কৃষকরা ২৮ ২৯ চাষে ঝুঁকতে চাইবেন না।

তিনি আরো বলেন, বছরের কিছু সময় দিন-রাতের তাপমাত্রার মধ্যে বেশি ব্যবধান ছিল। কারণে কিছু জায়গায় ব্লাস্ট হয়েছে। দিনের বেলায় গরম (২৫-২৮ ডিগ্রি সেন্টিগ্রেড) রাতে ঠাণ্ডা (২০-২২ ডিগ্রি সেন্টিগ্রেড), শিশিরে ভেজা দীর্ঘ সকাল, অতি আর্দ্রতা, মেঘাচ্ছন্ন আকাশ, ঝড়ো আবহাওয়া এবং গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি ব্লাস্ট রোগের আক্রমণের কারণ।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের (ডিএই) তথ্য অনুযায়ী, ২০২১-২২ অর্থবছরে মোট বোরোর আবাদ হয়েছে ৫০ লাখ ২২ হাজার হেক্টর জমিতে। এর মধ্যে উচ্চফলনশীল (উফশী) জাতের ধান প্রায় ৩৫ লাখ ৯৩ হাজার হেক্টর, হাইব্রিড জাতের ধান ১৪ লাখ হাজার দেশী জাতের ধান ২০ হাজার হেক্টর। এছাড়া ব্রি ২৯ জাতের ধান আবাদ হয়েছে ১০ লাখ ১০ হাজার হেক্টর জমিতে, যা মোট আবাদের ২০ দশমিক ১২ শতাংশ। আর ব্রি ২৮ জাতের ধান আবাদ হয়েছে লাখ ১৬ হাজার হেক্টরে, যা মোট বোরো আবাদের ১৬ দশমিক ২৬ শতাংশ। অর্থাৎ ব্রি ২৮ ২৯ দুই জাতের ধানই আবাদ হচ্ছে প্রায় ৩৬ দশমিক ৩৮ শতাংশ জমিতে।

ডিএই সূত্রে জানা যায়, চলতি বছর ৪৯ লাখ ৯৯ হাজার ৮৭২ হেক্টর জমিতে বোরো মৌসুমে ধান আবাদ করা হয়েছে। এর মধ্যে হাওর অঞ্চল হিসেবে বিবেচিত সাত জেলায় লাখ ৫৩ হাজার ১৩৭ হেক্টর জমিতে আবাদ হয়েছে। এর মধ্যে লাখ ৫২ হাজার হেক্টর হাওরে এবং লাখ হেক্টর জেলাগুলোর হাওরবহির্ভূত এলাকায় চাষ হয়েছে। এরই মধ্যে হাওরের প্রায় ৯২ শতাংশের বেশি ধান কর্তন করা হয়েছে। আর দেশের মোট আবাদকৃত জমির প্রায় ৩৩ শতাংশ ধান কর্তন করা হয়েছে। মোট ফলন হয়েছে ৭০ লাখ টন। ব্রি থেকে দীর্ঘদিন ধরেই ব্রিধান ২৮ ২৯ জাত দুটি প্রতিস্থাপনের ওপর জোর দেয়া হচ্ছে। কয়েকটি জাতকে বিকল্প হিসেবে ভাবা হলেও সেগুলো কৃষকপ্রিয়তা অর্জন করতে পারেনি। রোগবালাই ধরে সে জাতগুলোর প্রতি আস্থা হারিয়েছেন কৃষক। বর্তমানে দুই জাতের বিকল্প হিসেবে ভাবা হচ্ছে ব্রি ধান ৮৮, ৮৯, ৯২ বঙ্গবন্ধু ধান ১০০ চার জাতকে।

ব্রি সূত্রে জানা যায়, ব্রি ৮৮ জাতটি ব্রি ২৮-এর চেয়ে খাটো। ফলে এটি সহজে ঢলে পড়ে না। ফলনও ২৮-এর চেয়ে বেশি। শীষ থেকে ধান সহজে ঝরে পড়ে না। ২০১৮ সালে জাতটি স্বীকৃতি পায়। আর ব্রি ধান ২৯-এর পরিপূরক জাত হিসেবে ২০১৮ সালে ব্রি ধান ৮৯ ২০১৯ সালে ব্রি ধান ৯২ স্বীকৃতি পায়। দুটি জাতই ২৯-এর চেয়ে ফলন বেশি বেশি রোগ প্রতিরোধী। আর ২০২০ সালে স্বীকৃতি পায় বঙ্গবন্ধু ধান ১০০। জাতটির ফলনও ব্রিধান ২৮ ২৯-এর চেয়ে বেশি।

