সর্বজনীন পেনশন

বাংলাদেশ কি কল্যাণরাষ্ট্রের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে!

সম্প্রতি অর্থমন্ত্রী জানিয়েছেন, বর্তমান সরকার সব শ্রেণীর বয়স্ক নাগরিকদের আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিতে সর্বজনীন পেনশন ব্যবস্থা আগামী ২০২২-২৩ অর্থবছর থেকে শুরু করতে যাচ্ছে। বলার অপেক্ষা রাখে না, দেশের ষাটোর্ধ্ব সব নাগরিককে পেনশন সুবিধার আওতায় আনার সিদ্ধান্ত একটি মহৎ ও যুগান্তকারী পদক্ষেপ। বস্তুত, কল্যাণরাষ্ট্রের ধারণা থেকেই এ চিন্তার উদ্ভব। সমাজের সব শ্রেণীর মানুষ এ সিদ্ধান্তকে অভিনন্দন জানিয়েছে।

সম্প্রতি অর্থমন্ত্রী জানিয়েছেন, বর্তমান সরকার সব শ্রেণীর বয়স্ক নাগরিকদের আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিতে সর্বজনীন পেনশন ব্যবস্থা আগামী ২০২২-২৩ অর্থবছর থেকে শুরু করতে যাচ্ছে। বলার অপেক্ষা রাখে না, দেশের ষাটোর্ধ্ব সব নাগরিককে পেনশন সুবিধার আওতায় আনার সিদ্ধান্ত একটি মহৎ যুগান্তকারী পদক্ষেপ। বস্তুত, কল্যাণরাষ্ট্রের ধারণা থেকেই চিন্তার উদ্ভব। সমাজের সব শ্রেণীর মানুষ সিদ্ধান্তকে অভিনন্দন জানিয়েছে।

শেখ হাসিনার নেতৃত্বে অনেক বড় বড় কাজ করে যাচ্ছে বর্তমান সরকারশিক্ষা ক্ষেত্রে, কৃষি ক্ষেত্রে, বিদ্যুতায়নে, নগর রেল উন্নয়নে, সেতু সড়কায়নে, দারিদ্র্য বিমোচনে, নারীর ক্ষমতায়নে, স্বাস্থ্যসেবা, বয়স্ক ভাতা, বালিকা উপবৃত্তি ইত্যাদিএমন কোনো ক্ষেত্র নেই, যেখানে রাখেনি উন্নয়নের ছাপ! বর্তমানে যেসব মেগা প্রকল্প হাতে নেয়া হয়েছে, সেগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য পদ্মা সেতু পদ্মা সেতু রেল সংযোগ, চট্টগ্রাম-কক্সবাজার রেল সংযোগ, পায়রা গভীর সমুদ্রবন্দর, ঢাকা মাস র্যাপিড ট্রান্সপোর্ট লাইন, মেট্রোরেল, রূপপুর নিউক্লিয়ার পাওয়ার প্লান্ট ইত্যাদি। এসবই বিশাল বিশাল কাজ, যার ফলে মোট দেশজ উৎপাদন শতাংশ বৃদ্ধি পাবে বলে প্রাক্কলন করা হয়েছে এবং ধারণা করা হচ্ছে নির্ধারিত সময়ের আগেই বাংলাদেশ উন্নত দেশে পরিণত হবে। তদুপরি সবচেয়ে বড় যে কাজটি বর্তমান প্রধানমন্ত্রী করে গেলেন, তা হলো সর্বজনীন পেনশন ব্যবস্থা। 

