দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের শেষ বাংলাদেশী সৈনিকেরা

সিলেটের দক্ষিণ সুরমা উপজেলার সিলাম পশ্চিম পাড়া গ্রামের বাসিন্দা শাহ নূর মোহাম্মদের বয়স ১০০ পূর্ণ হচ্ছে আর কয়েক মাস পর। ঘরের বাইরে তেমন একটা বের হন না তিনি। বাড়িতে কোরান শরীফ ও পত্রিকা পড়েই সময় কাটে তার। বার্ধক্যের বাইরে দিনে দিনে দুর্বল হয়ে পড়ছেন তিনি। স্মরণশক্তিও কমে আসছে। প্রায় শতবর্ষী এ বৃদ্ধকে দেখে বোঝার উপায় নেই পৃথিবীর ইতিহাসের ভয়াবহতম দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের বীর সৈনিক তিনি।

সিলেটের দক্ষিণ সুরমা উপজেলার সিলাম পশ্চিম পাড়া গ্রামের বাসিন্দা শাহ নূর মোহাম্মদের বয়স ১০০ পূর্ণ হচ্ছে আর কয়েক মাস পর। ঘরের বাইরে তেমন একটা বের হন না তিনি। বাড়িতে কোরান শরীফ ও পত্রিকা পড়েই সময় কাটে তার। বার্ধক্যের বাইরে দিনে দিনে দুর্বল হয়ে পড়ছেন তিনি। স্মরণশক্তিও কমে আসছে।

প্রায় শতবর্ষী এ বৃদ্ধকে দেখে বোঝার উপায় নেই পৃথিবীর ইতিহাসের ভয়াবহতম দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের বীর সৈনিক তিনি। যৌবনের উত্তাল দিনগুলোয় নাৎসি জার্মানির বিরুদ্ধে প্রবল পরাক্রমে লড়াই করেছেন তিনি। বীরত্বের জন্য পদকও পেয়েছেন কয়েকটি। আবার যুদ্ধের ভয়াবহতার প্রত্যক্ষদর্শী এ বৃদ্ধ পরে সৈনিকবৃত্তি ছেড়ে বেসামরিক জীবনে ফিরেও এসেছিলেন। 

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে ব্রিটিশ সশস্ত্র বাহিনীর (রাজকীয় ব্রিটিশ সেনাবাহিনী ও ব্রিটিশ ইন্ডিয়ান আর্মি) লড়াই করা প্রায় সব থিয়েটারেই শাহ নূর মোহাম্মদের মতো বাংলাদেশী (তত্কালীন ব্রিটিশ ভারতীয় সাম্রাজ্যের পূর্ববাংলা) সৈন্যদের বীরত্বপূর্ণ অবদান রয়েছে। ভূমধ্যসাগরীয়, মধ্যপ্রাচ্য, আফ্রিকান ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ান থিয়েটারের লড়াইয়ে অংশ নিয়েছেন তারা। রসদ সরবরাহ থেকে শুরু করে সম্মুখসমর পর্যন্ত যুদ্ধরত সেনাবাহিনীর প্রায় সব ধরনের কর্মকাণ্ডেই বড় ভূমিকা রয়েছে তাদের।

বিশ্বযুদ্ধ শেষ হয়েছে প্রায় ৭৭ বছর হলো। পূর্ববাংলার যুদ্ধফেরত সে সৈনিকদের মধ্যে এখন বেঁচে রয়েছেন গুটিকয়েক। বিশ্বযুদ্ধে অবদান ও ব্রিটিশ সশস্ত্র বাহিনীর সাবেক সদস্য হিসেবে ব্রিটিশ সরকারের কাছ থেকে ভাতা-সহায়তাও পাচ্ছেন তারা।

ব্রিটিশ ইন্ডিয়ান আর্মির হয়ে বিশ্বযুদ্ধে লড়াইকারী নয় বাংলাদেশী সৈনিকের তথ্য পাওয়া যায়, যারা এখনো বেঁচে রয়েছেন। তারা হলেন পিএনআর (পাইওনিয়ার কোর) কছির উদ্দিন আকন্দ, হাবিলদার মো. সাবেদ আলী সরকার, ল্যান্স নায়েক আব্দুল মান্নান, ল্যান্স করপোরাল মো. সামছুদ্দিন, সৈনিক মতিয়ার রহমান, সৈনিক আবুল হোসেন, স্যাপার নূর মোহাম্মদ, ল্যান্স করপোরাল নূর মোহাম্মদ ও হাবিলদার নজির আহমেদ।

