২০২৬ সালে বাংলাদেশ এলডিসি থেকে উন্নয়নশীল দেশে উন্নীত হবে। উত্তরণের পর পণ্য রফতানিতে অনেকগুলো বাজার সুবিধা হারাবে বাংলাদেশ। ফলে বাংলাদেশের জন্য প্রতিকূল অবস্থা তৈরি হতে পারে। উত্তরণের পর কী কী সুবিধা বাংলাদেশ হারাতে পারে তা নিয়ে এখন থেকেই প্রস্তুতি নিতে হবে। এ অবস্থা মোকাবেলায় নীতিমালা তৈরিতে রাজনৈতিক, কারিগরি ব্যক্তি, বিজনেস হোল্ডার, একাডেমিসিয়ানসহ বিভিন্ন স্টেকহোল্ডারের মধ্যে সমন্বয় করতে হবে।
গতকাল সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি) আয়োজিত ‘ডব্লিউটিও-এমসি১২ আউটকামস, নেক্সট স্টেপস ফর বাংলাদেশ অ্যাজ আ গ্রাডুয়েটিং এলডিসি’ শীর্ষক সংলাপে এসব বিষয় তুলে ধরেন অতিথিরা। অনুষ্ঠানে অতিথি ছিলেন বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের স্থায়ী কমিটির সদস্য ইউসুফ আবদুল্লাহ হারুন, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের জ্যেষ্ঠ সচিব তপন কান্তি ঘোষ, এফবিসিসিআইয়ের সভাপতি মো. জসিম উদ্দিন প্রমুখ। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সিপিডির সম্মাননীয় ফেলো ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য ও মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন সিপিডির সম্মাননীয় ফেলো অধ্যাপক ড. মোস্তাফিজুর রহমান।
মূল প্রবন্ধে অধ্যাপক ড. মোস্তাফিজুর রহমান ওয়ার্ল্ড ট্রেড অর্গানাইজেশনের (ডব্লিউটিও) মিনিস্ট্রিয়াল কনফারেন্স-১২ (এমসি-১২)-এর তাত্পর্য, পরবর্তী পদক্ষেপ এবং করণীয় বিষয়গুলো কী হবে তা তুলে ধরেন। তিনি তার উপস্থাপনায় দেখান, ডব্লিউটিও প্রাক্কলন অনুযায়ী, এলডিসি থেকে উত্তরণ করবে এমন ১২টি দেশের সব রফতানির প্রায় ৯০ শতাংশ ক্ষতিগ্রস্ত হবে শুধু বাংলাদেশের উত্তরণের ফলে। এছাড়া বাজার সুবিধা হারানোর ফলে বাংলাদেশ যে পরিমাণ রফতানিতে ক্ষতিগ্রস্ত হবে তা বৈশ্বিক রফতানির প্রায় ১৪ দশমিক ৩ শতাংশ।
তিনি আরো বলেন, এর আগে এলডিসি থেকে যাদের উত্তরণ হয়েছে তাদের বেশির ভাগ ছোট ছোট দেশ ছিল। তবে জনসংখ্যা ও অর্থনৈতিক সামর্থ্যের দিক থেকে বাংলাদেশের এলডিসি থেকে উত্তরণ একটি বিরাট বড় ঘটনা বৈশ্বিকভাবে। বাংলাদেশ একমাত্র দেশ যারা ডব্লিউটিও কর্তৃক প্রদত্ত সব সুযোগ-সুবিধা কার্যকরভাবে ব্যবহার করেছে, বিশেষ করে বাজার সুবিধা নিয়ে রফতানি উন্নয়ন করতে বড় ধরনের সুযোগ তারা নিয়েছে। এখন বাংলাদেশ যেসব বাজার সুবিধা পায় এলডিসি থেকে, উত্তরণের পর সেগুলো অব্যাহত থাকবে কিনা সেটা বড় বিষয় এবং থাকলেও কোনো ধরনের নিয়মনীতিমালা মেনে তা প্রদান করা হবে।
ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য বলেন, বিদেশে বিভিন্ন মিটিংয়ে বাংলাদেশের রাজনীতিবিদরা দেশের বিভিন্ন উন্নয়নের কথা তুলে ধরেন। পরক্ষণেই দেশের কারিগরি ব্যক্তিরা বলেন, দেশের বিভিন্ন সাহায্য দরকার এবং পুরনো সহযোগিতাগুলোও অব্যাহত রাখা দরকার ইত্যাদি। তখন অন্য দেশের প্রতিনিধিরা বলেন যে তাহলে আমাদের বক্তব্য কোনটা সঠিক। আমাদের রাজনৈতিক বর্ণনা এবং কারিগরি বর্ণনার ভেতরে অমিল রয়েছে। এগুলোর সমন্বয় করতে হবে। সবার সমন্বয়ে এগিয়ে নিয়ে যেতে হবে। এ অর্থনৈতিক ট্রানজিশনের সময় আমাদের রাজনৈতিক ট্রানজিশনও হবে। এ দুটোর সমন্বয় করতে হবে যাতে একটা আরেকটাকে নষ্ট না করে দেয়।
বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের স্থায়ী কমিটির সদস্য ইউসুফ আবদুল্লাহ হারুন এমপি বলেন, বৈশ্বিক অর্থনীতিতে করোনার প্রভাব ধ্বংসাত্মক। একই সঙ্গে চীন ও যুক্তরাষ্ট্র তাদের প্রতিযোগিতা তীব্র করেছে বৈশ্বিক বাণিজ্যের ক্ষেত্রে তাদের অংশীদারত্ব বাড়ানোর জন্য। এছাড়া আঞ্চলিক বড় বাণিজ্য সংস্থাগুলোও বৈশ্বিক বাণিজ্যে ব্যাপক প্রভাব তৈরি করছে। ডব্লিউটিও যখন থেকে কাজ শুরু করেছে তখন থেকে সবাই মনে করেন এসব কনফারেন্স থেকে আপনার প্রাপ্য আপনি পাবেন না, আপনি যা পাবেন তাহলো আপনার মধ্যস্থতার মাধ্যমে। এর সবকিছুই আমাদের ওপর নির্ভর করে, ডব্লিউটিও সদস্যদের মধ্যে ভালো সম্পর্ক তৈরি করার মাধ্যমে আমাদের সমস্যাগুলো তুলে ধরতে হবে। ডব্লিউটিও কাজ করতে পারছে এমনটি বলাও ঠিক হবে না।