বর্তমানে দেশের অর্থনীতির অনেক চ্যালেঞ্জই বৈশ্বিক পরিস্থিতির কারণে উদ্ভূত হচ্ছে। বিশ্ব অর্থনীতিতে একটা মন্দার আভাস দেখা যাচ্ছে, যা বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থার প্রতিবেদনেও উঠে আসছে। এ অবস্থায় বিশ্ব মহামন্দায় বাংলাদেশকে সাতটি সংকটের মুখোমুখি হতে হচ্ছে বলে মনে করে সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি)। এগুলোর মধ্যে রয়েছে মূল্যস্ফীতি, খাদ্য সংকট, ডলার সংকট, জ্বালানি সংকট, ইউক্রেন সংকট, কভিড ও জলবায়ু পরিবর্তনজনিত সংকট।
গতকাল রাজধানীর ধানমন্ডিতে সিপিডি কার্যালয়ে ‘বিশ্ব অর্থনীতিতে মন্দার আভাস ও বাংলাদেশের চ্যালেঞ্জ উত্তরণ কোন পথে?’ শীর্ষক মিডিয়া ব্রিফিংয়ে সংগঠনের পক্ষে নির্বাহী পরিচালক ড. ফাহমিদা খাতুন এসব তথ্য তুলে ধরেন। ব্রিফিংয়ে উপস্থিত ছিলেন সিপিডির গবেষণা পরিচালক খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম, সিনিয়র রিসার্চ ফেলো তৌফিকুল ইসলাম খান প্রমুখ।
ড. ফাহমিদা খাতুন বলেন, অর্থনীতির অনেক চ্যালেঞ্জ আগেও ছিল, এখনো আছে। তবে চ্যালেঞ্জগুলো এখন গভীরতর হচ্ছে।
ব্রিফিংয়ে তিনটি বিষয়ের অবতারণা করা হচ্ছে জানিয়ে তিনি বলেন, মূল্যস্ফীতি, বিদ্যুৎ এবং জ্বালানি খাত ও বহিঃখাত নিয়ে আজকের উপস্থাপনা। উন্নত, উন্নয়নশীল ও স্বল্পোন্নত সব দেশেই এক ধরনের সংকট দেখা যাচ্ছে। এতে সবাই উদ্বিগ্ন হচ্ছে। বিশ্বজুড়েই মূল্যস্ফীতির লাগামহীন ঊর্ধ্বগতি, যা ঐতিহাসিকভাবেই এখন অনেক।
তিনি আরো বলেন, বিশ্ব অর্থনীতিতে মন্দার আভাস দেখা গিয়েছে। আন্তর্জাতিক খাদ্য সংস্থা ফুড অ্যান্ড এগ্রিকালচার অর্গানাইজেশন (এফএও) বলছে, দুর্ভিক্ষ আসছে এবং বিষয়টি সত্য। জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে কৃষি উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে। পাশাপাশি আবহাওয়ার ভিন্ন রূপ হিসেবে বন্যা ও খরা বাড়ছে। বিভিন্ন দেশে প্রবৃদ্ধি হয় নিচে অথবা নেতিবাচক দিকে রয়েছে। আমরাও সেই প্রভাব অনুভব করছি। এ সংকট চলমান ও ঘনীভূত হচ্ছে।
গবেষণা প্রতিবেদনে তারা দেখান, বাংলাদেশে ২০১৯ সাল থেকে পার্শ্ববর্তী দেশ ভারত, পাকিস্তান, নেপাল, শ্রীলংকার চেয়ে রুটি, গরুর মাংস ও ব্রডব্যান্ডের দাম বেশি ছিল। দক্ষিণ এশিয়ার দেশের সঙ্গে তুলনা করলে আমরা সব সময় ওপরেই ছিলাম। এছাড়া নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্য থেকে যদি কিছু কর লাঘব করা হয় তাহলে মূল্যস্ফীতির বোঝা লাঘব হতো স্বল্প আয়ের লোকদের ওপর থেকে।
সিপিডির গবেষণা অনুযায়ী, ঢাকা শহরে চার সদস্যের পরিবারের ভোগ্যপণ্যের মধ্যে ১৯টি অত্যাবশ্যকীয় পণ্য রয়েছে, যা মানুষের ভোগের মধ্যে থাকে। ঢাকায় চার সদস্যের একটি পরিবারের অত্যাবশ্যকীয় সব খাদ্যসহ সার্বিক খরচ ২০১৯ সালের জানুয়ারিতে ছিল ১৭ হাজার ৫৩০ টাকা, যা ২০২২ সালের ১৬ অক্টোবরের খাদ্যপণ্যের মূল্য বিবেচনায় বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২২ হাজার ৪২১ টাকা।
অন্যদিকে মাছ ও মাংস বাদ দিয়ে কম প্রোটিনসম্পন্ন ডায়েট হিসেবে চার সদস্যের পরিবারের ন্যূনতম খরচ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৯ হাজার ৫৯ টাকা, যা ২০১৯ সালের ১ জানুয়ারি ছিল ৬ হাজার ৫৪১ টাকা। খাদ্য মূল্যস্ফীতির চাপ সামলাতে অত্যাবশ্যকীয় পণ্যের ওপর আমদানি শুল্কের হার কমাতে পারলে সাধারণ মানুষের ওপর চাপ কমে আসত বলে গবেষণায় উল্লেখ করা হয়।