থ্রিলার ও হররধর্মী কাজ করার খুব ইচ্ছা আমার

নিশাত নাওয়ার সালওয়া চারটি সিনেমায় কাজ করেছেন, যেগুলো মুক্তির অপেক্ষায়। ১৬ সেপ্টেম্বর মুক্তি পেতে যাচ্ছে তার অভিনীত সিনেমা ‘বীরত্ব’। আসন্ন কাজ আর নানা বিষয় নিয়ে বণিক বার্তার সঙ্গে কথা বলেছেন সালওয়া। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন সাবিহা জামান

নিশাত নাওয়ার সালওয়া চারটি সিনেমায় কাজ করেছেন, যেগুলো মুক্তির অপেক্ষায়। ১৬ সেপ্টেম্বর মুক্তি পেতে যাচ্ছে তার অভিনীত সিনেমা ‘বীরত্ব’। আসন্ন কাজ আর নানা বিষয় নিয়ে বণিক বার্তার সঙ্গে কথা বলেছেন সালওয়া। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন সাবিহা জামান

কিছুদিন পর বড় পর্দায় আপনার সিনেমা মুক্তি পেতে যাচ্ছে। কেমন অনুভব করছেন?

আমার অনুভূতি অসাধারণ। আমরা যারা নতুন কাজ করছি তাদের প্রতি দর্শকের একটা প্রত্যাশা থাকে। আশা করি, দর্শকের সে চাওয়া পূরণ করতে পারব। ১৬ সেপ্টেম্বর আমার ফিল্ম মুক্তি পাচ্ছে। খুব ভালো লাগছে। অন্যরকম অনুভূতি। ভয়ও লাগছে, কারণ প্রথমবার প্রত্যাশা অনেক বেশি, কেমন করলাম। সিনেমা মুক্তির পর বাকিটা বুঝতে পারব।

ক্যারিয়ার নিয়ে আপনার ভাবনা কী?

২০১৮ সালে মিস ওয়ার্ল্ড বাংলাদেশের পর কখনো পরিকল্পনা ছিল না আমি ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রিতে আসব। মূলত ভালো লাগা থেকে কাজ করা। চারটা সিনেমায় কাজ করেছি, নতুন কোনো কাজে হাত দিইনি। কারণ আমি চাচ্ছিলাম, আমার পারফরম্যান্স কেমন হলো এটা দেখি। নিজের কাজগুলো ভালো হচ্ছে কিনা এটা দেখার একটা তাগিদ থাকে। সিনেমা মুক্তি না পেলে তো আসলে বোঝা যায় না দর্শক আমাকে কীভাবে নিচ্ছে আর আমি কেমন কাজ করছি। অপেক্ষা করছিলাম আমার এক-দুইটা সিনেমা মুক্তির জন্য। তার পরই সিদ্ধান্ত নেব কী করব। যদিও আমার মনে হয় পরিকল্পনা মতো আমাদের জীবনে সবকিছু হয় না। অনেক সময় আমরা পরিস্থিতির কারণে কিছু সিদ্ধান্ত বদল করি কিংবা নতুন সিদ্ধান্ত গ্রহণ করি।

যেহেতু শুরুতে ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রিতে কাজ করার ইচ্ছা ছিল না। তাহলে মতের পরিবর্তন এল কেন?

আমার পরিবার আর ফ্রেন্ডরা আমাকে বলত কাজ করার জন্য। মিস ওয়ার্ল্ড বাংলাদেশের পর থেকেই স্ক্রিপ্ট নিয়ে কথা হতো অনেকের সঙ্গে। এরপর স্ক্রিপ্ট ভালো লেগে গেল আর মিডিয়ার কাজ শুরু করলাম। কাজ করতে গিয়ে দেখলাম সবাই অনেক সাহায্য করে। তারা সবাই আমাকে আরো কাজ করতে আগ্রহী করেছে।

সামনে দর্শক আপনাকে কোন প্রজেক্টে দেখতে পাবে?

