ওয়ানডেতে ২৯তম সিরিজ জয়

চট্টগ্রাম জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামে শুক্রবার দ্বিতীয় ওয়ানডেতে আফগানিস্তানকে ৮৮ রানে হারিয়ে এক ম্যাচ হাতে রেখেই সিরিজ জিতে নিয়েছে বাংলাদেশ। ঘরের মাঠে এ নিয়ে দ্বিতীয়বার টানা ছয়টি দ্বিপক্ষীয় ওয়ানডে সিরিজ জয়ের কৃতিত্ব দেখাল টাইগাররা। আফগানদের বিপক্ষে দুটি ওয়ানডে সিরিজে মুখোমুখি হয়ে দুটিতেই জিতল বাংলাদেশ।

চট্টগ্রাম জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামে শুক্রবার দ্বিতীয় ওয়ানডেতে আফগানিস্তানকে ৮৮ রানে হারিয়ে এক ম্যাচ হাতে রেখেই সিরিজ জিতে নিয়েছে বাংলাদেশ। ঘরের মাঠে নিয়ে দ্বিতীয়বার টানা ছয়টি দ্বিপক্ষীয় ওয়ানডে সিরিজ জয়ের কৃতিত্ব দেখাল টাইগাররা। আফগানদের বিপক্ষে দুটি ওয়ানডে সিরিজে মুখোমুখি হয়ে দুটিতেই জিতল বাংলাদেশ। সব মিলিয়ে ওয়ানডেতে ৭৯ সিরিজে এটা বাংলাদেশের ২৯তম জয়।

ক্রিকেটের উদীয়মান শক্তি আফগানিস্তান ২০১৬ সালে প্রথমবারের মতো বাংলাদেশের মাটিতে দ্বিপক্ষীয় ওয়ানডে সিরিজ খেলতে আসে। সেবার দারুণ প্রতিদ্বন্দ্বিতা শেষে সিরিজটা -- জিতে নেয় বাংলাদেশ।

১৯৮৬ সালের এশিয়া কাপ দিয়ে ওয়ানডে যাত্রা হলেও বাংলাদেশ প্রথম দ্বিপক্ষীয় সিরিজ খেলে ১৯৯৯ সালে। এক ম্যাচের সিরিজ খেলতে বাংলাদেশে আসে পাকিস্তান। বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়ামে ১৫২ রানের বড় ব্যবধানের জয় তুলে নেয় ওয়াসিম আকরামের দল। এক ম্যাচের হলেও রেকর্ড বুকে লেখা হয়ে যায়, সিরিজে - ব্যবধানে জয়ী পাকিস্তান। এরপর আরো ১৪টি ওয়ানডে সিরিজে টানা হারের পর অবশেষে ২০০৫ সালে আসে আরাধ্য জয়। সেবার ঘরের মাঠে - ব্যবধানে জিম্বাবুয়েকে হারিয়ে দেয় বাংলাদেশ। 

ওয়ানডেতে বাংলাদেশ সবচেয়ে বেশি ম্যাচ খেলেছে জিম্বাবুয়ের সঙ্গে, সবচেয়ে বেশি জয়ও তারা পেয়েছে আফ্রিকান দলটির বিপক্ষেই। ক্রিকেটে সবচেয়ে চেনা দলের বিপক্ষে এখন পর্যন্ত ৭৮ ওয়ানডে ম্যাচ খেলে ৫০টিতে জয় পেয়েছে টাইগাররা, আর হেরেছে ২৮টি। জয়ের শতকরা হার ৬৪ দশমিক ১।

বাংলাদেশ সর্বোচ্চ ১৮টি সিরিজ খেলেছে জিম্বাবুয়েরই সঙ্গে। এই ১৮ সিরিজের মধ্যে ১২টিই জিতেছে বাংলাদেশ, আর জিম্বাবুয়ে সিরিজের ট্রফি জিতেছে বার। মুখোমুখি লড়াইয়ের ইতিহাসে প্রথম দুটি সিরিজেই বাংলাদেশকে - ব্যবধানে পরাজিত করে জিম্বাবুয়ে। তৃতীয় সিরিজে খানিকটা লড়াই করে -- হারে বাংলাদেশ। ২০০৫ সালে দুই দলের চতুর্থ সিরিজে সাফল্য পায় বাংলাদেশ। সেবার ঘরের মাঠে সিরিজটা -- জিতে যায় টাইগাররা। দুই দল এখন পর্যন্ত ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজ খেলেছে আটটি, যার মধ্যে ছয়টি বাংলাদেশ আর দুটি জিম্বাবুয়ে জিতেছে।

