দেশে শিল্পনিরাপত্তা খাতে অবকাঠামো ও প্রাতিষ্ঠানিক প্রস্তুতি এখনো প্রাথমিক পর্যায়ে আছে।
বলতে গেলে নির্মাণ নিরাপত্তা, পেশাগত নিরাপত্তা এবং স্বাস্থ্য ও পরিবেশগত স্থিতিশীলতা এখনো মূল পরিকল্পনার বাইরে থেকে যাচ্ছে। দেশের অভ্যন্তরে বেশির ভাগ শিল্প খাতের চিত্রই এমন। গতকাল রাজধানীতে আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থা (আইএলও) ও সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) যৌথ আয়োজনে অনুষ্ঠিত প্রথম শিল্প নিরাপত্তা ফোরামের (আইএসএফ) বৈঠকে এমন তথ্য উঠে আসে।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন শিল্পমন্ত্রী নূরুল মজিদ মাহমুদ হুমায়ূন। বিশেষ অতিথি ছিলেন শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. এহসান-ই-এলাহী। সম্মানিত অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ এমপ্লয়ার্স ফেডারেশনের প্রেসিডেন্ট আরদাশির কবির ও ন্যাশনাল কো-অর্ডিনেশন কমিটি ফর ওয়ার্কার্স এডুকেশনের (এনসিসিডব্লিউই) চেয়ারপারসন শামিম আরা। আরো উপস্থিত ছিলেন আইএলও বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর টুমো পোটিয়ানেন ও সিপিডির গবেষণা পরিচালক ড. খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম। বৈঠকে জাতীয় নিরাপত্তা নিয়ন্ত্রক, নীতিনির্ধারক, শিক্ষাবিদ, নিয়োগকর্তা, শ্রমিক প্রতিনিধি, সুশীল সমাজের সদস্য এবং উন্নয়ন অংশীদারদের সঙ্গে নিয়ে একটি জাতীয় শিল্প নিরাপত্তা কাঠামোর উন্নয়ন নিয়ে আলোচনা করা হয়।
অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, আইএসএফের লক্ষ্য হলে শিল্প নিরাপত্তার সঙ্গে জড়িত ও সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে এ বিষয়ে উৎসাহিত করা। একই সঙ্গে এসব পক্ষের সঙ্গে সহযোগিতামূলকভাবে স্থিতিশীল ও স্বচ্ছ শিল্প নিরাপত্তা কাঠামো তৈরি করা। এসব পদক্ষেপ দেশজুড়ে কর্মক্ষেত্রের নিরাপত্তা নিশ্চিতে একটি ভিত্তিমূল হিসেবে ভূমিকা পালন করবে।
শিল্পমন্ত্রী বলেন, আইএসএফের এ বৈঠকের মাধ্যমে শিল্প-কারখানাগুলোতে নিরাপদ কর্মপরিবেশ নিশ্চিতে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোকে প্রয়োজনীয় জ্ঞান বিনিময় করার সুযোগ তৈরি হয়েছে।
এহসান-ই-এলাহী বলেন, শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় উপযুক্ত কর্মক্ষেত্র ও শিল্প নিরাপত্তা বজায় রাখার জন্য শ্রম আইন পর্যালোচনা ও সংশোধনের লক্ষ্যে দুটি ত্রিপক্ষীয় কমিটি গঠন করেছে। তিনি আরো বলেন, দেশের অন্তর্ভুক্তিমূলক প্রবৃদ্ধির জন্য সরকার ও সরকারি সংস্থাগুলোকে নিয়োগকর্তা ও সুশীল সমাজের সঙ্গে একত্রে কাজ করতে হবে।
টুমো পোটিয়ানেন বলেন, আইএসএফ কর্মক্ষেত্রে নিরাপত্তা ও দেশের অর্থনৈতিক খাতে স্বাস্থ্য সুরক্ষা নিশ্চিতে আলোচনা, অন্তর্ভুক্তি ও সহযোগিতার জন্য ক্ষেত্র উন্মুক্ত করে। আমরা আশা করি, এখানে যেসব পর্যালোচনা ও প্রতিশ্রুতি উল্লেখ করা হবে, তার মাধ্যমে জাতীয় শিল্প নিরাপত্তা কাঠামো উন্নয়নে আরো অগ্রগতি দেখা যাবে।
আরদাশির কবির বলেন, ক্রমবর্ধমান শিল্প নিরাপত্তা কাঠামোর সাধারণ কারণগুলো নিয়ে একসঙ্গে কাজ করার জন্য আইএসএফ অনেক ভালো একটি সহযোগিতা করবে।
শামীম আরা বলেন, কর্মক্ষেত্রে নিরাপত্তা নিশ্চিতের বিষয়টি শুধু শ্রমিকদের সুরক্ষিতই করে না, বরং কর্মী ও নিয়োগকর্তার মধ্যকার সম্পর্কও সংহত করে। এতে করে উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে দেশের অগ্রগতিও সাধিত হয়।
অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্যে ড. খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম দেশের শিল্প-কারখানাগুলোয় নিরাপত্তা নিশ্চিককরণে যথাযথ পদক্ষেপের ওপর জোরারোপ করেন। এ সময় তিনি অন্য বক্তাদের পরামর্শের প্রতি একমত পোষণ করেন।