স্বাধীনতা লাভের পর বঙ্গবন্ধু প্রায়ই কল্যাণরাষ্ট্রের কথা বলতেন। কল্যাণরাষ্ট্রের চিন্তা তাকে সবসময় আচ্ছন্ন করে রাখত। একবার বঙ্গবন্ধু বঙ্গোপসাগরের ওপর দিয়ে উড়াল দিয়ে যাচ্ছিলেন আলজিয়ার্সে জোটনিরপেক্ষ শীর্ষ সম্মেলনে। সময়টা ছিল ১৯৭৩ সালের সেপ্টেম্বর। সফরসঙ্গী ছিলেন প্রখ্যাত সাংবাদিক কলামিস্ট আব্দুল গাফ্ফার চৌধুরীসহ আরো অনেকে। দীর্ঘ বিমানযাত্রায় বঙ্গবন্ধু তার কেবিনে তাদের ডেকে নিয়েছিলেন। আলাপচারিতায় প্রসঙ্গক্রমে বঙ্গবন্ধু বলেছিলেন, আমি সমাজতন্ত্রে পৌঁছার আগে একটি ওয়েলফেয়ার স্টেট প্রতিষ্ঠা করতে চাই।  ৭৫-এর ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করা হলো। বঙ্গবন্ধুর মৃত্যুর পর তার যে কল্যাণরাষ্ট্র চিন্তা সেটাকে সামনে রেখে পরবর্তীকালে শেখ হাসিনা সরকার ব্যতীত অন্য কোনো সরকারকে দৃশ্যমান কোনো পদক্ষেপ নিতে দেখা যায়নি।

মূলত নব্বইয়ের দশকের শেষের দিকে শেখ হাসিনার নেতৃত্বে রাষ্ট্র নাগরিকের কল্যাণে অধিকতর দায়িত্ব নিতে শুরু করে। তখনই বয়স্ক ভাতা বিধবা ভাতার মতো কর্মসূচিগুলো চালু হয়। পাশাপাশি শিক্ষা ক্ষেত্রে নারীর অংশগ্রহণ বৃদ্ধির লক্ষ্যে মেয়েদের জন্য বৃত্তি এবং প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে বিনামূল্যে বই বিতরণ শুরু হয়। পরবর্তীকালের বাজেটগুলোয় এসব কর্মসূচির আওতা সুবিধার মাত্রা ধীরে ধীরে বাড়তে থাকে এবং সমাজের বিভিন্ন ঝুঁকিপূর্ণ গোষ্ঠীকে লক্ষ্য করে নতুন নতুন কর্মসূচি যোগ হতে থাকে। বর্তমানে বাংলাদেশে সামাজিক নিরাপত্তাবেষ্টনীর আওতায় অর্ধশতাধিক কর্মসূচি চালু আছে। বিগত বাজেটগুলোয় যেসব কল্যাণমুখী কর্মসূচি প্রতিফলিত হয়েছে, তার মধ্যে দরিদ্র নিম্ন আয়ের মানুষের জন্য সামাজিক নিরাপত্তাবেষ্টনী কর্মসূচি ছিল অন্যতম। বিশেষত ২০২১-২২ অর্থবছরের বাজেটে প্রায় কোটি ২০ লাখ মানুষকে সামাজিক নিরাপত্তাবেষ্টনীর আওতায় আনা হয়েছে। আরো লক্ষণীয় বিষয় হলো, ওই বাজেটে প্রথমবারের মতো দেশের ১৫০টি উপজেলার সব বয়স্ক মানুষ এবং বিধবা নারী স্বামী পরিত্যক্তাকে ভাতা দেয়া হচ্ছে। এতে শ্রেণীর সুবিধাভোগীর সংখ্যা বেড়ে ২৪ লাখ ৭৫ হাজারে দাঁড়িয়েছে। বাজেটে নতুন করে যুক্ত করা হয়েছে ১৮ লাখ অসচ্ছল প্রতিবন্ধী, প্রায় আট লাখ দরিদ্র মায়ের জন্য মাতৃত্বকালীন ভাতাভোগী, প্রায় লাখ ল্যাকটেটিং ভাতাভোগী মা। বাজেটে হিজড়া, বেদে অনগ্রসর জনগোষ্ঠীর মানোন্নয়নে সুবিধাভোগীর সংখ্যা ৯৫ হাজারে উন্নীত করা হয়েছে। সুতরাং দেখা যাচ্ছে, ২০২১-২২ অর্থবছরে এসে বাজেটে দরিদ্র অনগ্রসর জনগোষ্ঠীর এমন কোনো শ্রেণী নেই, যাদের নিরাপত্তাবেষ্টনীর আওতায় আনা হয়নি এবং মোট বরাদ্দ দেয়া হয়েছিল বাজেটের মোট বরাদ্দের ১৭ দশমিক শতাংশ। দরিদ্র অনগ্রসর জনগোষ্ঠীর জন্য এত বড় বরাদ্দ একটি কল্যাণরাষ্ট্রের যাত্রাকেই ইঙ্গিত করে।

