গত ঈদুল ফিতরের আগের দিন ব্যক্তিগত গাড়ি নিয়ে ঢাকা থেকে ফেনী যাচ্ছিলেন বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা আনিসুর রহমান। যাত্রাবাড়ী পার হয়ে প্রথম দফায় গিয়ে তিনি যানজটে আটকা পড়েন কাঁচপুর সেতুতে। সেতুটি পার হতে সময় লাগে প্রায় ৪০ মিনিট। দ্বিতীয় দফায় এক ঘণ্টার বেশি যানজটে আটকা পড়েন মেঘনা সেতুতে। যানজট থেকে মুক্তি পাননি গোমতী সেতুতেও। তার অভিযোগ, টোল আদায় কার্যক্রমের ধীরগতির কারণেই ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের গুরুত্বপূর্ণ এ তিন সেতুতে দীর্ঘ যানজট তৈরি হচ্ছে।
মহাসড়কটিতে গাড়ির চাপ বাড়লেই সেতুগুলোর টোল প্লাজার সামনে দেখা দিচ্ছে তীব্র যানজট। যদিও টোল আদায় কার্যক্রমে গতি আনতে মহাসড়কটির মেঘনা ও গোমতী সেতুতে অত্যাধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করছে সড়ক ও জনপথ (সওজ) অধিদপ্তর। ইলেকট্রনিক টোল কালেকশন (ইটিসি) ব্যবস্থার মাধ্যমে গাড়ির উইন্ডশিল্পে বসানো যন্ত্র থেকে তথ্য নিয়ে পারাপারের সময় স্বয়ংক্রিয়ভাবে টোলের টাকা কেটে রাখা হয়। রয়েছে স্মার্টকার্ডের মাধ্যমে ‘টাচ অ্যান্ড গো’ পদ্ধতির ব্যবস্থাও। এ পদ্ধতিতে গাড়ির চালক বা মালিকের নামে একটি অ্যাকাউন্ট ও একটি স্মার্টকার্ড দেয়া হয়। ডিজিটাল টোলবুথে গিয়ে চালক সংশ্লিষ্ট ডিভাইসে স্মার্টকার্ডটি ছোঁয়ালেই স্বয়ংক্রিয়ভাবে কেটে রাখা হয় টোলের টাকা। তবে জিডিটাল এসব বুথ ব্যবহারে পরিবহন চালকরা খুব একটা আগ্রহী নন। চালকদের দাবি, ইটিসি কিংবা টাচ অ্যান্ড গো পদ্ধতির জন্য নিবন্ধন ও টাকা রিচার্জ করার বিষয়গুলো জটিল ও ঝামেলাপূর্ণ। জটিলতার কারণে তারা সেগুলো ব্যবহারে আগ্রহী নন।
২০১৭ সালে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের মেঘনা ও গোমতী সেতুতে যখন প্রথম টাচ অ্যান্ড গো পদ্ধতি চালু হয়, তখন বেশ উৎসাহ নিয়েই সেবাটির সঙ্গে সম্পৃক্ত হয়েছিল সোহাগ পরিবহনের একাধিক গাড়ি। তবে কার্ড ইস্যু ও রিচার্জ সমস্যার কারণে সেবাটি পরে ব্যবহার করেনি প্রতিষ্ঠানটি। বিষয়টি সম্পর্কে সোহাগ পরিবহনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ফারুক তালুকদার বণিক বার্তাকে বলেন, কার্ড ইস্যু করতে প্রচুর সময় নষ্ট হচ্ছিল। পাশাপাশি কার্ডে সীমিত পরিমাণ টাকা রিচার্জের সুবিধা রাখায় ঘন ঘন রিচার্জ করতে হতো। নিম্নমানের সেবার কারণে ওই সময় সুবিধার বদলে বরং ভোগান্তি বেড়ে গিয়েছিল।
২০১৯ সালে উইন্ডশিল্ড বেইজড ফার্স্ট ট্র্যাক ইলেকট্রনিক টোল কালেকশন ব্যবস্থা চালু হয় মেঘনা ও গোমতী সেতুতে। তবে একই ধরনের জটিলতার কারণে এ সেবাও জনপ্রিয়তা পায়নি বলে জানিয়েছেন বিভিন্ন পরিবহনের চালকরা। মেঘনা ও গোমতী সেতুর ডিজিটাল টোল সুবিধার চেয়ে অসুবিধাই বেশি তৈরি করছে বলে জানিয়েছেন তারা।
এদিকে এসব টোলবুথের কারণে যানজট ও বিশৃঙ্খলা বাড়ছে বলে মনে করছে সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তর। অ্যাকাউন্টে পর্যাপ্ত টাকা না রেখেই অনেক সময় গাড়ি ডিজিটাল টোলবুথে প্রবেশ করছে। জিডিটাল পদ্ধতিতে টোল দেয়ার ব্যবস্থা না থাকা সত্ত্বেও ডিজিটাল টোলবুথে ঢুকে পড়ছে গাড়ি। ফলে এসব গাড়িকে আবার পাঠিয়ে দেয়া হচ্ছে ম্যানুয়াল টোলবুথে।
সওজ অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলী আবদুস সবুর বণিক বার্তাকে বলেন, দেশের একাধিক সেতুতে বর্তমানে ইটিসি পদ্ধতিতে টোল আদায় করা হচ্ছে। পর্যায়ক্রমে দেশের সব সেতু ও সড়কে একই ধরনের পদ্ধতি চালু করা হবে। ডিজিটাল পদ্ধতিতে টোল আদায় কার্যক্রম জনপ্রিয় করে তুলতে আমরা পরিবহন চালক ও মালিকদের মধ্যে সচেতনতামূলক কর্মকাণ্ডও পরিচালনা করছি।