সিপিডির সংলাপে বক্তারা

পরিবেশবান্ধব কারখানা নির্মাণে পর্যাপ্ত তহবিল নেই

পরিবেশবান্ধব পোশাক কারখানা নির্মাণের জন্য পর্যাপ্ত তহবিল নেই। অন্যদিকে পোশাকের বাড়তি দামও পাওয়া যায় না। তাই পরিবেশবান্ধব কারখানা নির্মাণে আগ্রহ হারাচ্ছেন উদ্যোক্তারা। অথচ বিশ্ববাজারে ভালো করতে হলে এর বিকল্প নেই। গুরুত্ব দিতে হবে শ্রমিকদের জীবন-মানের বিষয়ও।

পরিবেশবান্ধব পোশাক কারখানা নির্মাণের জন্য পর্যাপ্ত তহবিল নেই। অন্যদিকে পোশাকের বাড়তি দামও পাওয়া যায় না। তাই পরিবেশবান্ধব কারখানা নির্মাণে আগ্রহ হারাচ্ছেন উদ্যোক্তারা। অথচ বিশ্ববাজারে ভালো করতে হলে এর বিকল্প নেই। গুরুত্ব দিতে হবে শ্রমিকদের জীবন-মানের বিষয়ও।

সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি) আয়োজিত ‘বাংলাদেশের টেক্সটাইল ও তৈরি পোশাক খাতে সবুজ সুরক্ষা’ শীর্ষক এক ডায়ালগে এসব কথা বলেন সংস্থাটির নির্বাহী পরিচালক ড. ফাহমিদা খাতুন।

গতকাল রাজধানীর মহাখালীতে হোটেল ব্র্যাক ইনে সিপিডি এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। অনুষ্ঠানে ড. ফাহমিদা খাতুন মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন। প্রধান অতিথি ছিলেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ুবিষয়ক সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি সাবের হোসেন চৌধুরী। অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ পোশাক প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতির (বিজিএমইএ) সভাপতি মো. ফারুক হোসেন, বাংলাদেশ নিটওয়্যার ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিকেএমইএ) নির্বাহী সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম, ঢাকায় সুইডিশ দূতাবাসের হেড অব মিশন ক্রিস্টিন জোহানসন।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে সাবের হোসেন চৌধুরী বলেন, পরিবেশের ওপর ঝুঁকি বিবেচনায় ১০টি কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ প্রকল্প বাতিল করেছে সরকার। বস্ত্র ও পোশাক খাতসহ সব ধরনের শিল্প খাতেরই সবুজায়ন চায় সরকার। বস্ত্র ও পোশাক খাতের উদ্যোক্তারা কী ধরনের নীতি সহায়তা চান, সে বিষয়ে একটি পথ নকশা পরিবেশ মন্ত্রণালয়ে দেয়ার অনুরোধ জানায়। সে হিসেবে আগামী বাজেটে চাহিদা জানানো হবে।

বিকেএমইএ সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম বলেন, গ্রিন কারখানা আমাদের উদ্যোক্তারা নিজ উদ্যোগে করেছেন। কিন্তু সরকার এফ্লুয়েন্ট ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট (ইটিপি) বা বর্জ্য প্রক্রিয়াকরণ স্থাপনার কেমিক্যাল আমদানিতে শুল্ক আরোপ করে। এনবিআরকে বারবার বলেও এর সুরাহা হয়নি। পরিবেশবান্ধব হলে আমাদের সুবিধা দেয়ার কথা, কিন্তু সেখানে সরকার ব্যবসা করবে কেন? আমরা চ্যালেঞ্জ দিয়ে বলতে পারি আমাদের গ্রিন ফ্যাক্টরিগুলো পৃথিবীর রোল মডেল।

বিজিএমইএ সভাপতি মো. ফারুক হোসেন বলেন, বাংলাদেশের টেক্সটাইল ও তৈরি পোশাক খাতের ১৫৭টি কারখানা গ্রিন ফ্যাক্টরির সার্টিফিকেটধারী। এর মধ্যে ৪৭টি প্লাটিনাম ও ৯৪টি গোল্ড সার্টিফিকেট পেয়েছে। আমরাও দক্ষ শ্রমিক তৈরি করতে চাই। কাঁচামালের মূল্যবৃদ্ধির প্রভাব পড়েছে গার্মেন্টস মালিকদের ওপর। ক্রেতাদের কাছ থেকে পণ্যের দাম বাড়িয়ে নিয়েও সেটি পুষিয়ে নেয়া যাচ্ছে না। একই সঙ্গে পরিবহন খরচ বাড়ায় উৎপাদন খরচ বেড়েছে অনেক। শিপিংয়ে এক ধরনের মনোপলি ব্যবসায় চলছে।

তৃণমূল শ্রমিক অধিকার আন্দোলন আওয়াজ ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা নাজমা আক্তার বলেন, কভিডের সময় গ্রিন ফ্যাক্টরিগুলো এপ্রিলের বেতন শতভাগ দেয়নি। যেসব ক্যাটাগরিতে বাংলাদেশে তৈরি হচ্ছে, সেখানে শুধুই কি পরিবেশের (অবকাঠামো) বিষয়টা, নাকি কাজের পরিবেশটাও যুক্ত হবে? কাজের পরিবেশ নিয়ে আমরা নানা সমস্যা দেখতে পাই।

আরও