উদ্যোক্তা-পরিচালকদের ৩০ শতাংশ শেয়ার ধারণে ব্যর্থতা

এফএএস ফাইন্যান্সের পর্ষদ পুনর্গঠন করেছে বিএসইসি

পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত ব্যাংক বহির্ভূত আর্থিক প্রতিষ্ঠান এফএএস ফাইন্যান্স অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট লিমিটেডের পর্ষদ পুনর্গঠন করেছে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)। প্রতিষ্ঠানটির উদ্যোক্তা-পরিচালকদের সম্মিলিতভাবে ৩০ শতাংশ শেয়ার ধারণে ব্যর্থতার পাশাপাশি ডিজিটাল মাধ্যমে সাধারণ সভার আয়োজন করতে না পারায় এ পদক্ষেপ নিয়েছে বিএসইসি। গতকাল প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও সব পরিচালকদের কাছে এ সংক্রান্ত একটি চিঠি পাঠিয়েছে কমিশন।

পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত ব্যাংক বহির্ভূত আর্থিক প্রতিষ্ঠান এফএএস ফাইন্যান্স অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট লিমিটেডের পর্ষদ পুনর্গঠন করেছে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)। প্রতিষ্ঠানটির উদ্যোক্তা-পরিচালকদের সম্মিলিতভাবে ৩০ শতাংশ শেয়ার ধারণে ব্যর্থতার পাশাপাশি ডিজিটাল মাধ্যমে সাধারণ সভার আয়োজন করতে না পারায় এ পদক্ষেপ নিয়েছে বিএসইসি। গতকাল প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও সব পরিচালকদের কাছে এ সংক্রান্ত একটি চিঠি পাঠিয়েছে কমিশন।

পর্ষদ পুনর্গঠনের বিষয়ে বিএসইসির যুগ্ম পরিচালক মো. সাইফুল ইসলাম স্বাক্ষরিত চিঠিতে বলা হয়েছে, এফএএস ফাইন্যান্সের বিষয়ে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) ও চট্রগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের (সিএসই) প্রতিবেদন ও প্রকাশিত দলিলাদি পর্যালোচনায় দেখা যায়, এ বছরের ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত প্রতিষ্ঠানটির উদ্যোক্তা-পরিচালকেরা সম্মিলিতভাবে এর মোট শেয়ারের মাত্র ১৩ দশমিক ২০ শতাংশ ধারণ করছেন। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রতিষ্ঠানটির উদ্যোক্তা-পরিচালকেরা ৩০ শতাংশ শেয়ার ধারণের বাধ্যবাধকতা পরিপালনে ব্যর্থ হয়েছে। এছাড়া প্রতিষ্ঠানটি বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ রক্ষায় নির্দেশনার জারির ৪৫ কার্যদিবসের মধ্যে বার্ষিক সাধারণ সভা (এজিএম) কিংবা বিশেষ সাধারণ সভা (ইজিএম) আয়োজনেও ব্যর্থ হয়েছে। এসব কারণে বিএসইসি কোম্পানিটির পর্ষদ পুনর্গঠনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। 

পুনর্গঠন প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির বিদ্যমান শেয়ারহোল্ডার যাদের ২ শতাংশ কিংবা এর বেশি শেয়ার রয়েছে তাদের মধ্য থেকে কমপক্ষে দুইজন কিংবা তার বেশি শেয়ারহোল্ডারকে পর্ষদ পরিচালক হিসেবে নিয়োগ দিতে হবে। কমিশনের পক্ষ থেকেও ৫ জনকে স্বতন্ত্র পরিচালক হিসেবে নিয়োগ দেয়া হয়েছে। এরমধ্যে এনসিসি ব্যাংক ও মেঘনা ব্যাংকের সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. নুরুল আমিনকে প্রতিষ্ঠানটির চেয়ারম্যান হিসেবে নিয়োগ দেয়া হয়েছে। বাকী চার স্বতন্ত্র পরিচালকেরা হলেন- ঢাকা বিশ্ব বিদ্যালয়ের ফাইন্যান্স বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মোহাম্মদ সাইফুদ্দীন খান, অবসরোত্তর ছুটিতে থাকা সামরিক কমকর্তা বিগ্রেডিয়ার জেনারেল আবু সাইদ মোহাম্মদ আলী, কেডিট রেটিং ইনফরমেশন অ্যান্ড সার্ভিসেস লিমিটেডের (সিআরআইএসএল) উপ-প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা(সিইও) সৈয়দ আব্দুল্লাহ আল মামুন, বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ক্যাপিটাল মার্কেটের (বিআইসিএম) ফ্যাকাল্টি সদস্য সেলিম।

এরবাইরে এফএএস ফাইন্যান্সের বর্তমান শেয়ারহোল্ডার প্রতিষ্ঠান পি অ্যান্ড এল ইন্টারন্যাশনাল লিমিটেড ও রেপটাইলস ফার্ম লিমিটেড থেকে একজন করে পরিচালককে প্রতিষ্ঠানটির পুনর্গঠিত পর্ষদে মনোনীত করা যেতে পারে বলে উল্লেখ করা হয়েছে কমিশনের চিঠিতে। 

উল্লেখ্য দেশের আর্থিক খাতের লুটেরা প্রশান্ত কুমার (পিকে) হালদারের মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠান হচ্ছে পি অ্যান্ড এল ইন্টারন্যাশনাল লিমিটেড ও রেপটাইলস ফার্ম লিমিটেড। দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) কর্তৃক পিকে হালদার সংশ্লিষ্ট ৩৯টি প্রতিষ্ঠানের জব্দ করা ব্যাংক হিসাবের তালিকায় আলোচ্য দুই প্রতিষ্ঠানও রয়েছে।

কমিশনের চিঠিতে আরো বলা হয়েছে, এফএএস ফাইন্যান্স অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্টের বর্তমান স্বতন্ত্র পরিচালকেরা এখন থেকে আর তাদের দায়িত্ব চালিয়ে যেতে পারবেন না। পরবর্তী আদেশ না দেয়া পর্যন্ত প্রতিষ্ঠানটির বর্তমান পরিচালক ও উদ্যোক্তাদের শেয়ার ব্লকড থাকবে। বিএসইসির এসব আদেশ পরিপালন করে সংশ্লিষ্ট কাগজপত্রসহ ১৫ কার্যদিবেসর মধ্যে প্রতিষ্ঠানটিকে প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে।

আরও