প্রতিবেশী দেশ ভারতের সঙ্গে চারটি দ্বিপক্ষীয় ওয়ানডে সিরিজ খেলে একটিতে জিতেছে বাংলাদেশ। ২০০৫, ২০০৭ ২০১৪ সালে টানা তিনটি সিরিজে হারের পর ২০১৫ সালে ঘরের মাঠে -- জয়লাভ করে টাইগাররা। এছাড়া দক্ষিণ আফ্রিকার সঙ্গে পাঁচটি সিরিজ খেলে একটিতে জিতেছে বাংলাদেশ।

শক্তিশালী পাকিস্তানের কাছে টানা পাঁচটি ওয়ানডে সিরিজে হারের পর অবশেষে ২০১৫ সালে আসে সাফল্য। সেবার ঘরের মাঠে - ব্যবধানে পাকিস্তানকে হোয়াইটওয়াশ করে টাইগাররা। ২০২০ সালে পাকিস্তানের মাঠে একটি ওয়ানডে খেলার কথাও থাকলেও নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কা থাকায় সফর বাতিল করে বাংলাদেশ।

উপমহাদেশের আরেক শক্তিশালী দল সাবেক বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন শ্রীলংকার বিপক্ষে মোট নয়টি দ্বিপক্ষীয় ওয়ানডে সিরিজ খেলেছে বাংলাদেশ, যার মধ্যে বাংলাদেশ একটি লংকানরা ৬টিতে জিতেছে। দুটি সিরিজ ছিল অমীমাংসিত।

বড় দলগুলোর মধ্যে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ভালো সাফল্য পেয়েছে বাংলাদেশ। এখন পর্যন্ত দুই দল নয়টি ওয়ানডে সিরিজে মুখোমুখি হয়, যার মধ্যে কিউইরা সাতটি বাংলাদেশ দুটিতে জিতেছে। ২০১১ সালে পাঁচ ম্যাচের সিরিজ - ব্যবধানে জয়লাভ করে স্বাগতিক বাংলাদেশ। ২০১৪ সালে ঘরের মাঠে আরেকটি বড় সাফল্য পায় বাংলাদেশ। সেবার কিউইদের - ব্যবধানে হোয়াইটওয়াশ করে টাইগাররা। গত বছর ঘরের মাঠে টি২০ সিরিজেও ব্ল্যাকক্যাপসদের পরাজিত করে বাংলাদেশ।

পাঁচবারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে বাংলাদেশের ওয়ানডে রেকর্ড উজ্জ্বল নয়। দুই দল এখন পর্যন্ত চারটি সিরিজে মুখোমুখি হয়েছে, যার সবগুলোই জিতেছে অস্ট্রেলিয়া, এমনকি এই সিরিজে কোনো ম্যাচ হারেনি অজিরা। অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ২১ ম্যাচ খেলে একটি ওয়ানডে জিতেছে বাংলাদেশ, যা ১৯৯৯ বিশ্বকাপে ওয়েলসের কার্ডিফে।

অস্ট্রেলিয়ার চেয়ে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে বাংলাদেশের রেকর্ড খানিকটা ভালো। ২১ ম্যাচের মুখোমুখিতে বাংলাদেশ চারটিতে জিতেছে, হার ১৭টি। দুই দলের চারটি সিরিজে সবগুলোই জিতেছে ইংলিশরা। দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে ২১ ওয়ানডে লড়াইয়ে বাংলাদেশ জিতেছে চারটি। পাঁচ সিরিজে মুখোমুখি হয়ে একটিতে জিতেছে বাংলাদেশ।

দুবারের সাবেক বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে বাংলাদেশ দশটি ওয়ানডে সিরিজে মুখোমুখি হয়ে জিতেছে পাঁচটিতে। দুই দলের সর্বশেষ তিনটি সিরিজই জিতে নিয়েছে বাংলাদেশ।

আরও