গত বোরো মৌসুমে জাতগুলোর মধ্যে ব্রিধান ৮৮ জাত ৬৪ হাজার হেক্টরে, ব্রিধান ৮৯ জাত লাখ ৩৮ হাজার হেক্টরে, ব্রিধান ৯২ জাত ৩০ হাজার হেক্টরে এবং বঙ্গবন্ধু ধান ১০০ জাত ৩৫৯ হেক্টর জমিতে আবাদ করা হয়। অর্থাৎ চার জাতের ধান মোট আবাদের শতাংশেরও নিচে।

ব্রির বিজ্ঞানীরা বলছেন, গত বছরের চেয়ে এবার নতুন উদ্ভাবিত জাতগুলোর আবাদ দ্বিগুণেরও বেশি বাড়বে। এছাড়া কৃষকদের নতুন জাতগুলোর প্রতি আকৃষ্ট করতে বিভিন্ন প্রদর্শনী দেয়া হয়েছে। ব্রি ধান ২৮-এর পরিবর্তে ব্রি ৮৮ জাত আবাদে পরামর্শ দেয়া হচ্ছে। এছাড়া ব্রি ২৯-এর বিকল্প হিসেবে ব্রি ৮৯ ৯২ জাতের ধান আবাদ করতে পরামর্শ দেয়া হচ্ছে।

চলতি বছর হাওর অঞ্চল, কুমিল্লা, ব্রাহ্মণবাড়িয়া চাঁদপুরসহ দেশের বেশ কয়েকটি জেলায় জাত দুটিতে ব্লাস্ট রোগ হানা দেয়। এতে কৃষকের আবাদকৃত ধান চিটা হয়ে যায়। যদিও ডিএই বলছে, ব্লাস্ট রোগে পর্যন্ত দুই হাজার হেক্টর জমি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। কিন্তু হাওর অঞ্চলের কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ব্রি ২৮ ২৯ জাতের ধান আবাদকারী অর্ধেক কৃষকই ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন।

মৌলভীবাজার জেলার হাওরে বছর মোট ২৭ হাজার হেক্টর জমিতে ধান আবাদ হয়েছে। এর মধ্যে ব্রি ২৮ ২৯ আবাদ হয়েছে প্রায় ২১ হাজার হেক্টর জমিতে। কৃষকরা জানিয়েছেন, তাদের অর্ধেক ফলন এবার ব্লাস্ট হওয়ায় কমে গেছে।

হাকালুকি হাওরের কৃষক রহিম উদ্দিন জানান, ধান মরে যাওয়ায় অনেক কৃষক ধান না কেটে জমিতে ফেলে যান। কারণ শ্রমিক দিয়ে ধান কাটতে যে খরচ লাগবে সে খরচ প্রাপ্ত ফসল বিক্রি করে পাওয়া যাবে না।

কুলাউড়ার আরেক কৃষক আব্দুল কাইয়ুম বলেন, হাকালুকি হাওরের প্রায় অর্ধেক ফসল নষ্ট হয়েছে। স্থানীয় কৃষি অফিসাররা এসে সময়মতো খোঁজখবর নেননি এবং কৃষকদের পরামর্শও দেননি।

বিষয়ে মৌলভীবাজার কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিদর্শক সামছুদ্দিন আহমেদ জানান, জেলায় ৭০০ হেক্টর জমির ব্রি ২৮ ২৯ ধান সম্পূর্ণ নষ্ট হয়েছে। তবে আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত ধানের তথ্য নেই।

এদিকে তুলনামূলক উঁচু অঞ্চলে ধানে রোগ দেখা দেয়নি। সেখানে কৃষকরা ভালো ফলন পেয়েছেন বলে জানিয়েছেন। আবার ব্রি ২৮ ২৯ জাত ছাড়া বাকি জাতগুলোয়ও তুলনামূলক অন্য বছরের চেয়ে ভালো ফলন হয়েছে।

গাজীপুরের কৃষক মুজিবুর রহমান বছর ব্রি ২৮ ২৯-এর পরিবর্তে ব্রি ধান ৮৯, ৯২ বঙ্গবন্ধু ১০০ ধান আবাদ করেছেন। তিনি বলেন, পাঁচ বিঘা জমিতে ধান চাষ করেছি। আগের চেয়ে প্রতি বিঘায় অন্তত ১০ মণ ধান বেশি হয়েছে। তাছাড়া খরচও কম লাগছে। রোপণের দেড় মাসের মধ্যেই আমরা ধান ঘরে তুলতে পারছি।

