বহুপক্ষীয় উন্নয়ন অর্থায়ন সংস্থার সংস্কারের মাধ্যমে তাদের দক্ষতা ও কার্যকারিতা বাড়াতে হবে বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা। গতকাল সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি) ও অর্গানাইজেশন ফর ইকোনমিক কো-অপারেশন অ্যান্ড ডেভেলপমেন্টের (ওইসিডি) যৌথভাবে আয়োজিত ওয়েবিনার থেকে এ মতামত দেন তারা।
‘মাল্টিলেটারাল ডেভেলপমেন্ট ফাইন্যান্স: সাপোর্টিং অ্যান ইনক্লুসিভ অ্যান্ড সাসটেইনেবল রিকভারি ইন সাউথ এশিয়া’
শীর্ষক ওয়েবিনারের আয়োজন করে সিপিডি ও ওইসিডি। ওয়েবিনারে প্রধান অতিথি ছিলেন পররাষ্ট্রবিষয়ক সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য কাজী নাবিল আহমেদ। ওয়েবিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ওইসিডির ইউনিট হেড অলিভার কাতানিও ও পলিসি অ্যানালিস্ট জিউন কিম। এছাড়া উপস্থিত ছিলেন ভারতের রিসার্চ অ্যান্ড ইনফরমেশন সিস্টেম ফর ডেভেলপিং কান্ট্রিজের পরিচালক অধ্যাপক শচীন চতুর্বেদী, সিপিডির বিশেষ ফেলো ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য, শ্রীলংকার আইপিএসের গবেষণা পরিচালক ড. নিশা অরুণাতিলক, পাকিস্তানের এসডিপিআইয়ের নির্বাহী পরিচালক ড. আবিদ কাইয়ুম সুলেরী প্রমুখ। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সিপিডির নির্বাহী পরিচালক ড. ফাহমিদা খাতুন।
কাজী নাবিল আহমেদ বলেন, আমরা তিন বছর ধরে গুরুত্বপূর্ণ সময় পার করছি। কভিড ও কভিড-পরবর্তী সমস্যাসহ ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধ সারা বিশ্বেই ব্যাপক প্রভাব ফেলেছে। যুদ্ধের কারণে সব কিছুর দাম বেড়েছে এবং সাপ্লাই চেইনে সমস্যা হয়েছে। ওইসিডি গুরুত্বপূর্ণ সংগঠন এবং এর সঙ্গে অনেক গুরুত্বপূর্ণ দেশ রয়েছে। বাংলাদেশে একসময় অতিদরিদ্র ছিল ২০ শতাংশ, যা এখন ২০ শতাংশ। এছাড়া দারিদ্র্যের হারও উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। আমাদের অর্থনীতির পরিবর্তনে বিভিন্ন দেশের সহযোগিতা ও বহুপক্ষীয় সহযোগিতা দরকার।
সিপিডির সম্মানীয় ফেলো অধ্যাপক ড. মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, এলডিসি থেকে গ্র্যাজুয়েশনের পাশাপাশি বাংলাদেশ একটি ব্লেন্ড কান্ট্রিতে পরিণত হচ্ছে। যার ফলে আমাদের কস্ট অব ফান্ডিং বাড়বে। কারণ ধীরে ধীরে আমরা অনেক কনসেশন হারাব। এগুলো নিয়ে আমাদের ভাবতে হবে।
সিপিডির নির্বাহী পরিচালক ড. ফাহমিদা খাতুন বলেন, এই রিপোর্ট যথাসময়ে উপস্থাপন করা হয়েছে, যখন সারা বিশ্বেই এক ধরনের প্রতিকূল অবস্থায় এবং অনেক ঝুঁকির মুখে পড়েছে। অনেক অর্থনৈতিক, সামাজিক ও পরিবেশগত সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছে, এসব সমস্যা মোকাবেলায় দীর্ঘমেয়াদি বহুপক্ষীয় বিনিয়োগ প্রয়োজন। তার পরও এখানে বড় গ্যাপ রয়েছে শর্ত ও সম্পদের প্রাপ্যতার মধ্যে।
ওয়েবিনারে বক্তারা আরো বলেন, বহুপক্ষীয় উন্নয়ন সংস্থা যেমন ইউএন, ওয়ার্ল্ড ব্যাংক, আইএমএফসহ অনেক প্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন ফান্ড রয়েছে। তবে আর্থিক চাহিদার তুলনায় এসব ফান্ডিং প্রতিষ্ঠান যে সরবরাহ দেয় তাতে বিশাল ঘাটতি রয়েছে। বিশেষজ্ঞরা স্বল্পমেয়াদি ও দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগের মধ্যে ভারসাম্য করতে বলেন। বিশ্বব্যাপী কভিড ও কভিড-পরবর্তী রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে অনেক সংকট যাচ্ছে বলে বিশ্বের বিভিন্ন জায়গায় মন্দা হচ্ছে এবং মুদ্রাস্ফীতি হচ্ছে। খাদ্য, তেল সংকট হচ্ছে এবং জলবায়ু পরিবর্তনের ফলেও সমস্যা তৈরি হচ্ছে। তাই বহুপক্ষীয় উন্নয়ন সংস্থার কাছে ফান্ডের চাহিদাও বাড়ছে।
তারা আরো বলেন, বহুপক্ষীয় যেসব সংস্থা রয়েছে তাদের মধ্যে একটা সমন্বয় দরকার, তারা অনেক সময় বিচ্ছিন্নভাবে বা আলাদাভাবে কাজ করে। দেখা যায়, একই জায়গায় একই রকম ফান্ডিং হচ্ছে কিন্তু বিচ্ছিন্নভাবে। যদি তারা একে অন্যের সঙ্গে সমন্বয় করত তাহলে এই ফান্ড আরো কার্যকর হতো। এজন্য সবাই মনে করছে, বহুপক্ষীয় উন্নয়ন অর্থায়নকে সংস্কারের মাধ্যমে আরো শক্তিশালী করতে হবে।
বিশেষজ্ঞরা বলেন, বহুপক্ষীয় উন্নয়ন সংস্থাগুলোর সংস্কার দরকার। যাতে এ প্রতিষ্ঠানগুলো দক্ষতা বাড়াতে পারে। তারা নিজেদের মধ্যে সমন্বয় বৃদ্ধি করে কার্যকারিতা বাড়াতে পারে। এসব বহুপক্ষীয় আর্থিক সংস্থাগুলো বিভিন্ন সরকার থেকে সহায়তা পেয়ে থাকে। তাদের আরো অর্থের প্রয়োজন, কিন্তু তারা অর্থ তখনই পাবে যখন তাদের উন্নয়ন আরো কার্যকরী হবে। উন্নয়নটাকে সামগ্রিক করতে হবে। যে উন্নয়ন সামাজিকভাবে অন্তর্ভুক্তিমূলক ও পরিবেশগতভাবে টেকসই হবে।