নিয়মিত নাচ ও নাটক নিয়ে থাকেন মন্দিরা চক্রবর্তী। তবে শিগগিরই বড় পর্দায় অভিষেকের অপেক্ষায় আছেন তিনি। গিয়াস উদ্দিন সেলিমের পরিচালনায় ‘কাজলরেখা’ সিনেমায় নাম ভূমিকায় অভিনয় করে রুপালি জগতে পা রাখলেন এ অভিনেত্রী। গত বছরই সিনেমাটির শুটিং শেষ হয়েছে। ফেব্রুয়ারিতে কাজলরেখার মুক্তির কথা ছিল। এ নিয়ে মন্দিরা চক্রবর্তী জানান, আগামী ঈদে সিনেমাটি মুক্তি পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে বলে জানিয়েছেন নির্মাতা। তাই আপাতত এর মুক্তির জন্য অপেক্ষা করতে হচ্ছে। সিনেমাটিতে অভিনয় প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘আমার ভীষণ মনে পড়ে সেলিম ভাইয়ের মনপুরা সিনেমার কথা। এ সিনেমাও বেশ অপেক্ষার পর মুক্তি পেয়েছিল, বিশেষত ফারহানা মিলি আপুকে এর জন্য অপেক্ষা করতে হয়েছিল দীর্ঘ সময়। আমিও প্রবল আগ্রহ নিয়ে ধৈর্য ধরেই কাজলরেখার মুক্তির জন্য অপেক্ষা করছি। না, এজন্য অবশ্য আমার একটুও খারাপ লাগছে না। বরং আমিও কাজলরেখার চরিত্রটি পর্দায় দেখার অপেক্ষায় আছি। অনেকেই এর মধ্যে জানতে চেয়েছেন, কবে মুক্তি পাবে এটি। তাদের জন্যই বলছি, আগামী ঈদেই আসছে কাজলরেখা।’
সিনেমাটিতে নিজের চরিত্র প্রসঙ্গে এ অভিনেত্রী বলেন, ‘এ সিনেমায় নিজেকে কাজলরেখা রূপে গড়ে তুলতে আমাকে অনেক শ্রম দিতে হয়েছে। সেলিম ভাইসহ পুরো ইউনিট আমাকে ভীষণ সহযোগিতা করেছে। সহশিল্পী যারা আছেন, প্রত্যেকেই অনুপ্রেরণা দিয়েছেন। সবকিছু মিলিয়েই আমার অভিনীত কাজলরেখা চরিত্রটি অনন্য হয়ে উঠেছে। আমি ভীষণ আশাবাদী সিনেমাটি নিয়ে।’
মন্দিরা চক্রবর্তী জানান, এ সিনেমা মুক্তির আগ পর্যন্ত তিনি অন্য কোনো কাজ করছেন না। এটি মুক্তির পর তিনি নতুন কাজে মনোযোগ দেবেন। ছোটবেলা থেকেই নাচের প্রতি আলাদা আকর্ষণ ছিল তার। ২০১২ সালে দেশের জনপ্রিয় রিয়েলিটি শো ‘চ্যানেল আইয়ের সেরা নাচিয়ে’-এর দ্বিতীয় রানারআপ খেতাব জয় করেন তিনি। এরপর থেকে নাচের অনুষ্ঠানের পাশাপাশি নাটকে নিয়মিত অভিনয় করছেন।
কাজলরেখার প্রধান দুটি চরিত্রে অভিনয় করেছেন শরিফুল রাজ ও নবাগত চিত্রনায়িকা মন্দিরা চক্রবর্তী। বিভিন্ন চরিত্রে রয়েছেন রাফিয়াথ রশিদ মিথিলা, ইরেশ যাকের, আজাদ আবুল কালাম, খায়রুল বাশার, সাদিয়া আয়মানসহ অনেকে। এ সিনেমায় কঙ্কন দাসী চরিত্রে অভিনয় করছেন মিথিলা আর সুচ কুমার চরিত্রে শরীফুল রাজ। গত এপ্রিলে শুরু হয়েছিল এর শুটিং। পরিচালনার পাশাপাশি এ সিনেমার চিত্রনাট্য ও সংলাপ বিন্যাস করেছেন গিয়াস উদ্দিন সেলিম।
মৈমনসিংহ গীতিকার কাজলরেখা অবলম্বনে খ্যাতিমান পরিচালক গিয়াস উদ্দিন সেলিম নির্মাণ করছেন সিনেমাটি। এটি ২০১৯-২০ অর্থবছরে সরকারি অনুদানপ্রাপ্ত। এটি মূলত একটি রূপকথার গল্প, যেটি ৪০০ বছর আগের কাহিনী। নেত্রকোনার দুর্গাপুরে সিনেমাটির শুটিং হয়েছে।