জেলার মুক্তারপুর ইউনিয়নের ধনপুর গ্রামের বৃদ্ধ কৃষক আলম মিয়া বলেন, আমার বয়সে জাতের ধানের মতো ফলন পাইনি। বাম্পার ফলন পাচ্ছি। ব্রি ধান ৮৯, ৯২ বঙ্গবন্ধু ধান ১০০ জাতের চাল চিকন। তিন জাতের ধান চাষে পানিও কম লাগে, কীটনাশক লাগে না বললেই চলে। ফলনও অনেক বেশি হয়।

নওগাঁ সদর উপজেলার শিকারপুর ইউনিয়নের সরাইল গ্রামের কৃষক মহসিন রেজা বলেন, গুটিয়ার বিলে ১৫ বিঘা জমিতে জিরাশাইল জাতের ধান আবাদ করে ৪২০ মণ ফলন পেয়েছি। এবার আবহাওয়া অনুকূল থাকায় বাম্পার ফলন হয়েছে। ধানের গুণগত মান ভালো হওয়ায় বাড়িতে এসেই ব্যবসায়ীরা হাজার ১৩০ টাকা মণ দাম হাঁকছেন। বিগত দিনের চেয়ে এবার উৎপাদন খরচ বেড়েছে।

বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের জেনেটিকস অ্যন্ড প্লান্ট ব্রিডিং বিভাগের অধ্যাপক . মো. আনোয়ার হোসেন বণিক বার্তাকে বলেন, ব্রি ২৮ ২৯ জাতের ধান চাষ না করতে কয়েক বছর ধরেই নিরুৎসাহিত করা হচ্ছে। এর পরিবর্তে ব্রি ৮৮ ৮৯ জাতের ধান আবাদ করতে উৎসাহ দেয়া হয়েছে। দুটি জাত ব্লাস্ট প্রতিরোধী। ফলে এখানে ঝুঁকি কম। ব্রি ২৮ ২৯ না করতে আরো প্রচারণা চালাতে হবে। নতুন জাতে গুরুত্ব দিলে সংকট থাকবে না।

সাবেক কৃষি সচিব আনোয়ার ফারুক বণিক বার্তাকে বলেন, সঠিক তথ্য দিতে হবে। ব্লাস্টে কী পরিমাণ ক্ষতি হয়েছে তার নির্ভরযোগ্য তথ্য দিতে হবে। কারণ কোন এলাকায় বেশি ক্ষতি হয়েছে, কোন সময়ে রোপণের কারণে ক্ষতি হয়েছে এগুলো নিয়ে গবেষণা করতে হবে। তাহলে ভবিষ্যতে অন্য জাতগুলোর ক্ষেত্রেও সিদ্ধান্ত নেয়া যাবে। এবার সম্ভবত হাওরসহ নিচু অঞ্চলে ব্লাস্ট হয়েছে। ব্রি ২৮ ২৯ জাতের ধান বেশি আক্রান্ত হয়েছে। আগেও এর বিকল্প হিসেবে জাত এসেছে। কিন্তু সেগুলো টিকছে না। এবার যেগুলোর ওপর জোর দেয়া হচ্ছে সে জাতগুলো ফলন ভালো দিচ্ছে। এগুলোকে সম্প্রসারণে আরো গুরুত্ব দিতে হবে।

নতুন উদ্ভাবিত ব্রি ৮৮, ৮৯, ৯২ বঙ্গবন্ধু ১০০ জাতের বিষয়ে ব্রির মহাপরিচালক শাহজাহান কবীর বলেন, ব্রি উদ্ভাবিত নতুন জাতগুলোয় তুলনামূলক পানি কম লাগে। তাছাড়া কম সময়ে পেকে যাওয়ায় এবং রোগবালাই কম হওয়ায় চাষীরা ধান চাষে আকৃষ্ট হচ্ছেন। বছর অন্যান্য জাতের ধানে বিভিন্ন পোকার (ব্লাস্ট) আক্রমণের খবর পাওয়া গেলেও জাতের ধানে তা হয়নি। পোকার আক্রমণ না হওয়ায় ধান চাষে খরচও কম। আবার অন্যান্য ধান চাষে বিঘাপ্রতি যেখানে ১৮-২০ মণ পাওয়া যাচ্ছে, নতুন জাতের ধান উৎপাদন করা যাচ্ছে ৩০-৩৩ মণ পর্যন্ত।

(প্রতিবেদনটি তৈরিতে সহযোগিতা করেছেন মৌলভীবাজার প্রতিনিধি আহমেদ আফরোজ নওগাঁ প্রতিনিধি আরমান হোসেন রুমন)

আরও