হলিউডে প্রতি বছর নির্মাণ হয় অসংখ্য সিনেমা। এর মধ্যে নির্দিষ্ট কিছু সিনেমা দর্শক ও সমালোচক উভয়ের কাছ থেকে প্রশংসা পায়। আর বছর শেষে সেরা সিনেমার তালিকা করে সিনেমাসংশ্লিষ্ট ম্যাগাজিন, পত্র-পত্রিকা ও নানা সংস্থা। এ বছরও ব্যতিক্রম হয়নি। দ্য গার্ডিয়ান, ভ্যারাইটি, হলিউড রিপোর্টার তাদের বিশেষজ্ঞ দলের মতামত নিয়ে একটি তালিকা তৈরি করেছেন। কিছু পার্থক্য থাকলেও তালিকায় কয়েকটি সিনেমার নামই ঘুরেফিরে এসেছে। এর মধ্যে কোনো সিনেমা আবার অস্কারে সেরা সিনেমার দৌড়ে এগিয়ে আছে। ফলে এ সিনেমাগুলোকে বছরের সেরা বলাই যায়। দ্য ব্যানশিস অব ইনশেরিন: একাকীত্বের সুর তুলে ধরা সিনেমার তালিকায় মার্টিন ম্যাকডোনাগের দ্য ব্যানিশস অব ইনশেরিন এগিয়ে থাকবে। অনেক দিন ধরে তিনি তুলে রেখেছিলেন এ কাজ এবং শেষ পর্যন্ত যখন আনলেন দর্শকের সামনে, তারা মুগ্ধ হয়ে দেখল। সিনেমাটির মূল শক্তি এর গল্প ও নির্মাণে। আয়ারল্যান্ডের এক ছোট্ট দ্বীপের যে চিত্র মার্টিন এনেছেন, তা দেখে দর্শক স্ক্রিন থেকে চোখ ফেরাতে পারেন না। এর বাইরে কলিন ফ্যারেল ও ব্রেন্ডন গ্লিসনের অভিনয়ও এ সিনেমাকে অন্য মাত্রা দিয়েছে। সার্চলাইট পিকচার্সের সিনেমাটি বক্স অফিসে তেমন ব্যবসা করতে না পারলেও অস্কারের দৌড়ে আছে শুরুর দিকে। এমনকি আইএমডিবিতেও ৮/১০ রেটিং পেয়েছে।
টার: কেন ব্ল্যানচটের পারফরম্যান্সই এ সিনেমাকে টেনে নিয়ে গিয়েছে। সিনেমায় সংগীত এসেছে নানাভাবে আর সংগীতের মধ্য দিয়েই সিনেমাটি দর্শকের সামনে একটি নতুন দিগন্ত উন্মোচন করার চেষ্টা করে। এর চিত্রনাট্য ও পরিচালনা টড ফিল্ডের। ১৬ বছর পর তিনি নির্মাণ করেছেন সিনেমা এবং সেখানে নিজের সেরাটাই দিয়েছেন।
ওয়াকান্ডা ফরএভার: সমালোচকদের পাশাপাশি দর্শক-পছন্দও একটি বড় ব্যাপার। সেদিক থেকে এগিয়ে থাকবে মার্ভেল সিনেম্যাটিক ইউনিভার্সের অন্তত তিনটি সিনেমা (ডক্টর স্ট্রেঞ্জ, থর ও ওয়াকান্ডা)। কিন্তু সমালোচক ও দর্শক উভয়ের পছন্দ ধরলে এ তালিকায় স্থান পাবে ওয়াকান্ডা ফরএভার। রায়ান কুগলার পরিচালিত সিনেমাটি এ বছরের বহুল প্রতীক্ষিত সিনেমার মধ্যে অন্যতম। গল্প, অভিনয়, পরিচালনা, স্পেশাল ইফেক্ট থেকে ব্যাকগ্রাউন্ড স্কোর এমনকি গানের জন্যও সিনেমাটি প্রশংসিত হয়েছে। ‘লিফট মি আপ’ গানের জন্য রিহানা জায়গা করে নিয়েছেন অস্কারের শর্টলিস্টে।
দ্য ব্যাটম্যান: ক্যাটওম্যানকে কৃষ্ণাঙ্গ হয়তো ভাবেনি কেউ। এমনকি গর্ডনকেও না। ভাবলেন ম্যাট রিভস। ব্যাটম্যানকেও করলেন প্রতিশোধপরায়ণ। ব্যাটম্যানের জনপ্রিয় উপস্থাপন বদলে দিয়ে একটি ধূসর চরিত্র তৈরি করলেন তিনি। সফলও হয়েছেন। ব্যাটম্যানকে নানা কারণে এগিয়ে রাখতে হয় এ বছরের সিনেমার তালিকায়। কেননা কভিড-পরবর্তী সময়ে এ বছর বক্স অফিসকে ভরসা দিয়েছিল ম্যাট রিভসের সিনেমাটি। এমনকি ওয়ার্নার ব্রোস ও ডিসির জন্যও আশীর্বাদ এ সিনেমা।