ব্রিটিশ বাহিনীর হয়ে বিশ্বযুদ্ধে অংশ নিয়েছেন নওগাঁ সদর উপজেলার তিলকপুর ইউনিয়নের নগর কুসুম্বি গ্রামের কছির উদ্দিন আকন্দ। বণিক বার্তাকে যুদ্ধকালীন অভিজ্ঞতা বর্ণনা করতে গিয়ে তিনি জানান, ১৯৪৪ সালের ৫ মার্চ নিয়োগ পান তিনি। এক মাসের রাইফেল ট্রেনিংয়ের পর ব্রিটিশ ইন্ডিয়ান আর্মির পাইওনিয়ার (পিএনআর) পদে যুক্ত হন। বোম্বাইয়ে (বর্তমান মুম্বাই) জাপানি বিমান হামলার পর শহরটির পুনর্নির্মাণ কাজে অংশ নেন। এরপর সম্মুখযুদ্ধের প্রশিক্ষণ দিয়ে তাকে পাঠানো হয় বার্মায়। সেখানে ঘোর অরণ্যে হিংস্র নানা জীবজন্তুর মধ্যে অত্যন্ত কষ্টকর দিন কেটেছে তাদের। বাহিনীর অন্য সদস্যদের সঙ্গে কথা বলাও ছিল দুষ্কর। সব মিলিয়ে আফ্রিকানসহ ১১ জাতির সৈন্য দিয়ে তার ইউনিটটি গড়ে তোলা হয়েছিল। প্রায় এক বছর জঙ্গলে থেকে যুদ্ধ করার পর জাপানি বাহিনীকে দমনে সক্ষম হন তারা। পরে এক মাসের ছুটি নিয়ে নওগাঁয় নিজ বাড়িতে যান তিনি। ছুটি কাটানোর পর কুমিল্লা ক্যান্টনমেন্টে ছিলেন তিনি। এরপর আবারো তাকে পাঠানো হয় বার্মায়। সেখানে জাপানি যুদ্ধবন্দিদের দিয়ে যুদ্ধবিধ্বস্ত এলাকার পুনর্গঠন কার্যক্রমের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন তিনি। যুদ্ধে অংশগ্রহণের স্বীকৃতি হিসেবে ১৯৩৯-৪৫ স্টার, বার্মা স্টার মেডেল, ওয়ার মেডেল ১৯৩৯-৪৫ পেয়েছেন তিনি। ১৯৪৮ সালের ১৭ আগস্ট সেনাবাহিনীর চাকরি থেকে অবসর নিয়ে বাড়ি ফিরে যান তিনি।

তিনি বলেন, বর্তমানে তিন মাস পরপর সশস্ত্রবাহিনী রাজশাহী ডিএএসবি অফিস থেকে ১৬ হাজার টাকা ভাতা পাই। নাতি মাঝেমধ্যে কিছু টাকা পাঠায়। সেটা দিয়ে কোনোভাবে খাবার ও ওষুধ খেয়ে বেঁচে আছি। ৯৭ বছর বয়স হয়েছে আমার। বার্ধক্যজনিত কারণে বিভিন্ন রোগব্যাধি বাসা বেঁধেছে শরীরে। সরকারিভাবে আমার এ ভাঙা ভিটেবাড়ি মেরামত ও এককালীন কিছু টাকা পেলে উপকার হতো।