কল্যাণরাষ্ট্রের যাত্রাপথের সবচেয়ে বড় সুখবর হলো, আগামী ২০২২-২৩ বাজেটে যুক্ত হতে যাচ্ছে সর্বজনীন পেনশন ব্যবস্থা।  পেনশন ব্যবস্থার আওতায় গঠিত তহবিলে যারা যে পরিমাণ চাঁদা জমা দেবেন, ওই তহবিলে একই পরিমাণ চাঁদা সরকারও দেবে। পেনশন তহবিলে বিভিন্ন জায়গায় বিনিয়োগ করবে সরকার। বিনিয়োগ থেকে যে মুনাফা আসবে, তাও পেনশনধারীদের মধ্যে বিতরণ করা হবে। অর্থমন্ত্রী আনুমানিক হিসাব করে দেখিয়েছেন, যদি মাসিক চাঁদা হাজার টাকা, মুনাফা ১০ শতাংশ আনুতোষিক শতাংশ ধরা হয়, ১৮ বছর বয়সে যদি কেউ চাঁদা দেয়া শুরু করে এবং ৬০ বছর বয়স পর্যন্ত তা চালু থাকে, তাহলে ওই ব্যক্তি ৬০ বছরে অবসরের পর আমৃত্যু প্রতি মাসে ৬৪ হাজার ৭৭৬ টাকা করে পেনশন পাবেন। চাঁদা দেয়া শুরু যদি ১৮ বছর বয়সের পর হয় এবং চাঁদার পরিমাণ যদি হাজার টাকার কম বা বেশি হয়, মাসিক পেনশনও আনুপতিক হারে হিসাব মতো পাবে। পেনশনভোগীদের স্মার্টকার্ড দেয়া হবে, কোন দালালের শরণাপন্ন হতে হবে না। থেকে ১০ শতাংশ হারে বার্ষিক ইনক্রিমেন্টের ব্যবস্থা রাখা হতে পারে। বয়স্ক নাগরিকদের আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিতে এর চেয়ে ভালো ব্যবস্থা আর কী হতে পারে! সুসংবাদ প্রবীণদের মুখে ফুটিয়ে তুলেছে মহাতৃপ্তির হাসি। কেননা দেশে মানুষের গড় আয়ু বেড়ে যাওয়ায় প্রবীণদের সংখ্যা বাড়ছে এবং তাদের ভালোভাবে বেঁচে থাকার জন্য যে পরিমাণ অর্থের দরকার, তা বেশির ভাগ প্রবীণেরই থাকে না। ফলে শেষ বয়সে তীব্র অর্থকষ্টের মধ্যে দিনাতিপাত করেন তারা। তখন রোগাক্রান্ত ভগ্ন শরীর নিয়ে ধুঁকে ধুঁকে জীবনের শেষ দিনগুলো কাটাতে হয় মারাত্মক অর্থ সংকটে।

সর্বজনীন পেনশন ব্যবস্থার কথা শুনে অনেকের মনে প্রশ্ন জেগেছে, সরকারকে যেখানে বিশাল বিশাল উন্নয়ন প্রকল্পে অর্থ জোগান দিতে হচ্ছে, সেখানে এই সর্বজনীন পেনশন ব্যবস্থা টেকসই হবে তো? এত অর্থ কোথা থেকে আসবে! যারা শেখ হাসিনার নেতৃত্বের প্রতি আস্থাশীল তারা ভাবতে শুরু করেছেন, শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশ কি তাহলে ধীরে ধীরে কল্যাণরাষ্ট্রের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে?

