ক্লাউড কম্পিউটিংয়ের চাহিদা বৃদ্ধিতে চলতি বছরের প্রথম ত্রৈমাসিকে আয়ের ধারাবাহিকতা ধরে রেখেছে মাইক্রোসফট। সম্প্রতি প্রকাশিত উপাত্তে দেখা গেছে জানুয়ারি-মার্চ প্রান্তিকে মাইক্রোসফটের আয় হয়েছে ৪ হাজার ৯৪০ কোটি ডলার। বিল গেটস ও পল অ্যালেন প্রতিষ্ঠিত কোম্পানিটির নিট আয় ১ হাজার ৬৭০ কোটি ডলার। খবর দ্য ভার্জ ও সিএনবিসি।
সম্প্রতি এক বিবৃতিতে মাইক্রোসফট জানায়, ৩১ মার্চ শেষ হওয়া প্রান্তিকে (মাইক্রোসফটের তৃতীয় প্রান্তিক) তাদের আয় বছরওয়ারি ১৮ শতাংশ বেড়ে ৪ হাজার ৯৪০ কোটি ডলারে দাঁড়িয়েছে। এর আগের প্রান্তিকে মার্কিন প্রযুক্তি জায়ান্টটির আয় বেড়েছিল যেখানে ২০ শতাংশ। গত প্রান্তিকে মাইক্রোসফটের মোট আয়ের ২৯ শতাংশ এসেছে ক্লাউড ও সার্ভার পরিষেবা থেকে। এ সেগমেন্টে মাইক্রোসফটের আয় ৩২ শতাংশ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২ হাজার ৩৪০ কোটি ডলার। গত প্রান্তিকে অ্যাজার ও অন্যান্য ক্লাউড পরিষেবা ৪৬ শতাংশ সম্প্রসারণ হয়েছে। স্ট্রিটঅ্যাকাউন্টের জরিপে যেখানে ৪৩ দশমিক ৬ শতাংশ সম্প্রসারণের পূর্বাভাস দেয়া হয়েছিল। বিশ্লেষকদের সঙ্গে এক সম্মেলনে মাইক্রোসফট সিইও সত্য নাদেলা জানান, গত প্রান্তিকে অন্তত ১০ কোটি ডলার মূল্যমানের ক্লাউড চুক্তি দ্বিগুণেরও বেশি বেড়েছে।
কোম্পানিটির বিক্রয় ও বিপণন ব্যয় আগের বছরের তুলনায় ১০ শতাংশ বেড়ে ৫৬০ কোটি ডলারে দাঁড়িয়েছে। মাইক্রোসফট যে সম্প্রসারণ পরিকল্পনা নিয়ে এগোচ্ছে, তিন বছরের সর্বোচ্চ বিক্রয় ও বিপণন ব্যয়ে তা স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।
সরবরাহ সংকট ও চাহিদায় শ্লথগতিতে ব্যক্তিগত কম্পিউটার (পিসি) বিক্রি যখন কমছে এবং ক্রোমবুক বিক্রি পড়তির দিকে, তখন মাইক্রোসফটের আয়ের উপাত্ত বেশ আশাব্যঞ্জক। এমনকি তা রেফিনিটিভ ডাটার বিশ্লেষকদের ৪ হাজার ৯০৫ কোটি ডলার আয়ের পূর্বাভাস ছাড়িয়ে গেছে। তবে মাইক্রোসফটের এক্সবক্স বিক্রি ১১ বছরের সর্বোচ্চে দাঁড়িয়েছে। মাইক্রোসফটের সিইও সত্য নাদেলা আয়-ব্যয়ের উপাত্ত প্রকাশের সময় জানান, বর্তমানে মাইক্রোসফট ক্লাউডে গেম স্ট্রিমিং করছেন এক কোটিরও বেশি গ্রাহক।
পিসি বিক্রেতাদের কাছে উইন্ডোজের লাইসেন্স বিক্রি করে মাইক্রোসফটের আয় ১১ শতাংশ বেড়েছে। যদিও এ সময়ে পিসি বিক্রি কমেছে। গার্টনারের উপাত্তে বলা হয়, চলতি বছরের প্রথম তিন মাসে বৈশ্বিক পিসি বিক্রি ৬ দশমিক ৮ শতাংশ কমেছে।
লকডাউন-পরবর্তী সময়ে মানুষজন অফিসে ও কর্মস্থলে ফেরায় মাইক্রোসফট অফিসের চাহিদা বেড়েছে। অফিস ৩৬৫ ব্যবহারকারী গ্রাহকের সংখ্যা বর্তমানে ৫ কোটি ৮৪ লাখে দাঁড়িয়েছে। গত প্রান্তিকের উপাত্তের সঙ্গে নতুন যুক্ত হয়েছে ২০ লাখ। গত বছরের একই প্রান্তিকের চেয়ে ৮০ লাখ বেড়েছে। ইন্টেলিজেন্ট ক্লাউডের আয় ২৬ শতাংশ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৯১০ কোটি ডলার।
মাইক্রোসফট মালিকানাধীন পেশাজীবীদের সাইট লিংকডইনেরও গ্রাহকভিত্তি বেড়েছে। জানুয়ারি-মার্চ প্রান্তিকে লিংকডইনের প্রবৃদ্ধি হয়েছে ৩৪ শতাংশ। এর আগের তিন প্রান্তিকে মাইক্রোসফটের প্রবৃদ্ধি হয়েছে যথাক্রমে ৩৭, ৪২ ও ৪৬ শতাংশ। ২০১৬ সালে ২ হাজার ৬০০ কোটি ডলারে লিংকডইন ক্রয় করেছিল মাইক্রোসফট।
পরবর্তী প্রান্তিকে আরো বেশি আয়ের আশা করছে মাইক্রোসফট। তবে ইউক্রেনে চলমান যুদ্ধে পরিচালন ব্যয় বৃদ্ধি এবং চীনা লকডাউনের প্রভাব পড়তে পারে প্রযুক্তি জায়ান্টটির আয়ে। উইন্ডোজ, সারফেস ও এক্সবক্সের হার্ডওয়্যার সরবরাহ করে চীনা কারখানাগুলো। এছাড়া গেমিং সেগমেন্ট থেকে আয় কমার শঙ্কা করছেন মাইক্রোসফটের মুখ্য আর্থিক কর্মকর্তা (সিএফও) অ্যামি হুড। করোনা লকডাউন শেষে অফিস-আদালত চালু ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলায় গেমিংয়ে কম সময় কাটানো ও কনসোলের সরবরাহ হ্রাস এতে ভূমিকা রাখবে।