রেকর্ড উচ্চতায় মূল্যস্ফীতি। এখনো কভিডজনিত প্রতিবন্ধকতা অব্যাহত রয়েছে। এর সঙ্গে ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে প্রভাবে অর্থনীতিজুড়ে বিপর্যয় তৈরি হয়েছে। পরিস্থিতি মোকাবেলায় সুদের হার বাড়াচ্ছে কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলো। বাড়ছে অর্থনৈতিক মন্দার ঝুঁকিও। নানা আশঙ্কায় ব্যয় কমিয়ে দিয়েছেন ভোক্তারা। উচ্চব্যয়ের কারণে চাপে রয়েছেন উৎপাদকরাও। সব মিলিয়ে সেপ্টেম্বরে বিশ্বব্যাপী শিল্পোৎপাদন কার্যক্রম ধীর হয়ে পড়েছে।
রয়টার্সের খবরে বলা হয়েছে, গত মাসে ইউরো অঞ্চলজুড়ে কারখানা কার্যক্রম আরো সংকুচিত হয়েছে। রেটিং এজেন্সি এসঅ্যান্ডপি গ্লোবালের ইউরো অঞ্চলের চূড়ান্ত ম্যানুফ্যাকচারিং পারচেজিং ম্যানেজারস ইনডেক্স (পিএমআই) সেপ্টেম্বরে ৪৮ দশমিক ৪ পয়েন্টে নেমেছে। আগস্টেও এ খাতের পিএমআই ৪৯ দশমিক ৪ পয়েন্টে ছিল। পিএমআই ৫০ পয়েন্টের নিচে সংকোচন এবং এর ওপর প্রসারিত হওয়ার চিত্র তুলে ধরে।
তথ্যপ্রযুক্তি প্রতষ্ঠান অ্যাকসেনচারের বৈশ্বিক শিল্প বিভাগের থমান রিন বলেন, ইউরোপীয় উৎপাদন খাত ক্রমেই গুরুতর চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করছে। জ্বালানির দাম বাড়ার কারণে খাতটি ভারসাম্যহীন একটি পরিস্থিতি মোকাবেলা করছে। নতুন ক্রয়াদেশও আরো সংকুচিত হয়েছে। অর্থনীতিগুলো বিশেষ করে উচ্চ মূল্যস্ফীতি, ক্রমবর্ধমান অনিশ্চয়তা, উচ্চ জীবনযাত্রার ব্যয় সংকটের সম্মুখীন হচ্ছে।
ক্রমবর্ধমান জ্বালানি ব্যয় ইউরোপের বৃহত্তম অর্থনীতি জার্মানিকে বড় সংকটে ফেলে দিয়েছে। দেশটিতে তৃতীয় মাসের মতো উপাদন কার্যক্রম সংকুচিত হয়েছে। ফরাসি অর্থনীতিতে কার্যক্রম ২০২০ সালের মে মাসের পর দ্রুতগতিতে কমেছে। ইতালির কারখানা কার্যক্রম আবারো কমেছে। যদিও এ কমার গতি আগস্টের তুলনায় কিছুটা কম।
ইউরোপীয় ইউনিয়নের বাইরের থাকা যুক্তরাজ্যের কারখানা কার্যক্রম সেপ্টেম্বরে টানা তৃতীয় মাসের মতো কমেছে। পাশাপাশি দেশটিতে চতুর্থ মাসের মতো ক্রয়াদেশ হ্রাস পেয়েছে। বিশ্বজুড়ে চাহিদা হ্রাসের কারণে উৎপাদন খাত এমন বেহাল অবস্থায় পড়েছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
ইউরোপের পাশাপাশি শিল্পোৎপাদন কার্যক্রম কমেছে তাইওয়ান ও মালয়েশিয়ায়। তবে জাপান, ভারত ও ভিয়েতনামে এটি প্রসারিত হয়েছে। যদিও সেই গতি অত্যন্ত ধীর। ক্রমবর্ধমান কাঁচামালের ব্যয় এবং অন্ধকারাচ্ছন্ন বৈশ্বিক দৃষ্টিভঙ্গি করপোরেট অনুভূতিতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে। সম্প্রতি প্রকাশিত চীনের শিল্প ও পরিষেবা কার্যক্রমের তথ্য বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম অর্থনীতি আরো ধীর হওয়ার ইঙ্গিত দেয়। দেশটিতে কঠোর কভিডজনিত বিধিনিষেধ উৎপাদন ও বিক্রি কমিয়ে দিয়েছে। যদিও টানা দুই মাস সংকোচনের পর প্রবৃদ্ধিতে ফিরেছে শিল্প খাতের কার্যক্রম।
দেশটির সরকারি ম্যানুফ্যাকচারিং পিএমআই সেপ্টেম্বরে বেড়ে ৫০ দশমিক ১ পয়েন্টে পৌঁছেছে। আগস্টে এ সূচক ৪৯ দশমিক ৪ এবং জুলাইয়ে ৪৯ পয়েন্টে ছিল। গত মাসের এ সূচক প্রত্যাশার চেয়ে বেশি ছিল। বড় শহরগুলোয় কভিডজনিত বিধিনিষেধ শিথিল করায় শিল্প খাতের কার্যক্রম প্রবৃদ্ধিতে ফিরেছে। যদিও পরিষেবা খাতের কার্যক্রম শ্লথ হয়ে পড়েছে। অন্যদিকে বেসরকারি কাইশিন জরিপ বলছে, সেপ্টেম্বরে কারখানা কার্যক্রম আরো বেশি সংকুচিত হয়েছে। আবার উৎপাদন বাড়লেও নতুন রফতানি ক্রয়াদেশ সূচক আগস্টের ৪৮ দশমিক ১ থেকে কমে ৪৭ পয়েন্টে নেমেছে।
এইউ জিবুন ব্যাংক জাপান ম্যানুফ্যাকচারিং পিএমআই গত মাসে ৫০ দশমিক ৮ পয়েন্টে নেমেছে। এ হার গত বছরের জানুয়ারির পর সবচেয়ে ধীর। নতুন ক্রয়াদেশ দুই বছরের মধ্যে দ্রুততম হারে সংকুচিত হয়েছে। চীন ও অন্যান্য ব্যবসায়িক অংশীদারদের দুর্বল চাহিদার কারণে উৎপাদন খাত নিম্নমুখী হয়েছে।