কল্যাণরাষ্ট্রের ধ্যান-ধারণার গোড়াপত্তন হয় জার্মানিতে। জার্মান সাম্রাজ্যের প্রথম চ্যান্সেলর অটো ভন বিসমার্ক ১৮৪০-এর দশকে বৃদ্ধাশ্রম পেনশন, দুর্ঘটনা বীমা চিকিৎসা সেবা চালু করেছিলেন, যা আধুনিক ইউরোপীয় কল্যাণরাষ্ট্রের ভিত্তি তৈরি করেছিল। বিসমার্ক কর্তৃক উদ্বুদ্ধ হয়ে যুক্তরাজ্যের লিবারেল প্রধানমন্ত্রী হারবাট আসকিথ ১৯০৬-১৪ সালে লিবারেল ওয়েলফেয়ার রিফর্ম কর্মসূচির মাধ্যমে কল্যাণমূলক রাষ্ট্র হিসেবে যুক্তরাজ্যকে গড়ে তোলার প্রচেষ্টা শুরু করেন, যার মধ্যে রয়েছে ১৯০৮ সালে ওল্ড-এজ পেনশন আইন পাস, ১৯০৯ সালে বিনামূল্যে স্কুলে দুপুরের খাবারের ব্যবস্থা, ১৯০৯-এর শ্রম বিনিময় আইন শ্রম উন্নয়ন আইন, জাতীয় বেকারত্ব এবং স্বাস্থ্য সুবিধার জন্য জাতীয় বীমা আইন ১৯১১ জারি। এখন যুক্তরাজ্যে বেকারদের দুর্ভোগ নেই, অন্যদিকে সিনিয়র সিটিজেনরা অনেকটা রাজার হালেই কাটান। সিনিয়র সিটিজেনরা যথেষ্ট ভাতা পান, চিকিৎসা ফ্রি, বাসস্থান ফ্রি, চাকরবাকর, ভ্রমণ ফ্রি। আবার ইচ্ছা করলে তারা ওল্ড হোমে থাকতে পারেন। অন্যদিকে দেখা যায়, আমেরিকা যুক্তরাষ্ট্রে ১৯৬০-এর দশকের গ্রেট সোসাইটি আইন হওয়ার ফলে বয়স্ক বা প্রতিবন্ধী ব্যক্তিরা ফেডারেল সরকারের কাছ থেকে প্রয়োজনীয় সহায়তা পেতে শুরু করে এবং পরবর্তীকালে সাধারণ কল্যাণ প্রদান, মেডিকেডের মাধ্যমে স্বাস্থ্যসেবা, খাবারের টিকিট, গর্ভবতী নারীদের এবং অল্প বয়স্ক মায়েদের জন্য বিশেষ অর্থ প্রদান এবং আবাসন সুবিধা ফেডারেল সরকারের সহায়তাগুলোর মধ্যে অন্তর্ভুক্ত করা হয়। আধুনিক বিশ্বের প্রাথমিক কল্যাণরাষ্ট্রগুলোর উদাহরণ হিসেবে ধরা হয় জার্মানি, নেদারল্যান্ডস, উরুগুয়ে নিউজিল্যান্ড। ১৯৩০-এর দশকে যুক্তরাজ্য নর্ডিকের সব দেশ। নর্ডিক কল্যাণরাষ্ট্রগুলোয় যে ব্যবস্থা চালু রয়েছে  তা নর্ডিক মডেল হিসেবে পরিচিত। 

