একনেক সভায় প্রধানমন্ত্রী

বিল বকেয়া হলে বিদ্যুৎ লাইন বিচ্ছিন্ন করতে হবে

নিয়ম অনুযায়ী বিদ্যুৎ বিল পরিশোধ করা না হলে সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সেক্ষেত্রে গ্রাহক সরকারি না বেসরকারি সেটা বিবেচনায় না নিতেও বলেন তিনি। প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশে বিদ্যুৎ বিল বাবদ কয়েক হাজার কোটি টাকা বকেয়া রয়েছে। বিদ্যুৎ বিল বাকি থাকলে অবশ্যই তা সবাইকে পরিশোধ করতে হবে। সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান

নিয়ম অনুযায়ী বিদ্যুৎ বিল পরিশোধ করা না হলে সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সেক্ষেত্রে গ্রাহক সরকারি না বেসরকারি সেটা বিবেচনায় না নিতেও বলেন তিনি। প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশে বিদ্যুৎ বিল বাবদ কয়েক হাজার কোটি টাকা বকেয়া রয়েছে। বিদ্যুৎ বিল বাকি থাকলে অবশ্যই তা সবাইকে পরিশোধ করতে হবে। সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান সবাইকেই বিল দিতে হবে। নিয়ম মেনে পাওনা পরিশোধ না করলে সংযোগ কেটে দেয়া হবে।

গতকাল রাজধানীর শেরেবাংলা নগরের এনইসি সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় এসব নির্দেশনা দেন প্রধানমন্ত্রী। একনেক সভায় সভাপতিত্ব করেন একনেক চেয়ারপারসন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। দীর্ঘ কভিড-১৯ মহামারীর কারণে দুই বছর পর সশরীরে একনেক সভায় উপস্থিত হন তিনি। গতকালের সভায় নয়টি প্রকল্প অনুমোদন দেয়া হয়েছে। প্রকল্পগুলো বাস্তবায়নে মোট ব্যয় ধরা হয়েছে হাজার ৬৬৫ কোটি টাকা।

সভা শেষে পরিকল্পনামন্ত্রী এমএ মান্নান সংবাদ সম্মেলনে বিস্তারিত তুলে ধরেন। তিনি বলেন, দুই বছর পর একনেক সভায় উপস্থিত হয়ে নিজের উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী। এখন থেকে প্রতি বৈঠকেই তিনি উপস্থিত থাকবেন।

প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য তুলে ধরে পরিকল্পনামন্ত্রী বলেন, পদ্মা সেতু বাস্তবায়নে নানা সংগ্রাম চাপ নিয়ে একনেক সভায় খোলামেলা কথা বলেছেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেছেন, জনগণ পাশে ছিল, তাদের আশীর্বাদ ছিল বলেই পদ্মা সেতুর কাজ শেষ করা সম্ভব হয়েছে। এটা নিয়ে নিজের আনন্দও প্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী। এখন গ্রামীণ সড়ক উন্নয়ন বাস্তবায়নে নানা দিকে নজর দেয়ার কথা বলেছেন তিনি। এছাড়া বিদ্যমান সড়কগুলো আগে সংস্কার করতেও বলেছেন প্রধানমন্ত্রী।

প্রতিবেশী দেশ ভারতের সঙ্গে এখন প্রায় ২৪টি স্থলবন্দর চালু রয়েছে উল্লেখ করে প্রতিটি স্থলবন্দরে আধুনিকায়ন উন্নত ব্যবস্থাপনা করার নির্দেশনা দেন শেখ হাসিনা।

সংবাদ সম্মেলনে আরো জানানো হয়, ঢাকা-আশুলিয়া এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের মূল প্রকল্পের ব্যয় ছিল ১৬ হাজার ৯০১ কোটি ৩২ লাখ টাকা। নতুন করে ব্যয় প্রস্তাব করা হয়েছে ১৭ হাজার ৫৫৩ কোটি লাখ টাকা। এক্ষেত্রে চীন ঋণ হিসেবে দিচ্ছে হাজার ৬৯২ কোটি টাকা। সুদে-আসলে ঋণ ডলারে পরিশোধ করতে হবে চীনকে। টাকার বিপরীতে ডলারের দাম বেড়ে যাওয়ায় প্রকল্পের ব্যয় বেড়েছে। পাশাপাশি মেয়াদও দুই বছর বেড়েছে বলে জানানো হয়।

এছাড়া ২০১৭ সালে রাজধানী এর আশপাশ এলাকার যানজট নিরসনে ১৬ হাজার ৯০১ কোটি ৩২ লাখ টাকা ব্যয়ে ঢাকা-আশুলিয়া এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে নির্মাণ প্রকল্প গতকাল একনেকের সভায় অনুমোদন দেয়া হয়। প্রকল্পটি ২০২২ সালের জুনে শেষ হওয়ার কথা ছিল। তবে চীনের ঋণ পেতে দেরি হওয়ায় প্রকল্পটির কাজ শুরু হতে দেরি হয়।

সভায় যেসব প্রকল্প অনুমোদন পেয়েছে সেগুলো হলো ১৪৯ কোটি টাকা ব্যয়ে রূপকল্প ২০৪১: দারিদ্র্য বিমোচনে ক্ষুদ্র সঞ্চয় যোজন প্রকল্প, ৮৭ কোটি ৬০ লাখ টাকা ব্যয়ে রংপুর জেলার পীরগঞ্জ, হারাগাছ বদরগঞ্জ পৌরসভার অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্প, ১৯৯ কোটি লাখ টাকা ব্যয়ে দারুল আরকাম ইবতেদায়ি মাদ্রাসা স্থাপন পরিচালনা প্রকল্প, ১৩৮ কোটি ৪৭ লাখ টাকা ব্যয়ে বাংলাদেশ রেলওয়ে পশ্চিমাঞ্চলের জন্য ৫০টি বিজি এবং ৫০টি এমজি যাত্রীবাহী ক্যারেজ পুনর্বাসন প্রকল্পন, ১৯৬ কোটি ৭৩ লাখ টাকা ব্যয়ে বানৌজা শের--বাংলা পটুয়াখালী স্থাপন (১ম সংশোধিত) প্রকল্প। এছাড়া ৭১২ কোটি টাকা ব্যয়ে রাজশাহী এবং রংপুর বিভাগে নেসকোর আওতাধীন এলাকায় স্মার্ট প্রি-পেমেন্ট মিটার স্থাপন প্রকল্পও অনুমোদন পেয়েছে। সভায় সিদ্ধান্ত হয়, ২১৭ কোটি টাকা ব্যয়ে সাউথ এশিয়া সাব রিজিওনাল ইকোনমিক করপোরেশন ইন্টিগ্রেটেড ট্রেড ফ্যাসিলেশন সেক্টর ডেভেলপমেন্ট প্রজেক্ট বাস্তবায়ন করবে বাংলাদেশ ল্যান্ড পোর্ট অথরিটি। পাশাপাশি জাতীয় রাজস্ব বোর্ড একই নামের প্রকল্প ৩১৩ কোটি টাকা ব্যয়ে বাস্তবায়ন করবে।

আরও