পূর্ববাংলার সৈনিকদের জন্য যুদ্ধে অংশগ্রহণ খুব সহজ কিছু ছিল না। যুদ্ধ ঘনিয়ে আসার সঙ্গে সঙ্গে এখানে খাদ্য সংকট তীব্র থেকে তীব্রতর হয়ে উঠছিল। ১৯৪৩ সালের দিকে তা রূপ নেয় মারাত্মক দুর্ভিক্ষে। বাংলার ইতিহাসের ভয়াবহতম এ দুর্ভিক্ষ ইতিহাসে স্মরণীয় হয়ে আছে দ্য গ্রেট বেঙ্গল ফেমিন বা পঞ্চাশের মন্বন্তর নামে। ওই দুর্ভিক্ষে শুধু বাংলায়ই ২১ লাখ থেকে ৩৮ লাখ মানুষের মৃত্যু হয়েছিল বলে বিভিন্ন পরিসংখ্যানে উঠে এসেছে। একদিকে যুদ্ধের ভয়াবহতা, অন্যদিকে দেশে দুর্ভিক্ষ সব মিলিয়ে পরিস্থিতি তাদের জন্য খুবই অসহনীয় হয়ে উঠেছিল। আবার এ দুর্ভিক্ষের জন্য এখনো ব্রিটিশ সরকারকে, বিশেষ করে দেশটির তত্কালীন প্রধানমন্ত্রী উইনস্টন চার্চিলকে দায়ী করা হয়। অভিযোগ রয়েছে, যুদ্ধের রসদ সরবরাহ মজুদ করতে গিয়ে বাংলাকে অনেকটা সচেতনভাবেই দুর্ভিক্ষের দিকে ঠেলে দিয়েছিলেন তিনি।

১৯৪৩ সালের জুনে মিসর থেকে এক হাবিলদার দেশে চিঠি পাঠিয়েছিলেন। ব্রিটিশ ইন্ডিয়ান আর্মির স্যাপার বা মাইনার ইউনিটের সদস্য হিসেবে নিয়োজিত ছিলেন তিনি। তার সে চিঠিতে উঠে আসে, আমার ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা থেকে বলছি, এখানে আমরা যা খেতে পাই, তা দেশে থাকতে যা পেতাম তার চেয়ে অনেক ভালো। কিন্তু যখনই আমি খেতে বসি, চোখের সামনে ভেসে ওঠে দেশের মানুষ খেতে পাচ্ছে না। মনের কষ্টে গা গুলিয়ে ওঠে। অনেক সময় খাবার না খেয়েই উঠে পড়ি আমি।

আরেক হাবিলদার তার এক আত্মীয়কে চিঠিতে লিখেছেন, দেশে খাবার নেই। এ কথা জানার পর থেকেই কষ্টে আছি। মনে হচ্ছে কোথাও আমার মুক্তি নেই। যদি আমরা জীবনের জন্য প্রয়োজনীয় কিছু কিনতে না পারি, তাহলে এ টাকা দিয়ে কী হবে? পরিস্থিতি ভাবলে আমাদের মধ্যে সবচেয়ে ঠাণ্ডা মাথার মানুষটিও পাগল হয়ে ওঠে। দেশের কথা মনে হলেই আমাদের মধ্যে পাগলের মতো আচরণ মাথাচাড়া দিয়ে ওঠে।

মধ্যপ্রাচ্য ও উত্তর আফ্রিকার থিয়েটার থেকে এক সৈনিক তার এক স্বজনকে চিঠিতে লিখেছিলেন, যুদ্ধে লড়াই করতে এসে তার অর্থনৈতিকভাবে কোনো লাভই হচ্ছে না। এতে বলা হয়, আমাকে প্রায়ই তোমরা লিখে পাঠাচ্ছ সবকিছুর দাম বেড়ে গিয়েছে। আরো টাকা দিতে হবে, আরো টাকা দিতে হবে। আমি টাকা কোথায় পাব? যেখান থেকে আমাদের রসদ আসছে, সেখানে কি তোমাদের খাওয়ার মতো পর্যাপ্ত কিছুই নেই? আমি জানি আমি কী ভুল করেছি। কিন্তু অনেক দেরি হয়ে গিয়েছে। যদি আগের মতো ক্ষেতে কাজ করতাম, তাহলে অন্তত আগের মতো বাঁচতে পারতাম। কিন্তু এখন আমার উপার্জন দিয়ে তোমাদের দুই মাস খাওয়ানোর মতো শস্যও কেনা সম্ভব নয়।

এসব চিঠির কোনোগুলোই তাদের কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে পৌঁছায়নি। মিলিটারি সেন্সরশিপের মধ্যে পড়ে এগুলোর ঠাঁই হয়েছিল ব্রিটিশ লাইব্রেরির ইন্ডিয়ান অফিসের নথিপত্রের মধ্যে। কিংস কলেজ লন্ডনের ডক্টোরাল রিসার্চের শিক্ষার্থী দিয়া গুপ্তার ২০১৯ সালের গবেষণায় চিঠিগুলোর কথা উঠে এসেছে। আবার যুদ্ধকালীন ভয়াবহতাও এ সৈনিকদের মনে মারাত্মক ক্ষত রেখে গিয়েছে। 