একটি দাতা সংস্থা সর্বকালীন পেনশন স্কিমে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিয়েছে। মনে রাখা দরকার দাতা সংস্থা শর্ত সাপেক্ষে ঋণ দেয় এবং দীর্ঘমেয়াদে ঋণের বোঝা ধীরে ধীরে বাড়তে থাকে। সবচেয়ে বড় কথা দীর্ঘমেয়াদি ঋণ দীর্ঘদিন স্থায়ী হয় না। মাঝপথে এসে থেমে যায়। সর্বকালীন পেনশন স্কিমের মতো এত চমত্কার একটি ব্যবস্থা মাঝপথে এসে মুখ থুবড়ে পড়বে তা কাম্য নয়। সুতরাং সর্বজনীন পেনশন স্কিমটি দাতানির্ভর না হয়ে সরকারের পূর্ণ রাজস্ব আয়নির্ভর হওয়া বাঞ্ছনীয়। ইউরোপে যেখানে সর্বোচ্চ সামাজিক সুরক্ষায় ব্যয় হয় জিডিপির প্রায় ২৫ শতাংশ, সেখানে বাংলাদেশে ব্যয় হয় মাত্র শতাংশ। কাজেই লক্ষ্যার্জনের অর্থ কোথায়? সম্প্রতি পরিকল্পনামন্ত্রী এমএ মান্নান ২০২৫ সালের মধ্যে এবং অর্থমন্ত্রী মুস্তফা কামাল ২০৩০ সালের মধ্যে সারা দেশে সর্বকালীন পেনশন স্কিম চালুর অভিপ্রায় ব্যক্ত করেছেন। যেহেতু পেনশন স্কিম চালুর জন্য রাজস্ব আয় বৃদ্ধি করার প্রয়োজন রয়েছে, বাংলাদেশকে ধীরে চলো নীতিতে অগ্রসর হতে হবে। লক্ষ্যার্জনে প্রথমত, ক্রমান্বয়ে রাজস্ব খাতকে শক্তিশালী করতে হবে এবং দ্বিতীয়ত, সব শ্রেণীর মানুষের জন্য স্কিমটি একসঙ্গে চালু না করে পিছিয়ে পড়া গোষ্ঠীগুলোকে অগ্রাধিকার দিয়ে ধীরে ধীরে দীর্ঘমেয়াদে সব শ্রেণীর মানুষকে স্কিমের আওতায় নিয়ে আসতে হবে। এতে সময় লাগবে কিন্তু টেকসই হবে। পৃথিবীর কোনো দেশই উন্নত দেশে রূপান্তরিত হওয়ার আগে কল্যাণরাষ্ট্রের পূর্ণরূপ দিতে পারেনি বা সর্বজনীন পেনশন ব্যবস্থা চালু করতে পারেনি। আমাদের ২০ বছর মেয়াদি প্রেক্ষিত পরিকল্পনা (২০২১-২০৪১) অনুযায়ী ২০৩০ সালে আমরা দারিদ্র্যমুক্ত হব এবং ২০৪১ সালে উন্নত রাষ্ট্রে পরিণত হব। সেটা সামনে রেখে সর্বজনীন পেনশন ব্যবস্থাটি বাস্তবায়নে এমনভাবে পরিকল্পনা করতে হবে, যাতে অনগ্রসর দরিদ্র জনগোষ্ঠীকে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে ২০৩০ সালের মধ্যেই সর্বকালীন পেনশন স্কিমের অনর্ভুক্ত করা যায় এবং ২০৪১ সালে যেদিন আমরা উন্নত দেশে পরিণত হব সেদিন যেন একটি গোষ্ঠী বা একটি লোকও স্কিমের বাইরে না থাকে, পায় আজীবন আর্থিক নিরাপত্তা। সর্বকালীন পেনশন ব্যবস্থা টেকসই হোক এবং বাংলাদেশ ধীরে ধীরে কল্যাণরাষ্ট্রে পরিণত হোক, এটাই প্রত্যাশা।

 

. এএফএম মফিজুল ইসলাম: উপাচার্য, সাউথইস্ট বিশ্ববিদ্যালয়

আরও