প্রস্তাবিত বাজেটে দরিদ্র, নিম্ন ও মধ্যম আয়ের মানুষের জন্য কোনো সুখবর নেই। মূল্যস্ফীতি ৫ দশমিক ৬ শতাংশের মধ্যে রাখার যে লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে তা বাস্তবসম্মত নয়। আইনের চোখে সবাই সমান হলেও বাজেট পর্যালোচনায় শ্রমিকদের সঙ্গে বিত্তশালীদের সমতার কোনো চিহ্ন নেই। এবার করমুক্ত আয়সীমা বাড়ানো হয়নি, বরং বিত্তবানদের সুবিধা দেয়া হয়েছে।
গতকাল সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) বাজেট সংলাপে বক্তারা এসব কথা বলেন।
অনুষ্ঠানে মূল বক্তব্য উপস্থাপন করেন সিপিডির গবেষণা পরিচালক ড. খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম। সিপিডির নির্বাহী পরিচালক ড. ফাহমিদা খাতুনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে অনলাইনে সংযুক্ত ছিলেন পরিকল্পনামন্ত্রী এমএ মান্নান। অনুষ্ঠানে আরো উপস্থিত ছিলেন প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির চেয়ারম্যান ব্যারিস্টার আনিসুল ইসলাম মাহমুদ, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য কাজী নাবিল আহমেদ, ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (ডিসিসিআই) সভাপতি রিজওয়ান রাহমান।
সিপিডি জানায়, উচ্চমূল্যস্ফীতি, ডলারের দামে অস্থিরতা, বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থানে স্থবিরতাসহ ছয়টি চ্যালেঞ্জ চিহ্নিত করা হয়েছে প্রস্তাবিত বাজেটে। এসব মোকাবেলায় কার্যকর কোনো উদ্যোগ দেখা যায়নি। পাচার করা অর্থ ফেরত আনার অনৈতিক সুযোগ সমর্থনযোগ্য নয়। বাজেটে সামাজিক নিরাপত্তা খাতে বরাদ্দ কমানোর সমালোচনাও করে সিপিডি।
পরিকল্পনামন্ত্রী এমএ মান্নান বলেন, বিদেশে পাচার করা টাকা দেশে ফিরিয়ে আনার বিষয়ে কিছু বলতে চাই না। সরকার বিষয়টি নিয়ে কাজ করছে। চুরি করা টাকা ফেরত না দেয়া পর্যন্ত আমি তো জানি না তিনি চোর না ডাকাত না সাধু। চোর যদি নিজে বলেন আমি চুরি করেছি, তখন তাকে একটা উপায় দেয়া হয়েছে।
বিএনপিকে উদ্দেশ করে পরিকল্পনামন্ত্রী বলেন, তারা মূলত ক্রোধের আগুনে জ্বলছেন। তারা নিজেদের হতাশা আর ব্যর্থতায় জ্বলছেন। তারা পদ্মা সেতুর অনুষ্ঠান বানচাল করার চেষ্টা করছেন। যদিও তারা তা পারবেন না।
সাবেক বাণিজ্যমন্ত্রী ও বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হচ্ছে, একটি অনির্বাচিত সরকার যখন বাজেট দেয় তখন এটায় জনগণের চিন্তাভাবনার প্রতিফলন না হওয়ারই কথা। বাংলাদেশের পরিসংখ্যান সক্ষমতা গত ছয় বছরে অর্ধেক কমে এসেছে। ফলস পরিসংখ্যান দেখিয়ে উন্নয়ন দেখানো কর্তৃত্ববাদী সরকারগুলোর একটি প্রবণতা।
সমাজতান্ত্রিক শ্রমিক ফ্রন্টের সভাপতি রাজেকুজ্জামান রতন বলেন, বাজেটের মতো একটা গুরুত্বপূর্ণ আর্থিক বিবরণী তৈরি হলো। বাংলাদেশে ৬ কোটি ৮২ লাখ শ্রমশক্তি। রাষ্ট্র একবারও এদের প্রতিনিধিদের সঙ্গে আলোচনার প্রয়োজন মনে করেনি, কৃষক প্রতিনিধির সঙ্গে কোনো আলোচনার প্রয়োজন বোধ করেনি। আমরা সমাজে আছি, উৎপাদনে আছি। কিন্তু বাজেটে নেই। শ্রমসংস্থান মন্ত্রণালয়ে সবচেয়ে কম। গত বছরের চেয়েও কমেছে। যে বরাদ্দ হয়েছে সেটিও ঠিকমতো খরচ হয়তো হবে না। গত বছরও তাই হয়েছে। গত বছর বাজেট ছিল ৩৬৫ কোটি টাকা। এবার ৩৫৭ কোটি টাকা। শ্রমিকরা দৈনিক যদি ৪০০ টাকাও আয় করেন, যদি ফ্ল্যাট রেটেও ভ্যাট দেন, তাহলে ৪০০ টাকায় দৈনিক ৬০ টাকা করে ভ্যাট দিচ্ছেন। তাহলে বছরে হয় ১ লাখ ৪৭ হাজার কোটি টাকা। ভ্যাটে আছি। ভোটেও নেই, বাজেটেও নেই।