যুদ্ধের পরপরই সেনাবাহিনীর চাকরি ছেড়ে দেন শাহ নূর মোহাম্মদ। যদিও যুদ্ধকালেই সৈনিক হিসেবে নিজের দক্ষতার পরিচয় দিয়েছেন তিনি। যুদ্ধ শুরুর পর ১৯৪২ সালে ব্রিটিশ রাজকীয় সেনাবাহিনীতে সৈনিক হিসেবে যোগদান করেন। ১৯৪৩ সালে পাঞ্জাবের ফিরোজপুর ট্রেনিং একাডেমি থেকে প্রশিক্ষণ শেষ করেন তিনি। ১৯৪৩ সালে তাকে বদলি করা হয় ইতালিতে। সেখানে জার্মান সৈন্যদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন স্থানে দক্ষতার সঙ্গে যুদ্ধ করেন তিনি। সেখানে দখলদার জার্মানরা পরাজিত হয়ে আত্মসমর্পণ করে। ১৯৪৬ পর্যন্ত সেখানে ছিলেন তিনি। সেখানে বেশ কয়েকটি স্থলযুদ্ধে অংশ নেন তিনি। যুদ্ধে অংশগ্রহণের স্বীকৃতি হিসেবে ১৯৩৯-৪৫ স্টার, ইতালি স্টার, ডিফেন্স মেডেল, ওয়ার মেডেল ১৯৩৯-১৯৪৫ ইত্যাদি পদক অর্জন করেন তিনি।

যুদ্ধ শেষে তাকে যুক্তরাজ্যে যাওয়ার প্রস্তাব দিয়েছিল ব্রিটিশ সরকার। মা অসুস্থ থাকায় দেশে ফিরে আসেন তিনি। একই সঙ্গে ফিরে আসেন বেসামরিক জীবনেও। শাহ নূর মোহাম্মদের ছোট ছেলে শাহ খাদেমুল ইসলাম ফারুক জানান, তার বাবা এখন অনেকটাই অসুস্থ। তবে ঘরের মধ্যে হাঁটাচলা করতে পারেন। ব্রিটিশরা এখনো বিভিন্ন সময়ে তাকে স্মরণ করে। গত সপ্তাহেই ব্রিটিশ একটি প্রতিনিধি দলের পক্ষে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা শাহ নূর মোহাম্মদের শারীরিক অবস্থার খোঁজ নিয়েছেন।

ল্যান্স করপোরাল মো. সামছুদ্দিনের বয়স এখন প্রায় ৯৮। থাকেন যশোর শহরের পুলিশ লাইন টালিখোলা এলাকায়। কথা বলেন অস্পষ্ট। ১৯২৪ সালের জুনে মাদ্রাজে জন্ম তার। মা হারিয়েছেন ছোটবেলায়। ১৯৩৫ সালে ব্রিটিশ ইন্ডিয়ান আর্মিতে যোগ দেন তিনি। সৈনিক নম্বর ছিল ৬৪১৪৬০।

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ শুরু হয় ১৯৩৯ সালে। শেষ হয় ১৯৪৫ সালে। পুরো সময়েই যুদ্ধের ময়দানে ছিলেন তিনি। যুদ্ধ চলাকালে একবার সিঙ্গাপুরে তিন হাজার সহযোদ্ধাসহ অবরুদ্ধ হয়ে পড়েছিলেন তিনি। অবরুদ্ধ অবস্থায়ই টানা তিন মাস যুদ্ধ চালিয়ে গিয়েছেন তারা। অনেক সময় কেটেছে না খেয়ে। জাপানি সেনাবাহিনীর বারবার আহ্বান উপেক্ষা করেই সে সময় আত্মসমর্পণ না করে যুদ্ধ চালিয়ে গিয়েছে তার ইউনিট। বিশ্বযুদ্ধের পরও সেনাবাহিনীর চাকরি অব্যাহত রাখেন তিনি।

