দেশের শিল্প-কারখানা, দোকান ও প্রতিষ্ঠান পরিচালনায় কর্মপরিবেশ ও শ্রমনিরাপত্তা নিশ্চিতে আইনি বাধ্যবাধকতা রয়েছে, যা পরিদর্শনের মাধ্যমে নজরদারি ও তদারকির দায়িত্ব শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় অধীনস্থ কল-কারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তরের। এ সংস্থার মহাপরিদর্শক জানিয়েছেন, অস্তিত্ব থাকলেও অধিদপ্তরে অনিবন্ধিত কারখানা, দোকান ও প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা ৪ লাখ ৪০ হাজার ৮৩০।
গতকাল সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি) ও জার্মানভিত্তিক বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা ফ্রেডরিক ইবার্ট স্টিফটাং (এফইএস) কর্তৃক যৌথভাবে আয়োজিত ভার্চুয়াল সংলাপে এ তথ্য জানানো হয়। ‘ইন্ডাস্ট্রিয়াল সেফটি অব দ্য আরএমজি সেক্টর ডিউরিং দ্য পোস্ট-অ্যাকর্ড-অ্যালায়েন্স পিরিয়ড’ শীর্ষক ওই সংলাপে যুক্ত ছিলেন সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা সৈয়দ মঞ্জুর এলাহী, সিপিডির চেয়ারম্যান ড. রেহমান সোবহান, নির্বাহী পরিচালক ড. ফাহমিদা খাতুন, গবেষণা পরিচালক ড. খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম, তৈরি পোশাক মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএ সভাপতি ফারুক হাসান, বাংলাদেশ নিটওয়্যার ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিকেএমইএ) ফার্স্ট ভাইস প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ হাতেম, কল-কারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তরের (ডিআইএফই) মহাপরিদর্শক মো. নাসির উদ্দিন আহমেদ, শ্রমিক নেত্রী কল্পনা আক্তার, বাবুল আক্তার প্রমুখ।
সিপিডির গবেষণা পরিচালক ড. খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম বলেন, দেশে এখনো ২২ শতাংশ পোশাক কারখানা পরিদর্শনের বাইরে। ফলে দুর্ঘটনা বাড়ছে। এক্ষেত্রে মাঝারি মানের কারখানায় দুর্ঘটনা বেশি ঘটছে। এসব কারখানা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। তবে পোশাক খাতে শ্রমিকদের নিরাপত্তা যতটুকু গুরুত্ব দেয়া হয়, অন্যান্য খাতে তত গুরুত্ব নেই।
ডিআইএফই মহাপরিদর্শক মো. নাসির উদ্দিন আহমেদ বলেন, ডিআইএফইর সঙ্গে নিবন্ধিত আরএমজি কারখানা আছে ৫ হাজার ৬২৫টি। নন-আরএমজি আছে ৫৬ হাজার ৮৪টি। দোকান আছে ১৫ হাজার ৪৯৯টি। প্রতিষ্ঠান আছে ১২ হাজার ৭৬৬টি। মোট ৮৯ হাজার ৯৭৪ বা প্রায় ৯০ হাজার নিবন্ধিত। আমাদের জানামতে অনিবন্ধিত আরএমজি আছে ৯৫৭টি। নন-আরএমজি আছে ৩৩ হাজার ৮৫২টি। দোকান আছে ৩ লাখ ৭৪ হাজার ৪২৩টি। প্রতিষ্ঠান আছে ৩১ হাজার ৫৯৮টি। মোট ৪ লাখ ৪০ হাজার ৮৩০। অর্থাৎ এ কারখানা-দোকান-প্রতিষ্ঠানগুলো আমার আওতার বাইরে থেকে যাচ্ছে। নিবন্ধিত ৯০ হাজারের জন্য আমাদের শ্রম পরিদর্শক অর্গানোগ্রামে আছে ৯৯৩টি। এরমধ্যে ৫৭৫ পরিদর্শক কিন্তু কর্মরত আছেন ৩১৪। বাকিগুলো পদশূন্য।
সৈয়দ মঞ্জুর এলাহী বলেন, পোশাক খাতে নিরাপত্তার বিষয়ে ক্রেতাদের চাপ থাকে। সেজন্য এখানে নিরাপত্তার বিষয়ে গুরুত্ব দেয়া হয়। আন্তর্জাতিক চাপ না থাকলে কমপ্লায়েন্স ও নিরাপত্তায় উন্নতি করব না, তা তো হতে পারে না। এ ধরনের নিরাপত্তা যারা নিশ্চিত করবেন, তাদেরও দায়িত্ব রয়েছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।
সিপিডির চেয়ারম্যান অধ্যাপক রেহমান সোবহান বলেন, রানা প্লাজার ঘটনা নিরাপত্তা রক্ষার যে শিক্ষা দিয়েছে, পোশাকের বাইরে অন্যান্য খাত সেই শিক্ষা নিয়েছে কি? উত্তর হলো, না। পোশাকের বাইরে রফতানিমুখী অন্যান্য শিল্প এবং স্থানীয় শিল্পের নিরাপত্তায় এখনো নজর দেয়ার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।
ড. ফাহমিদা খাতুন বলেন, অ্যাকর্ড অ্যান্ড অ্যালায়েন্সের উদ্যোগে পোশাক খাতের অনেক উন্নতি হয়েছে। কিন্তু সম্প্রতি বেশকিছু শিল্প দুর্ঘটনা দেখা দেয়ায় প্রশ্ন উঠেছে, অ্যাকর্ড ও অ্যালায়েন্সের মাধ্যমে অর্জিত অগ্রগতি ধরে রাখতে পারছি কিনা।