ইও: তালিকার এবারের সিনেমাটি জনপ্রিয় ধারার বাইরের বলা চলে। ব্যানশিস অব ইনিশেরিনের মতো তুমুল প্রশংসা বা ওয়াকান্ডার মতো বক্স অফিস সাফল্য এর নেই। কিন্তু জেরজি স্কোলিমস্কি পরিচালিত সিনেমাটি সমালোচকদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে। একটি গাধাকে কেন্দ্র করে গল্পটি আবর্তিত হয়। ক্ল্যাসিকের দর্শক দেখলেই বুঝতে পারবেন ১৯৬৬ সালের
‘অ আজার বালথাজার’ থেকে অনুপ্রাণিত হয়েই ‘ইও’ নির্মাণ করেছেন জেরজি। সিনেমাটিকে সেরার তালিকায় রেখেছে একাধিক ম্যাগাজিন ও পত্রিকা।
অল দ্য বিউটি অ্যান্ড ব্লাডশেড: নাম শুনেই থ্রিলার কিংবা যুদ্ধের গল্প বলে মনে হয়। লরা পোয়ত্রাসের সিনেমাটি মূলত ন্যান গোল্ডিন নামে এক চিত্রগ্রাহকের জীবন কেন্দ্রিক। তার নিজের অভিজ্ঞতা, ছুটে বেড়ানোর পাশাপাশি এ সিনেমায় উঠে এসেছে আমেরিকার একটি সময়ের কথা। সেখানকার সংস্কৃতির নানা ভাগ, রাজনৈতিক ও সামাজিক নানা অ্যাকটিভিজম এ সিনেমার উপজীব্য। আইএমডিবিতে ৮/১০ পেয়েছে সিনেমাটি।
এলভিস: কিংবদন্তি গায়ক-অভিনেতা এলভিস প্রিসলিকে জীবন্ত করে তুলেছেন অস্টিন বাটলার। সঙ্গে ছিল টম হ্যাংকসের দুর্দান্ত অভিনয়। বাজ লুরম্যানের এ সিনেমাটিকে তালিকায় না রেখে কোনো উপায় নেই। বাটলার সেরা অভিনেতার পুরস্কার পাবেন এমনও ধারণা অনেকের।
দ্য ওয়ে অব ওয়াটার: অনেকটা পিছিয়েই আছে জেমস ক্যামেরনের অ্যাভাটার: দ্য ওয়ে অব ওয়াটার। সিনেমাটি নিয়ে যতটা আশা ছিল বক্স অফিসে ততটা ছাপ ফেলেনি। মুক্তিও পেল বছর শেষে। এ কারণেও সিনেমাটিকে অল্প দিনের মধ্যে বছরের সেরার তালিকায় রাখা হচ্ছে না। কিন্তু অ্যাভাটারকে তো বাদও দেয়া যায় না। নিঃসন্দেহে সিনেমাটি নানা কারণে বছরের অন্যতম সেরা।
এমানসিপেশন: একজন ক্রীতদাসের পালিয়ে যাওয়ার গল্প এমানসিপেশন। সিনেমায় প্রধান চরিত্রে অভিনয় করেছেন উইল স্মিথ। অ্যান্টনি ফকুয়া পরিচালিত সিনেমাটি মুক্তির আগ পর্যন্ত এটির অস্কার সম্ভাব্যতা নিয়ে তুমুল আলোচনা হয়। কিন্তু চড়-কাণ্ডের কারণেই হয়তো ভালো সাড়া পাচ্ছে না। কিন্তু সিনেমা হিসেবে এমানসিপেশন পিছিয়ে নেই।
দ্য ফেবলম্যানস: স্টিফেন স্পিলবার্গের এ সিনেমাই বছরের সেরা সিনেমা বলে মনে করেন অনেক সমালোচক। স্পিলবার্গের নিজের জীবনের ছায়া অবলম্বনে নির্মিত এ সিনেমা। গত বছর কেনেথ ব্রানার বেলফাস্টের মতো এ বছর দর্শক ও বিশেষজ্ঞদের বাজি দ্য ফেবলম্যানস সিনেমার জন্য। স্যামি ফেবলম্যানের শৈশব ও কৈশোরের স্বপ্নের এ সিনেমা স্বপ্ন দেখাচ্ছে দর্শককেও।