সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় ৩০ নভেম্বর বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার (ডব্লিউটিও) ১২তম মিনিস্টারিয়াল সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে। সেখানে চলমান বাণিজ্য সুবিধা ধরে রাখার পাশাপাশি অন্যান্য সুবিধা আদায়ে চেষ্টা চালাবে বাংলাদেশ। স্বল্পোন্নত দেশের তালিকা থেকে উন্নয়নশীল দেশের কাতারে প্রবেশের এ সন্ধিক্ষণে বেশকিছু সুবিধা হারানোর শঙ্কাও তৈরি হয়েছে। তাই বহুপক্ষীয় সুবিধা আদায়ের পাশাপাশি দ্বিপক্ষীয় সুবিধা আদায়ে সচেষ্ট হতে হবে। আর প্রস্তুতির ঘাটতিতে সম্মেলন থেকে অর্জন ম্লান হতে পারে।
গতকাল ভার্চুয়ালি অনুষ্ঠিত ‘আপকামিং এমসি১২: বাংলাদেশ এক্সপেক্টেশনস অ্যান্ড পসিবল স্ট্যান্স’ শীর্ষক সেমিনারে এসব কথা বলেন বক্তারা। বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি) এ সেমিনারের আয়োজন করে।
সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করে সিপিডির সম্মাননীয় ফেলো অধ্যাপক ড. মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, দ্বিপক্ষীয় সুবিধা আদায়ে সচেষ্ট হতে হবে। সাফটার অধীনে ভারত চারটি এলডিসিকে শূন্য সুবিধা দিচ্ছে। বিভিন্ন রিজিওনাল এগ্রিমেন্টের মাধ্যমে এলডিসিদের বাজার সুবিধা দেয়া হয়। ইউরোপীয় ইউনিয়ন দিয়েছে আরো ৪২টির মতো। জিএসপি স্কিমের মাধ্যমে আমরা এটা কিন্তু পাচ্ছি। দ্বিপক্ষীয় এসব সুবিধা আদায়ে চেষ্টা চালাতে হবে।
তিনি আরো বলেন, গ্র্যাজুয়েশন হয়ে গেলেও কাঠামোগত দুর্বলতাগুলোর যে চ্যালেঞ্জ সেটাও আমাদের কাটাতে হবে। নতুন নতুন যে চ্যালেঞ্জ আসছে, সেগুলোর জন্যও আমাদের প্রস্তুতি নিতে হবে। গ্র্যাজুয়েশন একটি মাইলস্টোন, এটি কোনো ডেস্টিনেশন নয়। আরেকটি যেটি বিশেষত্ব—আমরা যেটা জানি—এমসি ১১ মিনিস্টারিয়াল ডিক্লারেশন নিতে পারেনি। প্যানডেমিকের মধ্যেও অনেক দেশ ডব্লিউটিওর রুলস ভঙ্গ করেছে। এই প্যানডেমিকের সময় আমরা রাইজ অব প্রটেকশনিজম দেখেছি। অনেক দেশ ডব্লিউটিওর বাইরে গিয়ে রফতানি বন্ধ করেছে প্রয়োজন মতো।
সেমিনারে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব ও ডব্লিউটিও সেলের মহাপরিচালক মো. হাফিজুর রহমান, সিপিডির চেয়ারম্যান অধ্যাপক রেহমান সোবহান বক্তব্য রাখেন।