ইন্দোনেশিয়ার জাকার্তায় জগজা নেটপ্যাক এশিয়ান ফিল্ম ফেস্টিভ্যালের ১৭তম আসর বসতে যাচ্ছে ২৬ নভেম্বর। এ উৎসব চলবে আগামী ৩ ডিসেম্বর পর্যন্ত। এশীয় সংস্কৃতিকে প্রতিনিধিত্ব করা চলচ্চিত্র নিয়ে আয়োজিত এ উৎসবের এ বছরের থিম ‘ব্লজম’ বা প্রস্ফুটন। এশিয়া মহাদেশে প্রতিষ্ঠিত এবং উদীয়মান চলচ্চিত্র নির্মাতাদের নির্মিত চলচ্চিত্র প্রদর্শন হবে এ আয়োজনে।
এবারের উৎসবে ‘এশিয়ান পারসপেক্টিভ’ বিভাগে অফিশিয়াল মনোনয়ন পেয়েছে বাংলাদেশের সিনেমা ‘আম কাঁঠালের ছুটি’। শরীফ উদ্দিন সবুজের ছোটগল্প অবলম্বনে শিশুতোষ ঘরানার এ সিনেমা নির্মাণ করেছেন মোহাম্মদ নূরুজ্জামান। কারো সঙ্গে মিশতে না পারা আট বছর বয়সী একটি শহুরে ছেলে গ্রীষ্মের ছুটিতে গ্রামে বেড়াতে এসে কীভাবে নতুন এক জগৎ আবিষ্কার করে, খুঁজে পায় বন্ধুত্ব্ব আর রোমাঞ্চের স্বাদ, এ নিয়েই পূর্ণদৈর্ঘ্য এ চলচ্চিত্র।
এ বিষয়ে বণিক বার্তাকে নূরুজ্জামান বলেন, ‘আম কাঁঠালের ছুটি আমার প্রথম সিনেমা। ২০১৫ সালে আমি এ সিনেমার কাজ শুরু করেছিলাম, তখন আমার মেয়ের বয়স ছয় ছিল। বর্তমান সময়ের শিশুরা, বিশেষ করে যারা শহরে থাকে, তারা অনেকটা বন্দিজীবন কাটায়। আমার কাছে মনে হয়েছিল আমাদের শৈশবটা কেমন ছিল, সেটা আমার মেয়েকে দেখাই। সে ভাবনা থেকেই সিনেমাটি নির্মাণ। আমাদের শৈশবের গল্প নিয়েই এ সিনেমা। আমার ছোটবেলার বন্ধু শরীফ উদ্দিন সবুজের বই থেকেই এটি নির্মাণ করা। কারণ, বইটা পড়ার পর মনে হচ্ছিল আমাদের ছোটবেলার সব চরিত্র আমি খুঁজে পাচ্ছিলাম। এমনকি এ গল্পে আমার চরিত্রও আমি খুঁজে পেয়েছিলাম। ২৭ নভেম্বর ইন্দোনেশিয়ার স্থানীয় সময় সন্ধ্যা ৭টায় আম কাঁঠালের ছুটির প্রিমিয়া হতে যাচ্ছে। জগজা নেটপ্যাক এশিয়ান ফিল্ম ফেস্টিভ্যালে অংশ নিতে আমরা ২৫ নভেম্বর ঢাকা ছাড়ছি। ২৯ নভেম্বর রাত ৮টায় থাকবে আম কাঁঠালের ছুটির আরো একটি প্রদর্শনী।’
বর্তমানে দেশের নির্মাতাদের সিনেমাগুলো আন্তর্জাতিকভাবে সাড়া ফেলছে। একাধিক আন্তর্জাতিক সম্মানে ভূষিত হচ্ছে কাজগুলো। এ নিয়ে জানতে চাইলে নির্মাতা বলেন, ‘আমাদের সিনেমা দেশের বাইরে যাচ্ছে, তার মানে এটা নিশ্চিত করে বলা যাবে না যে আমরা আন্তর্জাতিক মানের সিনেমা নির্মাণ করছি। তবে আমরা এ পথে আছি, তা বোঝা যাচ্ছে। এটা খুব ভালো লক্ষণ।’
খুব ছোট একটি কারিগরি ইউনিট আর একদল অপেশাদার অভিনয়শিল্পী নিয়ে গাজীপুরে ছবিটির শুটিং করা হয়েছিল। এর প্রযোজনা, পরিচালনা, চিত্রনাট্য রচনার পাশাপাশি সাউন্ড ডিজাইনও করেছেন মোহাম্মদ নূরুজ্জামান। এতে অভিনয় করেছেন লিয়ন, জুবায়ের, আরিফ, হালিমা ও তানজিল, ফাতেমা, কামরুজ্জামান কামরুল, আব্দুল হামিদ প্রমুখ। সিনেমাটির প্রধান সহকারী পরিচালক যুবরাজ শামীম।