মেট্রোরেল নির্মাণে সাত ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান

উত্তরার দিয়াবাড়ীতে ২০১৬ সালের সেপ্টেম্বরে ডিপোর ভূমি উন্নয়নের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয় দেশের প্রথম মেট্রোরেলের নির্মাণকাজ। এরপর একে একে শুরু হয় ডিপোর অবকাঠামো উন্নয়ন, মূল উড়ালপথ ও স্টেশন নির্মাণ, বিদ্যুৎ সংযোগ ব্যবস্থা স্থাপন এবং ইঞ্জিন-কোচ সংগ্রহের কাজ। মেট্রোরেল নির্মাণ ও পরিচালনার দায়িত্বে রয়েছে ঢাকা ম্যাস ট্রানজিট

উত্তরার দিয়াবাড়ীতে ২০১৬ সালের সেপ্টেম্বরে ডিপোর ভূমি উন্নয়নের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয় দেশের প্রথম মেট্রোরেলের নির্মাণকাজ। এরপর একে একে শুরু হয় ডিপোর অবকাঠামো উন্নয়ন, মূল উড়ালপথ স্টেশন নির্মাণ, বিদ্যুৎ সংযোগ ব্যবস্থা স্থাপন এবং ইঞ্জিন-কোচ সংগ্রহের কাজ। মেট্রোরেল নির্মাণ পরিচালনার দায়িত্বে রয়েছে ঢাকা ম্যাস ট্রানজিট কোম্পানি লিমিটেড (ডিএমটিসিএল) সার্বিক নির্মাণকাজ বাস্তবায়নের জন্য সাতটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান বা ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের জয়েন্ট ভেঞ্চারকে নিযুক্ত করেছে সংস্থাটি। সে প্রতিষ্ঠানগুলোই গড়ে তুলছে উত্তরা-মতিঝিল মেট্রোরেল বা এমআরটি লাইন-৬।

দিয়াবাড়ীতে ৪২ হেক্টর জমির ওপর গড়ে তোলা হয়েছে এমআরটি লাইন--এর ডিপো। জায়গাটি ডিপোর বিভিন্ন অবকাঠামো নির্মাণের উপযোগী করতে সবার আগে হয় মাটি ভরাটের কাজ। সব মিলিয়ে দশমিক লাখ ঘনমিটার মাটি ভরাট করা হয় সেখানে। কাজটি শুরু হয় ২০১৬ সালের সেপ্টেম্বর। শেষ হয় ২০১৮ সালের ৩১ জানুয়ারি। ডিপোর ভূমি উন্নয়নের কাজটি করেছে জাপানি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান টোকিও কনস্ট্রাকশন কোম্পানি। এজন্য প্রতিষ্ঠানটির সঙ্গে ৫৬৭ কোটি টাকায় চুক্তিবদ্ধ হয় ডিএমটিসিএল। যদিও ডিএমটিসিএলের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, কাজটি বাস্তবায়ন করতে ৭০ কোটি ৫৮ লাখ টাকা সাশ্রয় হয়েছে।


ভূমি উন্নয়নের পর ২০১৭ সালের ১৩ সেপ্টেম্বর থেকে ডিপোর ভেতরে বিভিন্ন ধরনের অবকাঠামোর নির্মাণকাজ। মেট্রোরেল রক্ষণাবেক্ষণ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার জন্য বিভিন্ন ধরনের শেড, ওয়ার্কশপ, ভারী যন্ত্রাংশ রাখার জন্য পার্ক, সিগনালিং রুম, কোচ আনলোডিং এরিয়া, পরীক্ষামূলক চলাচলের জন্য রেলপথ, স্বয়ংক্রিয় ট্রেন ওয়াশিং প্ল্যান্ট, বিভিন্ন ধরনের অফিস ভবন, মেডিকেল সেন্টারসহ সেখানে একে একে ৫২টি অবকাঠামো নির্মাণ করা হয়েছে। এসব কাজ বাস্তবায়ন করেছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ইতালিয়ান-থাই ডেভেলপমেন্ট পাবলিক কোম্পানি (ইতাল-থাই) চায়না সিনোহাইড্রো করপোরেশন লিমিটেডের জয়েন্ট ভেঞ্চার। ব্যয় হয়েছে হাজার ৫৯৫ কোটি টাকা।