এই শুক্রবার বীরত্ব প্রেক্ষাগৃহে আসছে। আমার আর তিনটি সিনেমা মুক্তির অপেক্ষায়। মোস্তাফিজুর রহমান মানিক ভাইয়ের স্বপ্ন দেখা রাজকন্যা। কবরী সারোয়ার আপা পরিচালিত এই তুমি সেই তুমি এবং শামিম আহমেদ রনির বুবুজান। এর বাইরে অন্য কোনো কাজ আমি এখনো শুরু করিনি। আমি অপেক্ষা করছিলাম অন্তত একটা সিনেমা মুক্তির। তার পরই নতুন কোনো কাজের সঙ্গে যুক্ত হব।

মুক্তির অপেক্ষায় থাকা সিনেমাগুলোর মধ্য কোন চরিত্রটা সবচেয়ে চ্যালেঞ্জিং?

কোনো চরিত্র খুব বেশি চ্যালেঞ্জিং ছিল না। কারণ যে চরিত্রগুলো আমি এখন পর্যন্ত করেছি, তার সবই আমার সঙ্গে মিলে যায়। তবে আমি অবশ্যই চাই চ্যালেঞ্জিং চরিত্রে কাজ করতে। চারটি সিনেমায়-ই আমাকে গ্ল্যামারাসভাবে দেখানো হয়েছে। তবে আমার খুব ইচ্ছে গ্রামের মেয়ে কিংবা কঠিন চরিত্রে কাজ করার। সত্যি ঘটনা কিংবা কোনো ব্যক্তির জীবনের ওপর আমার কাজ করার ইচ্ছা আছে। মহীয়সী নারীদের চরিত্রে অভিনয় করার স্বপ্ন আমার।

ওটিটিতে দর্শক আপনাকে কবে দেখতে পাবে?

এখন আমাদের দেশে ওটিটিতে অনেক ভালো কাজ হচ্ছে। আমি অবশ্যই এখানে কাজ করব, তবে শুরু থেকেই চাচ্ছিলাম বড় পর্দায় আগে আমার অভিষেক হোক। অন্য দেশেও আমরা দেখতে পাচ্ছি অনেক বড় তারকারাই ওটিটিতে কাজ করছেন এবং সেগুলো দর্শকের কাছে জনপ্রিয়। আমার পরিকল্পনাও এমনই, আগে অভিষেক হোক এরপর অন্য মাধ্যমেও কাজ করব।

ব্যক্তিগতভাবে কোন জনরার কাজ আপনার প্রিয়?

আমার সবচেয়ে বেশি ভালো লাগে থ্রিলারধর্মী কাজ। আমার নিজেরও থ্রিলার জাতীয় কনটেন্ট বেশি দেখা হয়। কিন্তু দেখা যায় আমার কাছে যেসব গল্প আসে বেশির ভাগ রোমান্টিক ঘরানার। থ্রিলার ও হররধর্মী কাজ করার খুব ইচ্ছা আমার। হরর মুভি আমার খুব পছন্দ। ছোটবেলায় ভূতের গল্প খুব পছন্দ করতাম। সত্যি বলতে প্যারানরমাল অ্যাক্টিভিটি নিয়ে আমি খুব আগ্রহী। আমি নতুন কোনো জায়গায় গেলেও এ বিষয়ে মানুষকে জিজ্ঞাসা করি।

শুটিংয়ে গিয়ে কি কোনো ভৌতিক বিষয়ের মুখোমুখি হয়েছেন?

হ্যাঁ, এমন ঘটনার মুখোমুখি হয়েছি। আমরা রাজবাড়ীতে বীরত্বের শুটিং করেছিলাম। অনেক পুরনো একটা সুতার মিলে আমাদের একটা দৃশ্যধারণ করা হচ্ছিল। ওটা অনেক বছর আগের পুরনো মিল, যেটা সিলগালা করে বন্ধ করা ছিল। অনুমতি নিয়ে আমরা মিলটা খুলে ওর ভেতরে শুটিং করেছিলাম। ওই সময়ে অনেক কিছু ফিল করেছিলাম। আমরা সাপও দেখেছি। শুটিংয়ের সময় আমার প্রডাকশনের একজন সাপটি না মেরে ওখান থেকে সরিয়ে ফেলেছিল। ওখানকার স্থানীয়রা বলছিল এটা সাপ না জ্বীন হতে পারে। যা-ই হোক, একটা গা ছমছমে পরিবেশে আমরা শুটিংটি শেষ করেছিলাম। দর্শক পর্দায় তা দেখতে পাবে।

আরও