বিশ্বযুদ্ধে লড়াইয়ের স্বীকৃতি হিসেবে এখনো ব্রিটিশ সরকারের ভাতা পাচ্ছেন তিনি। তবে তা খুবই অপ্রতুল বলে জানালেন মো. সামছুদ্দিনের ছেলে গোলাম মোস্তফা। বণিক বার্তাকে তিনি বলেন, তিন মাস পর পর ১৬ হাজার টাকার মতো ভাতা পাচ্ছেন তার পিতা। বর্তমানে তিনি চরম অসুস্থ। কিছুদিন আগেও তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল।

যুদ্ধ চলাকালেই সশস্ত্র বাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত ও চাকরিরত সদস্যদের কল্যাণের লক্ষ্যে ১৯৪২ সালে ‘সোলজারস, সেইলরস অ্যান্ড এয়ারম্যানস বোর্ড’ প্রতিষ্ঠা করে ব্রিটিশ সরকার। স্বাধীনতার পর ১৯৭২ সালে সংস্থাটিকে রূপ দেয়া হয় বাংলাদেশ সশস্ত্র বাহিনী বোর্ডে (বিএএসবি)। বর্তমানে বিএএসবির অধীনে দেশের ২০টি জেলায় ডিস্ট্রিক্ট আর্মড সার্ভিসেস বোর্ড (ডিএএসবি) অফিস ও ২৯টি মেডিকেল ডিসপেনসারি চালু আছে। বোর্ডের কার্যক্রমের মধ্যে রয়েছে কল্যাণ ও পুনর্বাসন, আর্থিক সাহায্য, অবসরপ্রাপ্তদের চিকিৎসা সহায়তা প্রদান, সশস্ত্র বাহিনী সদস্যদের সন্তান ও পোষ্যদের শিক্ষা বৃত্তি প্রদান এবং সশস্ত্র বাহিনী সদস্যদের পেনশন প্রাপ্তিতে সহায়তা দেয়া। ১৯৪৭ সালের আগে ব্রিটিশ সশস্ত্র বাহিনীতে কাজ করা বাংলাদেশী সেনাসদস্য ও তাদের বিধবা স্ত্রীদের ভরণ-পোষণের জন্য যুক্তরাজ্য সরকারের দেয়া ভাতাও বিএএসবির সহায়তায় বিতরণ করা হচ্ছে। দ্য রয়্যাল কমনওয়েলথ এক্স-সার্ভিসেস লিগ (আরসিইএল) অনুদান হিসেবে এ অর্থ দিচ্ছে।

বাংলাদেশে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মাধ্যমে বিএএসবির কাছে এ তহবিলের অর্থ দেয়া হয়। দেশের বিভিন্ন জেলা অবস্থিত শাখার মাধ্যমে তা প্রাপকদের কাছে পৌঁছে দিচ্ছে বিএএসবি। তাদের প্রত্যেকে তিন মাস অন্তর ১৬ হাজার টাকা করে পাচ্ছেন। এ অর্থের প্রাপক ব্রিটিশ সশস্ত্র বাহিনীর সাবেক যেসব সদস্যের মৃত্যু হয়েছে, তাদের স্ত্রী জীবিত থাকলে তাকেও সমপরিমাণ অর্থ দেয়া হচ্ছে।

বিএএসবি মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ কামরুল হাসান বণিক বার্তাকে বলেন, সাবেক সদস্যদের কল্যাণে অনুদান হিসেবে অর্থ দিয়ে থাকে আরসিইএল। কমনওয়েলথভুক্ত ৪৮টি দেশে এ কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। চিকিৎসা ও অন্যান্য ব্যয় নির্বাহের লক্ষ্যে নির্দিষ্ট হারে অর্থ দিয়ে আসছে আরইসিএল। বর্তমানে বিশ্বে ৪৮টি কমনওয়েলথ দেশে ৪০ হাজার সদস্যের মধ্যে এ কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। বাংলাদেশে বিএএসবি অনুদানের এ অর্থ বিতরণ করছে। দেশে বর্তমানে জীবিত নয়জন ব্রিটিশ সাবেক সশস্ত্র বাহিনী সদস্য ও প্রায় ১৫০ বিধবা এ সুবিধা পাচ্ছেন।

 

(প্রতিবেদনটি তৈরিতে সহায়তা করেছেন বণিক বার্তার যশোর প্রতিনিধি আবদুল কাদের, সিলেট প্রতিনিধি নুর আহমেদ ও নওগাঁ প্রতিনিধি আরমান হোসেন রুমন)

আরও