উত্তরার দিয়াবাড়ী থেকে আগারগাঁও পর্যন্ত মেট্রোরেলের ১১ দশমিক ৭৩ কিলোমিটার উড়ালপথ নয়টি স্টেশনের কাজ বাস্তবায়ন করেছে ইতাল-থাই। ২০১৭ সালের আগস্ট কাজ শুরু করে প্রতিষ্ঠানটি। শুরুতে রুটের মধ্যে থাকা বিভিন্ন সংস্থার পরিষেবা লাইন স্থানান্তর করা হয়। এরপর চেকবোরিং, টেস্ট পাইল, মূল পাইল, পাইল ক্যাপ, আই-গার্ডার, প্রিকাস্ট সেগমেন্ট কাস্টিং, পিয়ার হেড, ভায়াডাক্ট, ভায়াডাক্টের ওপর প্যারাপেট ওয়াল স্থাপন, লং স্প্যান ব্যালান্সড কেন্টিলিভার নির্মাণ, সব স্টেশনের সাব-স্ট্রাকচার, কনকোর্স ছাদ, প্লাটফর্ম ছাদ, স্টিল রুফ স্ট্রাকচার এবং আইকনিক স্টেশনের রুফ শিট স্থাপনের কাজ করা হয়েছে। গত নভেম্বর পর্যন্ত এসব কাজের অগ্রগতি হয়েছে প্রায় ৯৮ শতাংশ। কাজগুলো করতে খরচ হয়েছে হাজার ২৩০ কোটি টাকা।

টেক্কেন করপোরেশন-আব্দুল মোনেম লিমিটেড-আবেনিক্কোর জয়েন্ট ভেঞ্চার বাস্তবায়ন করছে আগারগাঁও থেকে কারওয়ান বাজার পর্যন্ত দশমিক ১৯৫ কিলোমিটার উড়ালপথ তিনটি স্টেশন। ২০১৮ সালের আগস্ট থেকে শুরুর পর এসব কাজের অগ্রগতি ৯০ শতাংশ ছাড়িয়ে গেছে। অংশটুকু বাস্তবায়নে ব্যয় হচ্ছে হাজার ৮৫৫ কোটি টাকা। অন্যদিকে কারওয়ান বাজার থেকে মতিঝিল পর্যন্ত দশমিক ৯২ কিলোমিটার উড়ালপথ চারটি স্টেশন নির্মাণকাজ বাস্তবায়ন করছে সুমিতোমো মিত্সুই কনস্ট্রাকশন কোম্পানি-ইতাল-থাইয়ের জয়েন্ট ভেঞ্চার। গত নভেম্বর পর্যন্ত এসব কাজের অগ্রগতি ৯০ দশমিক ৭৪ শতাংশ। অংশটি বাস্তবায়নে খরচ হচ্ছে হাজার ৩৩২ কোটি টাকা।

মেট্রোরেলের ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড মেকানিক্যাল সিস্টেম সরবরাহ নির্মাণকাজ বাস্তবায়ন করছে ভারতীয় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মারুবেনি করপোরেশন-লারসেন অ্যান্ড টুব্রো জয়েন্ট ভেঞ্চার। ২০১৮ সালের ১১ জুলাই কাজ শুরু হয়। গত নভেম্বর পর্যন্ত এসব কাজের অগ্রগতি ৯০ দশমিক ১৭ শতাংশ। উত্তরা ডিপো এলাকায় রেলওয়ে ট্র্যাক এবং বৈদ্যুতিক স্থাপনা যন্ত্রপাতি স্থাপনের কাজ সম্পন্ন করে কমিশনিং করা হয়েছে। এসব কাজে খরচ হচ্ছে হাজার ৯৩০ কোটি টাকা।

মেট্রোর রেলপথে চলাচলের জন্য কেনা হচ্ছে ২৪ সেট বিদ্যুত্চালিত ট্রেন। সেগুলো তৈরি করছে জাপানের কাওয়াসিকি-মিত্সুবিসি কনসোর্টিয়াম। ট্রেনগুলোর দাম পড়ছে হাজার ২৫৭ কোটি টাকা।

আরও